বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা কণিকা কাপুরের সংসারে আবারও বিচ্ছেদের অধ্যায়। ব্যবসায়ী স্বামী গৌতম হাতিরামানির সঙ্গে চার বছরের দাম্পত্যের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। চার বছরের সংসার ভাঙল ‘বেবি ডল’ গায়িকা কণিকার, আর খবরটি তিনি নিজেই জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
৩ নভেম্বর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে কণিকা লিখেছেন, অনেক চিন্তাভাবনা ও বিবেচনার পর তিনি ও তাঁর স্বামী আলাদা পথে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একসঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য কৃতজ্ঞ জানিয়ে তিনি সবার কাছে সহানুভূতিশীল থাকা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করেছেন। বিবৃতির এক দিন আগেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিয়ের ছবিগুলো সরিয়ে ফেলেছিলেন, তখন থেকেই সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
বিচ্ছেদ নিয়ে যা বললেন কণিকা
বিচ্ছেদের ঘোষণার পর তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। গৌতমের কর্মস্থল নাইজেরিয়ার লাগোসে গিয়ে থাকতে না চাওয়ায় দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ‘বেবি ডল’ গায়িকা কণিকা।
মুম্বাই মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কণিকা স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের বিচ্ছেদের পেছনে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নেই। তাঁর ভাষায়, তিনি নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াননি, তাঁর জানা অনুযায়ী গৌতমও অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াননি। লাগোসে থাকতে চাননি বলেই সংসার ভেঙেছে, এই ধারণাও সঠিক নয় বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, কোনো দাম্পত্য ভেঙে গেলে নারীকেই প্রথমে দায়ী করার প্রবণতা অন্যায্য, কারণ সম্পর্কে ঠিক কী ঘটেছে তা কেবল সেই দুজনই জানেন।

দ্বিতীয়বার বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট ও হতাশার, বলেছেন কণিকা। তিন সন্তানের দায়িত্ব তাঁকেই সামলাতে হয়, তাই বিচ্ছেদের পরও গৌতমের সঙ্গে সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখতে চান তিনি। ভবিষ্যতে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ‘বেবি ডল’ গায়িকা কণিকা।
কণিকা ও গৌতমের পরিচয় প্রায় ১৫ বছরের, বিয়ের আগে তাঁরা ভালো বন্ধু ছিলেন, একসময় সেই বন্ধুত্বই রূপ নেয় প্রেমে। কণিকা জানিয়েছিলেন, ২০১৪ সালে তিনিই প্রথম গৌতমকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ২০২০ সালেও দেন একই প্রস্তাব। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের আগস্টে গৌতম তাঁকে প্রস্তাব দেন এবং ২০২২ সালের ২০ মে লন্ডনে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন তাঁরা। সেই আয়োজনে ছেলে যুবরাজ মাকে বিয়ের মণ্ডপে নিয়ে গিয়েছিলেন, পাশে ছিল দুই মেয়ে আয়ানা ও সামারা।

কণিকার প্রথম বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে, লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী রাজ চন্দকের সঙ্গে। ২০১২ সালে সেই সংসারের ইতি ঘটলে ভারতে ফিরে গানে মনোযোগী হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে ‘রাগিণী এমএমএস ২’ ছবির ‘বেবি ডল’ গানটি রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে ‘বেবি ডল’ গায়িকা কণিকাকে। ‘লাভলি’, ‘ছিটিয়া কালাইয়া’, ‘দেশি লুক’, ‘টুকুর টুকুর’ থেকে ‘পুষ্পা’র ‘ও আন্তাভা’র হিন্দি সংস্করণ, হিট গানের লম্বা তালিকা রয়েছে তাঁর।









