ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ব্যস্ততা শেষে ইউরোপ সফরে কিছুটা অবসর কাটিয়েছেন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে ভেনিসে অংশ নেওয়ার পর মাদ্রিদে সুনেরাহ ঘুরেছেন শহরের বিখ্যাত প্রাদো জাদুঘর। শিল্পকর্ম দেখতে দেখতে মুগ্ধ হয়েছেন অভিনেত্রী। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভ্রমণের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।
সুনেরাহর এবারের ইউরোপ সফরের শুরুটা হয়েছিল সিনেমাকে ঘিরে। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্বাচিত হয় ২০২৬ সালের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের Orizzonti Competition বিভাগে। ৬ সেপ্টেম্বর ছবিটির প্রদর্শনী হয় ভেনিসের সালা দারসেনায়। ছবিটির প্রধান অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় সুনেরাহ বিনতে কামাল।

ভেনিসে নিজের সিনেমার প্রদর্শনী ছাড়াও উৎসবের নানা আয়োজনে অংশ নেন অভিনেত্রী। সিনেমাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। ভেনিসের ব্যস্ততা শেষ হওয়ার পর এবার কিছুটা অন্যভাবে সময় কাটানোর সুযোগ পান তিনি।
মাদ্রিদের প্রাদো জাদুঘরে সুনেরাহ
ভেনিস পর্ব শেষে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে যান সুনেরাহ। সেখানে তাঁর গন্তব্য ছিল মুসেও নাসিওনাল দেল প্রাদো, সংক্ষেপে প্রাদো জাদুঘর। ইউরোপের শিল্প-ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই জাদুঘরের সংগ্রহে স্পেনের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন সময়ের বিখ্যাত শিল্পীদের কাজ রয়েছে।
প্রাদোর সংগ্রহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নির্দিষ্ট কয়েকজন শিল্পীর বিপুলসংখ্যক কাজ এখানে সংরক্ষিত আছে। জাদুঘরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এল গ্রেকো, ভেলাসকেস, গয়া, রুবেন্স, তিতিয়ান ও বসের মতো শিল্পীদের বড় সংগ্রহ রয়েছে এখানে।

স্প্যানিশ চিত্রকলার সংগ্রহটিও বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। ১২শ শতক থেকে ১৯শ শতকের শুরুর সময় পর্যন্ত স্প্যানিশ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করে প্রাদোর সংগ্রহ। শুধু ভেলাসকেসেরই ৪৮টি কাজ রয়েছে জাদুঘরটিতে। ফ্রান্সিসকো দে গয়ার কাজের সংগ্রহও এখানে উল্লেখযোগ্য জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, গয়ার ১৩০টি চিত্রকর্ম রয়েছে।
‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে’ গেলেন অভিনেত্রী
প্রাদো ঘুরে সেই অভিজ্ঞতার ছবিও নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন সুনেরাহ। ছবিগুলোতে কখনো তাঁকে শিল্পকর্মের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, আবার কোনো ছবিতে দেখা গেছে জাদুঘরের ভেতরের পরিবেশ।
ছবির ক্যাপশনে সুনেরাহ লিখেছেন, তিনি যেন শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। ভেনিসে যেখানে সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, মাদ্রিদে এসে সেই ব্যস্ততার বাইরে শিল্পের সামনে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন অভিনেত্রী।

প্রাদোর সংগ্রহে থাকা বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেলাসকেসের ‘লাস মেনিনাস’, গয়ার ‘দ্য ফ্যামিলি অব কার্লোস ফোর্থ’, এল গ্রেকোর ‘দ্য নোবেলম্যান উইথ হিজ হ্যান্ড অন হিজ চেস্ট’, রুবেন্সের ‘দ্য থ্রি গ্রেসেস’ এবং বসের ‘দ্য গার্ডেন অব আর্থলি ডিলাইটস’।
মাদ্রিদে সুনেরাহর পোশাকেও দেশীয় ছোঁয়া
ইউরোপ সফরের পোশাক নিয়েও সচেতন ছিলেন সুনেরাহ। মাদ্রিদের প্রাদো জাদুঘরে ঘোরার সময় তিনি পরেছিলেন ডিজাইনার সামিয়া খানের তৈরি সিল্কের নকশি স্টিচের একটি স্কার্ট। পোশাকটি ভেনিসে সঙ্গে নিয়ে গেলেও সেখানে পরার সুযোগ হয়নি তাঁর। পরে মাদ্রিদে গিয়ে সেটি পরেন অভিনেত্রী।
দেশীয় নকশার এই পোশাকের সঙ্গে ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের পরিবেশ সুনেরাহর প্রকাশ করা ছবিতে দুই সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনও চোখে পড়েছে।

ভেনিস এখন সুনেরাহর প্রিয়
ইউরোপ সফর শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সুনেরাহ। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁর পছন্দের গন্তব্যের তালিকাতেও পরিবর্তন এনেছে। আগে থাইল্যান্ড ছিল তাঁর পছন্দের জায়গা। তবে ভেনিস ঘুরে আসার পর সেই পছন্দ বদলে গেছে।
এখন ভেনিসই সুনেরাহর সবচেয়ে প্রিয় ভ্রমণগন্তব্য। সুযোগ পেলে আবার সেখানে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
সিনেমার আন্তর্জাতিক উৎসব থেকে ইউরোপের শিল্পের জগৎ এবারের সফরে সুনেরাহর অভিজ্ঞতার পরিধি ছিল বেশ বড়। ভেনিসে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর প্রদর্শনী, এরপর মাদ্রিদে প্রাদো জাদুঘর ঘুরে দেখা দুই অভিজ্ঞতাই তাঁর ইউরোপ সফরকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।









