Monday, November 2, 2026

ষাটের পরও সুপারস্টার থাকতে পারবেন শাহরুখ?

রজনীকান্ত কেন সুপার স্টার ?

রজনীকান্ত কেন সুপার স্টার ? 

October 26, 2026

অমিতাভ বচ্চন – যে গল্প কখনো বলা হয়নি

October 16, 2026

আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা নায়িকা কে ?

October 12, 2026

সালমান শাহ কেন এত অল্প সময়ে কিংবদন্তি হয়ে গেলেন?

October 2, 2026

কেন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন আমির খান?

September 26, 2026

৬১ বছর বয়সেও শাহরুখ খানের জনপ্রিয়তায় খুব একটা ভাটা পড়েনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একদিকে যেমন পেয়েছেন আকাশছোঁয়া সাফল্য, অন্যদিকে দেখেছেন ব্যর্থতার সময়ও। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন সুপারস্টারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। দর্শকের প্রত্যাশা বদলায়, বদলে যায় সিনেমার ধরনও। তাই ষাটের পর নিজের অবস্থান ধরে রাখতে শাহরুখকে অভিনয় ও চরিত্র নির্বাচনে কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দিলীপ কুমার ও রজনীকান্তের দীর্ঘ ক্যারিয়ার তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতীয় সিনেমায় সুপারস্টারদের উত্থান-পতনের ইতিহাস বেশ পুরোনো। রাজেশ খান্নার হাত ধরেই বলিউডে ‘সুপারস্টার’ পরিচিতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সত্তরের দশকে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল অভাবনীয়। কিন্তু সেই অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারেননি তিনি। শীর্ষে ওঠার কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর ছবির ব্যবসা কমতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে দর্শকের আগ্রহও অন্য অভিনেতাদের দিকে চলে যায়।

বয়স বাড়ার পর এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন আরও অনেক তারকা। পর্দায় দীর্ঘদিন একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা কিংবা দর্শকের রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা অনেকের ক্যারিয়ারেই প্রভাব ফেলেছে। শাহরুখের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। কয়েক বছর বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও তাঁর জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন এই অভিনেতা।

শাহরুখের তারকাখ্যাতির পেছনে দর্শকের আবেগ বড় ভূমিকা রেখেছে। অমিতাভ বচ্চনের প্রতি দর্শকের শ্রদ্ধা, রজনীকান্তকে ঘিরে উন্মাদনা কিংবা চিরঞ্জীবীকে ঘিরে অনুপ্রেরণার জায়গা, প্রত্যেকের জনপ্রিয়তার ধরন আলাদা। শাহরুখের ক্ষেত্রে ভালোবাসার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। নব্বইয়ের দশক থেকে তাঁর সিনেমা দেখে বড় হওয়া দর্শকদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যেও রয়েছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। বিশেষ করে নারী দর্শকের কাছে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে তাঁর পরিচিতি এখনো শক্তিশালী।

পর্দায় কখনো প্রেমিক, কখনো স্বামী, কখনো বন্ধু কিংবা বাবা, বিভিন্ন চরিত্রে শাহরুখকে দেখেছেন দর্শক। অনেকের কাছে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। এ কারণেই ২০১৬ ও ২০১৭ সালের দিকে কয়েকটি সিনেমা ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলেও তাঁর তারকাখ্যাতি বড় ধরনের সংকটে পড়েনি।

‘জিরো’ মুক্তির পর অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নিয়েছিলেন শাহরুখ। ২০২৩ সালে ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’ দিয়ে ফেরার পর অবশ্য পরিস্থিতি বদলে যায়। দুটি ছবিই বিশ্বজুড়ে এক হাজার কোটি রুপির বেশি আয় করে। বিরতির পর এমন সাফল্য শুধু বক্স অফিসের হিসাবেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং দর্শকের সঙ্গে শাহরুখের সম্পর্ক কতটা গভীর, সেটিও সামনে এনেছে। অনেক দর্শক প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছিলেন প্রিয় অভিনেতাকে আবার বড় পর্দায় দেখার জন্য।

ছেলে আরিয়ান খানের গ্রেপ্তার ও মুক্তির ঘটনার পর থেকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে শাহরুখের যোগাযোগ আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একসময় নিয়মিত সাক্ষাৎকার দেওয়া এই অভিনেতাকে এখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খুব একটা দেখা যায় না। পডকাস্ট ও দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের জনপ্রিয়তা বাড়লেও সেসব আয়োজনেও তাঁর উপস্থিতি সীমিত। ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ব্যবহার করলেও আগের মতো প্রকাশ্যে আসেন না তিনি। তবু তাঁর জনপ্রিয়তায় এর বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।

শাহরুখ
শাহরুখ

শাহরুখের ব্যক্তিগত অবস্থান ও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। গুটখা ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান না নেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকে। তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও তাঁর প্রতি ভক্তদের সমর্থন পুরোপুরি কমে যায়নি।

