Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬
মসজিদ আল-আকসা'র ইতিহাস

মসজিদ আল-আকসা’র ইতিহাস 

মসজিদ আল-আকসা’র ইতিহাস  ….

মসজিদ আল-আকসা ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান (মক্কা ও মদিনার পর)। এটি অবস্থিত জেরুজালেমের পুরনো শহরে, হারাম আল-শরিফ বা নোবেল স্যাংচুয়ারি প্রাঙ্গণে। কুরআনে এই স্থানকে বলা হয়েছে “মসজিদুল আকসা”

“পবিত্র ও মহিমান্বিত তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন…”
(সূরা আল-ইসরা, ১৭:১)

প্রাচীন যুগ

ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, আল-আকসার স্থানটি আদিকাল থেকেই ইবাদতের স্থান ছিল। কিছু বর্ণনায় বলা হয়, আদম (আ.) বা ইবরাহিম (আ.)-এর সময়েও এখানে ইবাদতের চিহ্ন ছিল। ঐতিহাসিকভাবে জেরুজালেম ইহুদি ও খ্রিস্টান ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, এখানে প্রথম ও দ্বিতীয় ইহুদি মন্দির নির্মিত হয়েছিল বলে ধরা হয়।

ইসলামের সূচনা ও কিবলা

ইসলামের শুরুর দিকে মুসলমানরা নামাজে জেরুজালেমের দিকেই (বাইতুল মাকদিস) মুখ করে দাঁড়াতেন। পরে মদিনায় কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ এলে কাবা শরিফের দিকে কিবলা নির্ধারিত হয় (সূরা আল-বাকারা, ২:১৪৪)।
এ ছাড়া হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও বিশেষভাবে সফর করা উচিত নয়: মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববি ও মসজিদুল আকসা (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম )।

মুসলিম শাসনামল

৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সময় জেরুজালেম মুসলমানদের অধীনে আসে। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করে ইবাদতের ব্যবস্থা করেন।
উমাইয়া খিলাফতের সময় (৭ম–৮ম শতক) বর্তমান আল-আকসা মসজিদ ভবন নির্মিত ও সম্প্রসারিত হয়। একই প্রাঙ্গণে কুব্বাতুস সাখরা (ডোম অব দ্য রক) নির্মিত হয় (৬৯১–৬৯২ খ্রি., খলিফা আবদুল মালিকের আমলে), যা অনেক সময় ভুল করে “আল-আকসা” হিসেবে ধরা হয়, আসলে দুটো আলাদা স্থাপনা, তবে একই প্রাঙ্গণে।

ক্রুসেড ও পুনরুদ্ধার

১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে। পরে ১১৮৭ সালে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি শহর পুনরুদ্ধার করেন এবং মসজিদ আল-আকসাকে আবার মুসলিম ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করেন। পরবর্তী মমলুক ও উসমানি আমলে প্রাঙ্গণের সংস্কার, মাদরাসা ও স্থাপত্যিক উন্নয়ন হয়।

আধুনিক সময়

২০শ শতকে অঞ্চলটি রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পূর্ব জেরুজালেম ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে আল-আকসা প্রাঙ্গণের ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা জর্ডান-সমর্থিত ইসলামিক ওয়াক্‌ফের হাতে রয়েছে, একে অনেকেই “স্ট্যাটাস কো” বলে উল্লেখ করেন।
আজও আল-আকসা মুসলমানদের কাছে ইবাদত, ইতিহাস ও পরিচয়ের প্রতীক; একই সঙ্গে এটি বিশ্ব রাজনীতির স্পর্শকাতর ইস্যু।

স্থাপত্য ও প্রাঙ্গণ

“আল-আকসা” শব্দটি অনেক সময় পুরো হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে আছে

  • দক্ষিণ দিকের মূল আল-আকসা মসজিদ ভবন (ধূসর গম্বুজ)
  • কুব্বাতুস সাখরা (সোনালি গম্বুজ)
  • প্রাচীন প্রাচীর, ফোয়ারা, মাদরাসা ও অন্যান্য স্থাপনা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ভূমিকম্প) ও অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন সময়ে সংস্কার হয়েছে।

সারসংক্ষেপ

মসজিদ আল-আকসা শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি বহু ধর্মের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক ভূখণ্ড, ইসলামের ইবাদত-ঐতিহ্যের অংশ এবং বিশ্ব-রাজনীতির স্পর্শকাতর প্রতীক। কুরআন-হাদিসে এর বিশেষ মর্যাদা উল্লেখিত, আর ইতিহাসের নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও এটি মুসলমানদের হৃদয়ে অনন্য স্থান দখল করে আছে।

+ posts
Share this article
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

২০২৬ সালে যে ১৫টি বইভিত্তিক চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে 

১৫টি বইভিত্তিক চলচ্চিত্র ২০২৬ সাল বইপ্রেমী ও সিনেমাপ্রেমীদের জন্য খুবই চমকপ্রদ বছর। এ বছরে বেশকিছু সিনেমা মুক্তি…
২০২৬ সালে যে ১৫টি বইভিত্তিক চলচ্চিত্র

প্রধানমন্ত্রীর দেখা ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমা নিয়ে জানুন বিস্তারিত

‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ প্রধানমন্ত্রীর দেখা এই সিনেমায় কী আছে?   …… শুক্রবার রাতে কন্যা জাইমা রহমানকে…
‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ প্রধানমন্ত্রীর দেখা এই সিনেমায় কী আছে

চলচ্চিত্র ও টিভির মাধ্যমে বিখ্যাত হওয়া ১৫ টি ভ্রমণ স্থান

১৫ টি ভ্রমণ স্থান কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য মানুষের আগ্রহ-উদ্দীপনা সম্ভবত মানবজাতির শুরু থেকেই। বলা যায়, ঘুরতে…
চলচ্চিত্র ও টিভির মাধ্যমে বিখ্যাত হওয়া ১৫ টি ভ্রমণ স্থান
0
Share