স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার প্রথম ১০ মিনিট মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের (এমসিইউ) ভবিষ্যৎ কাহিনির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ‘নো ওয়ে হোম’-এর পর পিটার পার্কারের জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ব্যক্তিগত পরিচয় হারিয়ে একা চলতে শুরু করলেও স্পাইডার-ম্যান হিসেবে নিউইয়র্কে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। সিনেমার শুরুর দৃশ্যগুলোতে তাঁর এই নতুন জীবন তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অপরাধজগতের শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর শেষে ডক্টর স্ট্রেঞ্জের জাদুমন্ত্রের কারণে সবাই পিটার পার্কারকে ভুলে যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেড লিডস ও এমজেও তাঁকে আর চিনতে পারে না। এরপর পিটারকে একাই নিজের জীবন সামলাতে হয়। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর শুরুর দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, এই সময়ে তিনি নিউইয়র্কের অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন।
নিউইয়র্কে স্পাইডার-ম্যানের নতুন জীবন
নেড ও এমজে যখন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়াশোনা করছে, তখন পিটার নিজেকে স্পাইডার-ম্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত করেছে। কমিক বইয়ের পরিচিত প্রচ্ছদ ও দৃশ্যের আদলে তৈরি শুরুর অংশে স্করপিয়ন, ট্যারান্টুলা, র্যামরড, টম্বস্টোন ও বুমেরাংয়ের মতো প্রতিপক্ষের প্রসঙ্গ এসেছে। পাশাপাশি ম্যানফ্রেডি অপরাধী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তাঁর অভিযানের ইঙ্গিত রয়েছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা জ্যঁ ডিওলফের সঙ্গে স্পাইডার-ম্যানের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কমিক বইয়ে তাঁদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। সিনেমায় এই সম্পর্ক কতটা বিস্তৃত হবে, তা অবশ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
শুরুর দৃশ্যগুলোর শেষে স্পাইডার-ম্যানকে নিউইয়র্কের পরিচিত ও স্বীকৃত নায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁকে শহরের চাবি উপহার দেওয়ার ঘটনাও তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পিটার পার্কার হিসেবে পরিচয় হারালেও স্পাইডার-ম্যান হিসেবে শহরের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।
অ্যাভেঞ্জার্স থেকে একক নায়ক
এমসিইউর আগের সিনেমাগুলোতে পিটারকে অ্যাভেঞ্জার্সের সঙ্গে বড় হুমকি মোকাবিলা করতে দেখা গেছে। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এ দলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। টনি স্টার্কের পরামর্শ ও সহায়তাও তাঁর সুপারহিরো হয়ে ওঠার পথে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবে ‘নো ওয়ে হোম’-এর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন পিটারকে নিজের পরিচয় গোপন রেখে একাই নিউইয়র্কের অপরাধীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শহরের একজন নির্ভরযোগ্য নায়ক হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠা কমিক বইয়ের স্পাইডার-ম্যানের পরিচিত অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কিংপিনের সঙ্গে লড়াইয়ের সম্ভাবনা
‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন এগেইন’ সিরিজেও নিউইয়র্কের অপরাধ দমনকারী মুখোশধারী নায়কদের জন্য হুমকি হিসেবে উঠে এসেছে উইলসন ফিস্ক ওরফে কিংপিন। সিরিজটিতে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে তাঁর ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং মুখোশধারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। স্পাইডার-ম্যানকে সরাসরি দেখা না গেলেও তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রভাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে স্পাইডার-ম্যানের অপরাধবিরোধী অভিযান এবং কিংপিনের প্রসঙ্গ ভবিষ্যতে তাঁদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ বাড়িয়েছে। কমিক বইয়ে কিংপিন স্পাইডার-ম্যানের পরিচিত প্রতিপক্ষদের একজন। কিংপিনের চরিত্রে অভিনয় করা ভিনসেন্ট ডি’অনোফ্রিওও স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে লড়াই করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিনেতার আগ্রহকে এমসিইউর নিশ্চিত পরিকল্পনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সিনিস্টার সিক্স কি একজোট হবে?
স্পাইডার-ম্যানের হাতে একের পর এক অপরাধী পরাজিত হলে তাদের কেউ কেউ প্রতিশোধ নিতে একজোট হতে পারে। কমিক বইয়ে সিনিস্টার সিক্স নামে পরিচিত দলটি স্পাইডার-ম্যানের কয়েকজন শত্রুকে নিয়ে গঠিত। নতুন সিনেমায় একাধিক পরিচিত প্রতিপক্ষের প্রসঙ্গ থাকায় এই দলকে বড় পর্দায় দেখার সম্ভাবনা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বাড়তে পারে।
এমনকি কিংপিনের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হলে নিউইয়র্কের অন্য মুখোশধারী নায়কদেরও কাহিনিতে যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে চার্লি কক্সের ডেয়ারডেভিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জন বার্নথালের পানিশারের সঙ্গে স্পাইডার-ম্যানের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। অপরাধ মোকাবিলায় তাঁদের পদ্ধতির পার্থক্য এমন জোটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
তবে টম্বস্টোনের প্রত্যাবর্তন, সিনিস্টার সিক্সের গঠন কিংবা স্পাইডার-ম্যান, ডেয়ারডেভিল ও পানিশারের যৌথ অভিযানের মতো সম্ভাবনাগুলো এখনো নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর প্রথম ১০ মিনিট পিটারের নতুন জীবন ও নিউইয়র্কে তাঁর অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কাহিনির জন্য নানা সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একদিকে শহরের অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাঁর সাফল্য, অন্যদিকে সেই সাফল্যের জেরে অপরাধজগতের পাল্টা আঘাত এই দুই দিকই পরবর্তী সিনেমাগুলোর গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।









