বলিউডে আজ যে কজন অভিনেতার নাম ভরসার সমার্থক, তাঁদের একজন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। কৃষকের ছেলে থেকে বলিউডের ভরসা পঙ্কজ ত্রিপাঠীর এই যাত্রাটা কিন্তু শুরুতে অভিনয়ের দিকেই ছিল না। অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছাই ছিল না তাঁর, বরং ভেবেছিলেন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেবেন।
বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার বেলসান্দ গ্রামের ছেলে পঙ্কজ। বাবা ছিলেন কৃষক, গ্রামের মানুষ চিনতেন মাত্র দুটো পেশা, ইঞ্জিনিয়ার আর ডাক্তার। বাবার ইচ্ছাও ছিল ছেলে যেন ডাক্তার হয়। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায় অনেক পরে, ২২-২৩ বছর বয়সে।
সরকারি চাকরির আশ্বাসেই মিলেছিল অনুমতি
পরিবারের একটাই চিন্তা ছিল, ছেলে রোজগার করে খেতে পারবে তো। পঙ্কজ বাবাকে বলেছিলেন, দিল্লি গেলে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় পড়ে সরকারি চাকরিও মিলতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবারে ‘সরকারি চাকরি’ কথাটা শুনলেই সবাই নিশ্চিন্ত হয়, বাবাও তাই রাজি হয়ে যান।
তার আগে ছাত্রজীবনে রাজনীতিতেও জড়িয়েছিলেন পঙ্কজ। ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনে যোগ দিয়ে এক সপ্তাহ জেল খেটেছেন, পুলিশের মারও খেয়েছেন। তখনই বুঝেছিলেন, ওই পথ তাঁর নয়। পাটনার কালিদাস রঙ্গালয়ে থিয়েটার শুরু, সেখান থেকে দিল্লির এনএসডি।

এনএসডি থেকে পাস করার পর প্রায় এক দশক কেটেছে ছোট ছোট চরিত্র আর কাজের অপেক্ষায়। বদল আসে অনুরাগ কাশ্যপের ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’-এ সুলতান চরিত্র দিয়ে। এরপর ‘নিউটন’ তাঁকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ সম্মান, আর ‘মির্জাপুর’-এর কালীন ভাইয়া বানিয়ে দেয় ঘরে ঘরে পরিচিত নাম।
আজও পঙ্কজ বলেন, অভিনয় তাঁর কাছে রুজি-রোজগারই। খ্যাতি বা বিলাসিতা নয়, পরিবারের দায়িত্ব মেটানোই ছিল শুরু থেকে তাঁর লক্ষ্য। বছরে এখন তিনি বেছে বেছে দু-তিনটি কাজই করেন, গল্পে চ্যালেঞ্জ না থাকলে সহজে রাজি হন না।

কৃষকের ছেলে থেকে বলিউডের ভরসা পঙ্কজ ত্রিপাঠীর এই উত্থান তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়, ধৈর্য আর নিজের শেকড় আঁকড়ে থাকারও গল্প।