ষাটের পর শাহরুখের সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

একজন তারকার প্রতি দর্শকের ভালোবাসা তাঁকে কয়েকটি ব্যর্থতার পরও জনপ্রিয় রাখতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে ভালো সিনেমা এবং মানানসই চরিত্রের বিকল্প নেই। শাহরুখের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

২০২৩ সালে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’ মুক্তির পর নতুন কোনো সিনেমায় তাঁকে বড় পর্দায় দেখা যায়নি। সামনে রয়েছে সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’। এই ছবিকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। তবে শুধু একটি সিনেমার সাফল্য নয়, পরবর্তী সময়ে কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করবেন, সেটিও শাহরুখের ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে দিলীপ কুমারের ক্যারিয়ার থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। চল্লিশের দশকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে শক্তিশালী নাটকীয় চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। শাহরুখের ক্যারিয়ারেও রোমান্টিক চরিত্রের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর অ্যাকশন ও অন্যান্য ঘরানায় যাওয়ার নজির রয়েছে।

পঞ্চাশের কোঠায় এসে ‘বৈরাগ’ ও ‘সাগিনা’র মতো সিনেমা প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় দিলীপ কুমার অভিনয় থেকে বিরতি নেন। প্রায় পাঁচ বছর পর ‘ক্রান্তি’ দিয়ে বড় পর্দায় ফিরে আসেন। এরপর অ্যাকশন ও নাটকনির্ভর চরিত্রে অভিনয় করে আবারও দর্শকের মনোযোগ পান। ‘বিধাতা’, ‘কর্মা’, ‘মশাল’ ও ‘সওদাগর’ এর মতো সিনেমা তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ষাটের পর দিলীপ কুমার আর কেবল রোমান্টিক নায়ক হিসেবে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানানসই চরিত্র বেছে নিয়েছেন। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ৬৫ বছর বয়সেও বড় তারকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বক্স অফিসে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি। শাহরুখের জন্য এই পরিবর্তনের পথটি অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

রজনীকান্তের কাছ থেকেও শিক্ষা নিতে পারেন শাহরুখ

বয়স বাড়লেও কীভাবে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখা যায়, তার আরেকটি বড় উদাহরণ রজনীকান্ত। তামিল সিনেমায় দীর্ঘদিন রাজত্ব করা এই অভিনেতাকেও ষাটের কোঠায় এসে কয়েকটি ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ‘কোচাডাইয়ান’ ও ‘লিঙ্গা’ প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে সেখানেই থেমে থাকেননি রজনীকান্ত। ‘কাবালি’ ও ‘টু পয়েন্ট জিরো’র মাধ্যমে আবারও দর্শকের মনোযোগ ফিরে পান। পরবর্তী সময়ে ‘জেলার’, ‘কুলি’ ও ‘জেলার ২’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

রজনীকান্ত

রজনীকান্তের ক্যারিয়ারে বয়সের সঙ্গে চরিত্র নির্বাচনের পরিবর্তনটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তরুণ নায়কের মতো রোমান্টিক চরিত্রে আটকে না থেকে তিনি বেছে নিয়েছেন অভিজ্ঞ, প্রভাবশালী ও বয়সের সঙ্গে মানানসই চরিত্র। কখনো অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী, কখনো অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা, আবার কখনো পরিবারের জন্য লড়াই করা একজন মানুষ হিসেবে পর্দায় হাজির হয়েছেন। চরিত্রের এই পরিবর্তন দর্শকের কাছে তাঁকে নতুনভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

অমিতাভ বচ্চন ও অশোক কুমারের ক্যারিয়ারেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। বয়স বাড়ার পর তাঁরা প্রধান নায়কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘জুয়েল থিফ’ ও ‘আশীর্বাদ’-এর মতো সিনেমায় অশোক কুমারের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। অন্যদিকে ‘মেজর সাব’, ‘মোহাব্বতে’ ও ‘কভি খুশি কভি গম’-এর মতো সিনেমায় অমিতাভ বচ্চন নিজের অভিনয়ের পরিসর বদলেছেন।

তবে শাহরুখ এখনই তরুণ নায়কদের পাশে দ্বিতীয় সারির চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী নন বলেই মনে হচ্ছে। ‘কিং’ ছবিতে ধূসর চুলের নতুন লুকে দেখা গেলেও সেখানে তিনিই মূল আকর্ষণ। অর্থাৎ বয়সের পরিবর্তনকে পর্দায় তুলে ধরলেও নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চান তিনি।

‘কিং’ শাহরুখের ক্যারিয়ারে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ছবিতে তাঁর নতুন অবয়ব চরিত্র নির্বাচনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও রোমান্টিক নায়কের পরিচয় থেকে পুরোপুরি সরে আসার লক্ষণ নেই। দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে রোমান্টিক গানের উপস্থিতিও সেই ধারণাকে আরও জোরালো করে।

শেষ পর্যন্ত শাহরুখের সামনে পথ দুটি, আগের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অথবা বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল রেখে নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরা। দিলীপ কুমার ও রজনীকান্ত দেখিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে পারলে ষাট কিংবা সত্তরের পরও দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব। শাহরুখ কোন পথ বেছে নেন, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েকটি সিনেমায়।

Share

Read more

Local News