রিংয়ে প্রতিপক্ষকে মুহূর্তে ধরাশায়ী করা মাইক টাইসন আবার আলোচনায়, তবে এবার লড়াইয়ের জন্য নয়। নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া চার পর্বের ডকুমেন্টারি ‘টাইসন’ দর্শকের আগ্রহ যেমন কেড়েছে, তেমনি তৈরি করেছে বিতর্কও। সমালোচকদের প্রশ্ন, নিজের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলো নিয়ে কি যথেষ্ট জবাবদিহির মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক এই বক্সার?
১৩ অক্টোবর মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই সিরিজটি নেটফ্লিক্সের ইংরেজি টিভি তালিকায় চতুর্থ স্থানে ওঠে, ভিউ হয় ৫১ লাখ। দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও ৩৮ লাখ ভিউ পেয়ে মোট দর্শকসংখ্যা দাঁড়ায় ৮৯ লাখে। তালিকায় অবস্থানও ধরে রাখে চার নম্বরেই।
সিরিজে উঠে এসেছে টাইসনের পুরো জীবন। ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিলে দারিদ্র্য আর অপরাধের মধ্যে বেড়ে ওঠা, ১৩ বছর বয়সের আগেই বারবার গ্রেপ্তার, তারপর প্রশিক্ষক কাস ডি’আমাতোর হাত ধরে বক্সিংয়ে আসা। ১৯৮৬ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি হন ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন, ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ছিলেন অবিসংবাদিত চ্যাম্পিয়ন।

বিতর্ক যেখানে
বিতর্কের কেন্দ্রে টাইসনের অতীতের দুটি অধ্যায়। সাবেক স্ত্রী অভিনেত্রী রবিন গিভেন্সের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ আর নির্যাতনের অভিযোগ, আর ১৯৯২ সালে ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছরের বেশি কারাভোগ। টাইসন বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন, এই সিরিজেও তাঁর অবস্থান একই। ১৯৯০ সালে বস্টার ডগলাসের কাছে হেরে খেতাব হারানো আর ১৯৯৭ সালে ইভান্ডার হলিফিল্ডের কানে কামড়ের ঘটনাও এসেছে সিরিজে।
সমস্যা হলো, গিভেন্স কিংবা মামলার অভিযোগকারী ডিজিরি ওয়াশিংটন, কেউই সিরিজে সাক্ষাৎকার দেননি। ওয়াশিংটনের পুরোনো বক্তব্যের কিছু অংশই শুধু ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গুরুতর অভিযোগের জবাব শোনা গেছে মূলত টাইসন আর তাঁর ঘনিষ্ঠদের মুখেই। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও দেখা গেছে টাইসনের পক্ষে কথা বলতে।
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়াও ভাগ হয়ে গেছে দুই ভাগে। রটেন টমেটোজে সিরিজটির স্কোর ৮৬ শতাংশ। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ চার তারকার মধ্যে চারই দিয়েছে, প্রশংসা এসেছে ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ থেকেও। কিন্তু ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সমালোচকেরা দিয়েছেন মাত্র এক তারকা, সিরিজটিকে বলেছেন অসম্পূর্ণ প্রতিকৃতি। ‘দ্য অবজারভার’ আর ‘দ্য আইরিশ টাইমস’-এর মূল্যায়ন মিশ্র হলেও ইতিবাচক।

পরিচালক ফ্লয়েড রাস ৮ থেকে ১২ মাস ধরে টাইসনের প্রায় আটটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। পুরোনো ফুটেজ জোগাড়ে চারজন আর্কাইভ প্রযোজক কাজ করেছেন টানা ১৬ মাস। শেষ পর্বে টাইসন জানিয়েছেন, ‘টোড’ নামের সাইকেডেলিক অভিজ্ঞতাই তাঁকে কোকেন আর মদ ছাড়তে সাহায্য করেছে। ২০০৯ সালে চার বছর বয়সী মেয়ে এক্সোডাসের মৃত্যুর শোকের কথাও বলেছেন তিনি।
সিরিজের শেষে ছেলে মিগুয়েলের মন্তব্য যেন পুরো বিতর্কের সারকথা। তাঁর ভাষায়, বাবা পুরোপুরি বদলে যাননি, বদলেছে নিজেকে উপস্থাপনের ধরন আর জীবনযাপন। দর্শকের কাছে তাই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, মানুষ কি অতীত পেছনে ফেলে সত্যিই বদলে যেতে পারে? ২০২৪ সালে জেক পলের সঙ্গে লড়াইয়ের পর এই ডকুমেন্টারি আবারও প্রমাণ করল, টাইসনকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল ফুরায়নি।









