অস্কারে ছবি জমার সময় ফুরিয়ে আসছে, অথচ বাংলাদেশ থেকে এখনো কোনো সিনেমা আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি। ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য সিনেমা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা। হাতে আর মাত্র চার দিন। এরই মধ্যে সম্ভাব্য সিনেমা হিসেবে আলোচনায় এসেছে মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দেলুপি’ ও রেদওয়ান রনির ‘দম’।
গত ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের সিনেমা জমা দেওয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ অস্কার কমিটি। সময়সীমা প্রায় শেষ হলেও এখনো কোনো আবেদন না পড়ায় শেষ মুহূর্তের অপেক্ষাই বাড়ছে।
তবে কয়েকটি সিনেমার টিম কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছেন অস্কার বাংলাদেশ কমিটির সাবমিশন কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল মারুফ। তাঁর ভাষ্য, আগ্রহী দলগুলোকে অনলাইনে আবেদন ও সিনেমা জমা দেওয়ার নিয়ম জানানো হয়েছে।

‘দেলুপি’ নিয়ে আগ্রহ
মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম পরিচালিত ‘দেলুপি’ সিনেমাটি অস্কারে পাঠানোর বিষয়ে কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এর টিম। সিনেমাটি জমা দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া আরও তিনটি সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজক শুরুতে কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে অবশ্য তাঁরা আর যোগাযোগ করেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন কোন সিনেমা আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিশোর ‘দম’ও আলোচনায়
অস্কারে সম্ভাব্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে আফরান নিশো অভিনীত ‘দম’। রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমাটি জমা দিতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আগ্রহী বলে জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মারুফ।
তিনি জানান, নিশো অভিনীত একটি সিনেমা অস্কারে জমা দেওয়ার বিষয়ে একটি টিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরে জানা যায়, সেটি রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’।
আগ্রহের কথা জানানো সিনেমাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন করে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

সিনেমা জমার শর্ত
অস্কারের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে কোনো সিনেমা জমা দিতে হলে সেটি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে হবে।
সিনেমাটি সাধারণ দর্শকের জন্য বাণিজ্যিকভাবে অন্তত টানা সাত দিন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হওয়ার শর্তও রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেলে সে-সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ অস্কার কমিটির কাছে জমা দেওয়ার বিধান আছে।
আগে ওটিটিতে মুক্তি পেলেই বিপত্তি
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে কোনো সিনেমা টেলিভিশন, পে-পার-ভিউ, ওটিটি বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রদর্শিত হলে সেটি অস্কারের জন্য অযোগ্য হতে পারে। ডিভিডি, বিমানে প্রদর্শন কিংবা ইন্টারনেটে প্রচারের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ।
এ ছাড়া সিনেমাটির সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ মূলত বাংলাদেশের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের হাতে থাকতে হবে। আবেদনে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে কিংবা একাডেমির নিয়মের বাইরে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
১৬ সেপ্টেম্বর শেষ সময়
অনলাইনে আবেদন ও সিনেমা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১২টা। এরপর জমা পড়া সিনেমাগুলো পর্যালোচনা করবে জুরিবোর্ড।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে জুরিবোর্ডের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সেদিনই জানা যাবে, কোন সিনেমাটি বাংলাদেশের হয়ে অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিযোগিতা করবে।
আব্দুল্লাহ আল মারুফের কথায়, প্রতিবছরই শেষ দিনে সিনেমা জমা পড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এবারও তাই হলে শেষ মুহূর্তেই পরিষ্কার হবে বাংলাদেশের অস্কার দৌড়ে কোন সিনেমাগুলো থাকছে।
গত বছর বাংলাদেশ থেকে অস্কারে পাঠানো হয়েছিল ‘বাড়ির নাম শাহানা’। এবার সেই তালিকায় কোন সিনেমা জায়গা করে নেয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।







