জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র বাগস বানি ও ড্যাফি ডাকের কণ্ঠশিল্পী এবং এমি পুরস্কারজয়ী কণ্ঠাভিনেতা এরিক বাউজা আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৬ বছর। রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মেডিকেল পরীক্ষকের তথ্য অনুযায়ী, হৃদ্রক্তনালি সংক্রান্ত জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এরিক বাউজার মৃত্যুতে অ্যানিমেশনজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য দর্শকের শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ৭ ডিসেম্বর কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন এরিক বাউজা। ছোটবেলা থেকেই লুনি টিউনস কার্টুন সিরিজের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরিবারের কাছ থেকেই এই জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তাঁর। ক্যারিয়ারের শুরুতে অ্যানিমেশনে চরিত্র নকশা ও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তী সময়ে কণ্ঠাভিনয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি।
রেন অ্যান্ড স্টিমপি অ্যাডাল্ট পার্টি কার্টুন’ সিরিজে স্টিমপি চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে পরিচিতি পান বাউজা। পরে লুনি টিউনসের একাধিক জনপ্রিয় চরিত্রে কণ্ঠ দিয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২০ সাল থেকে সিরিজটির বিভিন্ন চরিত্রে তাঁর কণ্ঠ নিয়মিত শোনা যায়।
বাগস বানি ও ড্যাফি ডাক ছাড়াও পোর্কি পিগ, টুইটি, মারভিন দ্য মার্শিয়ানসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। তাঁর অভিনয় ও কণ্ঠের বৈচিত্র্য পুরোনো চরিত্রগুলোকে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনটি এমি জিতেছেন এরিক বাউজা
লুনি টিউনসের বাইরেও বাউজার কাজের পরিধি ছিল বিস্তৃত। ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব পুস ইন বুটস’, ‘মাপেট বেবিজ’, ‘বেন ১০: অমনিভার্স’ এবং ‘টিন টাইটানস গো!’-এর মতো জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিরিজে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ‘স্পেস জ্যাম: এ নিউ লিগ্যাসি’ ও ‘কোয়োট ভার্সেস অ্যাকমি’ চলচ্চিত্রেও তাঁর কণ্ঠাভিনয়ের অবদান রয়েছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি চিলড্রেনস অ্যান্ড ফ্যামিলি এমি পুরস্কার অর্জন করেন এরিক বাউজা। ‘লুনি টিউনস কার্টুনস’, ‘বাগস বানি বিল্ডার্স’ ও ‘টিন টাইটানস গো!’-এ তাঁর কাজের জন্য এসব সম্মাননা পান তিনি।
এরিক বাউজার কণ্ঠে কয়েক দশকের পুরোনো কার্টুন চরিত্র গুলো নতুনভাবে প্রাণ পেয়েছিল। তাঁর প্রয়াণে অ্যানিমেশনজগৎ হারাল একজন প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পীকে। একই সঙ্গে বাগস বানি ও ড্যাফি ডাকের মতো চরিত্রের সঙ্গে যাঁদের শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, তাঁদের কাছেও এই মৃত্যু এক গভীর বেদনার খবর।









