হলিউডে বড় দুই স্টুডিও এবার একই ছাতার নিচে আসছে। প্যারামাউন্ট-ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির একীভূত কোম্পানির নাম হবে ‘স্কাইড্যান্স’। ৬ অক্টোবর চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নতুন কোম্পানি স্কাইড্যান্সের অধীনে থাকবে হলিউডের বড় বড় সিনেমা, টিভি নেটওয়ার্ক ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। প্রায় ১১১ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি হলিউডের অন্যতম বড় মিডিয়া একীভূতকরণ।
কেন ‘স্কাইড্যান্স’ নাম?
নতুন কোম্পানির নাম নেওয়া হয়েছে ডেভিড এলিসনের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্কাইড্যান্স মিডিয়া থেকে। ২০১০ সালে এলিসন প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। পরে প্যারামাউন্টের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ‘মিশন: ইম্পসিবল’, ‘টপ গান’ ও ‘স্টার ট্রেক’এর মতো বড় সিনেমা তৈরিতে যুক্ত হয় স্কাইড্যান্স। নতুন কোম্পানির নাম স্কাইড্যান্স হলেও প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স দুই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্র্যান্ড পরিচয় থাকবে। অর্থাৎ শত বছরের পুরোনো দুই স্টুডিওর নাম ও জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে না।

এক শতাব্দীর ইতিহাস প্যারামাউন্টের
প্যারামাউন্টের ইতিহাস শুরু ১৯১২ সালে। অ্যাডলফ জুকর ‘ফেমাস প্লেয়ার্স ফিল্ম কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু করেন। পরে ১৯১৬ সালে ফেমাস প্লেয়ার্স ও জেসি এল ল্যাসকি কোম্পানি একীভূত হলে প্যারামাউন্টের ভিত্তি আরও শক্ত হয়। এক শতাব্দীর বেশি সময়ে ‘দ্য গডফাদার’, ‘টপ গান’, ‘মিশন: ইম্পসিবল’, ‘ট্রান্সফরমার্স’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা ও ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্যারামাউন্ট।
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের যাত্রা ১৯২৩ সালে
অন্যদিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের যাত্রা শুরু ১৯২৩ সালে চার ভাই – হ্যারি, আলবার্ট, স্যাম ও জ্যাক ওয়ার্নারের হাত ধরে। এক শতাব্দীর বেশি সময়ে সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং ব্যবসায়ও বিস্তৃত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘হ্যারি পটার’, ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’, ‘গেম অব থ্রোনস’, ডিসি ইউনিভার্সসহ অসংখ্য জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি।
কীভাবে তৈরি হলো ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি?
২০২২ সালে ওয়ার্নারমিডিয়া ও ডিসকভারি একসঙ্গে হয়ে তৈরি হয় ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি। এর অধীনে আসে ওয়ার্নার ব্রাদার্স, এইচবিও, সিএনএন, ডিসি, ডিসকভারি চ্যানেল, টিএনটি, টিবিএস, ফুড নেটওয়ার্ক ও এইচবিও ম্যাক্সসহ বেশ কিছু বড় ব্র্যান্ড।
এরপর প্যারামাউন্টের সঙ্গে স্কাইড্যান্স। এর জন্য বড় পরিবর্তন আসে ২০২৫ সালে। ওই বছর স্কাইড্যান্স মিডিয়া ও প্যারামাউন্ট গ্লোবালের একীভূতকরণ সম্পন্ন হয়। নতুন করপোরেট কাঠামোয় প্যারামাউন্ট ও স্কাইড্যান্স একই কোম্পানির অধীনে আসে। এরপর সেই প্যারামাউন্ট-স্কাইড্যান্সই ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তি করে।
এক ছাতার নিচে কী কী আসছে?
একীভূত হওয়ার পর স্কাইড্যান্সের অধীনে আসবে এইচবিও ম্যাক্স ও প্যারামাউন্ট প্লাস। পাশাপাশি থাকবে সিবিএস, সিএনএন, এমটিভি, টিবিএস, কমেডি সেন্ট্রাল ও ফুড নেটওয়ার্কের মতো বড় টিভি ও বিনোদন ব্র্যান্ড।
সিনেমার দিক থেকেও বিশাল হবে নতুন প্রতিষ্ঠানটি। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ‘হ্যারি পটার’, ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’, ‘গেম অব থ্রোনস’, ডিসি, ‘ইয়েলোস্টোন’, ‘মিশন: ইম্পসিবল’, ‘টপ গান’ ও নিকেলোডিয়নের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও ফ্র্যাঞ্চাইজি।
মামলা পেরিয়ে একীভূতকরণ
তবে এই একীভূত হওয়ার পথ পুরোপুরি সহজ ছিল না। চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যে মামলা হয়েছিল। তাদের মূল উদ্বেগ ছিল, দুই বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয় এবং আদালতের অনুমোদনের পর সেই আইনি বাধা কাটে।
নেতৃত্বে ডেভিড এলিসন
নতুন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন ডেভিড এলিসন। আর ইনন ক্রেইজ হবেন সহ-সিইও। ক্রেইজ এর আগে খেলনা নির্মাতা ম্যাটেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৬ অক্টোবর থেকেই হলিউডের দুই ঐতিহাসিক স্টুডিওর নতুন অধ্যায় শুরু হবে ‘স্কাইড্যান্স’ নামে।









