বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব
১৫ বছর পর বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (বিআইএফএফ) ফিরেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী মিশেল ইয়ো। এবারের উৎসবে ‘এশিয়ান ফিল্মমেকার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এশীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবের বৈশ্বিক পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করেছেন মালয়েশীয় এই অভিনেত্রী।
দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে শুরু হয়েছে বিআইএফএফের ৩১তম আসর। এবারের উৎসবে ৫৯টি দেশ থেকে ২৪৬টি চলচ্চিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে, যা ২০১৯ সালের পর উৎসবটির সবচেয়ে বড় আয়োজন। উৎসব চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘এশিয়ান ফিল্মমেকার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার গ্রহণের সময় মিশেল ইয়ো বলেন,
একসময় তিনি যে আয়োজনকে এশীয় চলচ্চিত্র উদযাপনের মঞ্চ হিসেবে চিনতেন, সেটি এখন “সত্যিকারের একটি বৈশ্বিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে, যা বৈশ্বিক মঞ্চে এশীয় চলচ্চিত্রকে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর দিচ্ছে।
পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি আরও বলেন, এটি এমন একটি সম্মাননা, যা এশীয় চলচ্চিত্র এবং আমাদের গল্প গুলো কীভাবে সংস্কৃতি ও সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তা উদযাপন করে। বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত অর্থবহ।
দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইয়ো বলেন,
একটি চলচ্চিত্রের শুরু হয় একটি ধারণা দিয়ে। কিন্তু কেউ যখন অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে বসে তার সময়, কল্পনা এবং হৃদয়ের সামান্য একটি অংশ দেয়, তখনই সেটি বাস্তব হয়ে ওঠে। আপনারাই চলচ্চিত্রটিকে পূর্ণতা দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিশেল ইয়োর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তারকাদের উপস্থিতিতে বুসানের লালগালিচাও ছিল জমজমাট। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায় মাত্র ৯৪ সেকেন্ডে। ফ্যান বিংবিংসহ বিভিন্ন দেশের তারকারা লাল গালিচায় অংশ নেন।
মিশেল ইয়ো সাফল্যের নতুন ইতিহাস
হংকংয়ের চলচ্চিত্র থেকে হলিউড দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মিশেল ইয়ো। ক্রাউচিং টাইগার, হিডেন ড্রাগন’ (২০০০) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’ (২০২২) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে ইতিহাস গড়েন। তিনিই প্রথম এশীয় নারী, যিনি এই পুরস্কার অর্জন করেন।

এবারের বিআইএফএফে মিশেল ইয়োকে ঘিরে বিশেষ আয়োজনও রয়েছে। এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল ফর মিশেল’ শিরোনামের বিশেষ বিভাগে তার নির্বাচিত ও অভিনীত চারটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘রেইন অব অ্যাসাসিনস’ (২০১০) এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’ (২০২২), ‘সান্দিওয়ারা’ (২০২৬) এবং ‘ইটস মাই টাইম’ (২০২৬) ।
এদিকে এবারের উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ১৩টি চলচ্চিত্র রয়েছে। বিভাগটি ২০২৫ সালে চালু হওয়ার পর এবার দ্বিতীয় বছরে পা দিয়েছে। প্রতিযোগিতার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মাজিদ মাজিদির ‘মিডডে মিল’ এবং কিম জং-হুনের ‘শেভিং’।
প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সভাপতি চীনা নির্মাতা ঝাং ইমৌ বলেন,
এশীয় চলচ্চিত্র শুধু এশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সারা বিশ্বে তাদের ব্যাপক প্রভাব থাকা উচিত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘কোরিয়ান সিনেমা অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বিআইএফএফের প্রতিষ্ঠাতা উৎসব পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান কিম ডং-হো। আর ‘ক্যামেলিয়া অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন হংকংয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান হুই। মিশেল ইয়ো এর আগে অ্যান হুই পরিচালিত ‘দ্য স্টান্ট ওম্যান’ (১৯৯৬) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
অ্যান হুইকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মিশেল ইয়ো বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ দশক ধরে সাধারণ মানুষের মর্যাদা তুলে ধরার পাশাপাশি ক্যামেরার পেছনে থাকা নারীদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করেছেন। ৩১তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ৬ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।









