১৬ বছর পর ফিরল পুরোনো শত্রু
একটি সাধারণ পরিবার। বাবা-মা, কিশোরী মেয়ে, জন্মদিনের আয়োজনসবকিছুই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিক জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন এক অতীত, যা ১৬ বছর পর ফিরে এসে পুরো পরিবারকে ঠেলে দেয় ভয়ংকর বিপদের মুখে। জার্মান ভাষার নেটফ্লিক্স সিরিজ আনফ্যামিলিয়ার এমনই এক গল্প নিয়ে তৈরি। চলতি বছরের শুরুতে মুক্তির পর অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক দর্শকদের নজর কাড়ে ছয় পর্বের এই স্পাই থ্রিলার সিরিজটি। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সিরিজটি দেখা হয়েছে ৩ কোটি ১৬ লাখ বার। মুক্তির পর বিশ্বের ৩৫টি দেশেও নেটফ্লিক্সের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে এটি।
গল্পের শুরু একটি সাধারণ পরিবারের মতোই। সাইমন ও মেরেট শ্যাফার বার্লিনে নিজেদের পরিচয় গোপন করে বসবাস করছেন। একসময় তাঁরা ছিলেন জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির এজেন্ট। বর্তমানে তাঁরা একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করেন এবং কিশোরী মেয়ে নিনাকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাচ্ছেন।
কিন্তু নিনার ১৬তম জন্মদিনে বদলে যায় সবকিছু। জন্মদিনের আয়োজনের মধ্যেই এক আহত ব্যক্তি তাঁদের কাছে সাহায্য চাইতে আসেন। সেই ঘটনা ধীরে ধীরে তাঁদের ফিরিয়ে নেয় ১৬ বছর আগের বেলারুশ অভিযানে। পুরোনো সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোসেফ কোলিভও আবার হাজির হন বার্লিনে।
পরিবারে ঢুকে পড়ে শত্রু, রহস্য ও অবিশ্বাস
এরপর পুরোনো শত্রু, গুপ্তচর, খুনি, গোপন তথ্য ও নজরদারি ঢুকে পড়ে পরিবারটির বর্তমান জীবনে। সাইমন ও মেরেট বুঝতে পারেন, এত বছর একসঙ্গে থাকার পরও তাঁরা একে অপরের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপন করেছেন। ফলে বাইরের বিপদের পাশাপাশি সংকট তৈরি হয় তাঁদের সম্পর্কের মধ্যেও। এ কারণেই ‘আনফ্যামিলিয়ার’ শুধু একটি স্পাই থ্রিলার নয়। গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে সিরিজটিতে রয়েছে পারিবারিক ড্রামা, রহস্য, অ্যাকশন এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন। গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নিনা ধীরে ধীরে জানতে শুরু করে, তার পরিচিত পরিবারটির অতীত আসলে কতটা জটিল।
মেরেট চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুসানে ভল্ফ এবং সাইমন চরিত্রে আছেন ফেলিক্স ক্রেমার। জোসেফ কোলিভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্যামুয়েল ফিনজি। এ ছাড়া সিরিজটিতে দেখা গেছে আন্দ্রেয়াস পিটশমান, হেনরি হ্যুবশেন, মায়া বন্স, সেয়নেব সালে, জেনিয়া রিকোভা, নাটালিয়া বেলিৎসকি, অ্যারন আল্টারাস ও লরেন্স রুপকে।

সিরিজটির নির্মাতা পল কোটস। চিত্রনাট্যে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কিম জিমারমান ও আলেক্সান্ডার জাইব্ট। পরিচালনা করেছেন লেনার্ট রুফ ও ফিলিপ লাইনেমান। ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ‘আনফ্যামিলিয়ার’। ছয় পর্বের এই সিরিজের প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ মিনিট।
সিরিজটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বার্লিন শহর। শহরের ঠান্ডা ও ধূসর পরিবেশ পুরো গল্পে তৈরি করেছে রহস্যময় আবহ। পুরোনো বিশ্বাসঘাতকতা, গোপন তথ্য এবং পরিবারের ভেতরের অবিশ্বাস, সবকিছু ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
প্রথম সপ্তাহ থেকেই সাফল্য
মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ‘আনফ্যামিলিয়ার’ পেয়েছিল ৪৯ লাখ ভিউ। দ্বিতীয় সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪ লাখে। ১৬ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির সপ্তাহে আরও ৪৩ লাখ ভিউ যোগ হয়। মার্চে বিশ্বজুড়ে সিরিজটির ভিউ দুই কোটি ছাড়িয়ে যায়। এরপর নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের প্রতিবেদনে মোট ভিউ দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৬ লাখে।
রটেন টমেটোজে সিরিজটির টমেটোমিটার স্কোর ৭৮ শতাংশ, আর দর্শক স্কোর ৬৯ শতাংশ। অভিনয়, চরিত্র নির্মাণ ও পরিচালনার প্রশংসা করেছেন অনেক সমালোচক। তবে কিছু পর্যালোচনায় গল্পের কয়েকটি অংশকে অনুমানযোগ্য এবং কিছু জায়গায় গতি ধীর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবু ‘আনফ্যামিলিয়ার’-এর মূল আকর্ষণ শুধু গুপ্তচরবৃত্তি নয়। ১৬ বছর আগের একটি গোপন অভিযান যখন একটি পরিবারের দরজায় ফিরে আসে, তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় , যে মানুষটির সঙ্গে এত বছর জীবন কাটানো, তার কাছেই কি লুকিয়ে আছে সবচেয়ে বড় রহস্য?









