দামাভান্দ বিদ্যুৎ কেন্দ্র
ইরানের দামাভান্দ বিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষায় শিল্পীর অভিনব প্রতিবাদ সবাইকে চমকে দিয়েছে। ইরানি সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার এবং তার (Tar) বাদক আলী গামসারি, ইরানের দামাভান্দ বিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষা করার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রীর সামনেই গান গাইতে বসেছেন। এ নিয়ে তিনি বলেছেন যে, তিনি তার বাদ্যযন্ত্রসহ তেহরানের নিকটবর্তী দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করবেন। তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা প্রতিরোধে সহায়তার জন্য তিনি সেখানে সঙ্গীত করতে চান।
ইরানি এই তার বাদক, সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী জানান যে সোমবার থেকে তিনি এই পদক্ষেপ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কিছু সময়ের জন্য ওই স্থানে থাকবেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সঙ্গীতশিল্পীর বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা যায় ঘামসারি একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে বসে শান্তভাবে তার বাজাচ্ছেন। তার হলো ফার্সি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি প্রধান বাদ্যযন্ত্র। ফার্সি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে দক্ষতার জন্য পরিচিত ঘামসারি এই পরিবেশনাকে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেহরানের অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ এই কেন্দ্র থেকেই সরবরাহ করা হয়। গামসারি বলেন, তিনি তার বাদ্যযন্ত্রসহ ওই স্থানে থাকবেন এটিকে রক্ষা করতে।
তিনি বলেন, ওই স্থানটিকে রক্ষা করতে এবং ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা প্রতিরোধে সহায়তার প্রচেষ্টর অংশ হিসেবে তিনি সেখানে থাকবেন এবং সঙ্গীত সৃষ্টি করবেন। এই পদক্ষেপটিকে যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। এ নিয়ে তাঁর ভাষ্য তিনি সংগীতকে এই সুরক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন।
দামাভান্দ বিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষায় শিল্পীর বার্তা
“হ্যালো, আমার প্রিয় বন্ধুরা। আমি এখন দামাভান্দ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আছি। আমি বলতে পারছি না যে, ‘ইশ, তোমরাও যদি আমার সাথে এখানে থাকতে’, কারণ এই জায়গাটিতেই হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা আমি আশা করি ঘটবে না। আমি আশা করি আমার তারের শব্দ শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রভাব ফেলবে, ঘরবাড়ির আলো নিভে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করবে,” এক ভিডিওতে আলী গামসারি বলেন।
গামসারির এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে যখন আমেরিকা-ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোগুলোকে ধ্বংস করে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে। যে কারণে এইসব অবকাঠামো অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খোলার দাবির জেরে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোর ওপর আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন। যারা কারণে একই সাথে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বৃহত্তর সংঘাত ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।


