শ্রেয়া ঘোষাল
এই সময়ের সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। সবরকম গানই তিনি গেয়েছেন। ‘মেরে ঢোলনা’ থেকে ‘চিকনি চামেলি’। বিভিন্ন ঘরানার অসংখ্য গান গেয়ে অনুরাগীদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি শ্রেয়া ঘোষাল জানিয়েছেন নারীদের প্রতি অসম্মানজনক কোন গান তিনি আর গাইবেন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানান, ভবিষ্যতে সব ধরনের গান আর গাইবেন না। বিশেষ করে ‘চিকনি চামেলি’-ধরনের গান থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, ছবিতে গানটি পর্দায় পরিবেশন করেছিলেন ক্যাট্রিনা কাইফ আর কণ্ঠ দিয়েছিলেন শ্রেয়া নিজে। গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও এখন সেটিকে নতুন দৃষ্টিতে দেখছেন তিনি।

শ্রেয়ার কথায়, তখন গানটি গাইতে তাঁর অস্বস্তি হয়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। এখন গান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি আরও সচেতন। ‘চিকনি চামেলি’ জনপ্রিয় হওয়ার পর একই ধরনের বেশ কিছু গানের প্রস্তাব তাঁর কাছে আসে। তবে সেসব গানে নারীদের ‘অবজেক্টিফাই’ করা হয়েছে বলে মনে হওয়ায় তিনি প্রস্তাবগুলো ফিরিয়ে দেন।
এক গীতিকার বন্ধুর লেখা একটি গানে ‘আমাকে চিকেন বানিয়ে খেয়ে নাও’—ধরনের লাইন থাকায় সেটিও নাকচ করেন তিনি। এছাড়া চিকনি চামেলি গান নিয়ে শ্রেয়া বলেন, “গানটি কেব ল একটি মজার গান নয়; এতে অনেক শৈল্পিকতা আছে। এর টোন-ডাউন ভার্সনও ছিল। অবশেষে ছবিতে যেটি প্রকাশিত হয়েছিল তা মূল খসড়াগুলির চেয়ে আরও সূক্ষ্ম ছিল, যদিও এখনও গানটি বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। সেই সময়ে, আমি বুঝতে পারতাম না যে আমি কী গাইছি। আমি নির্দিষ্ট কিছু লাইনের অর্থ পুরোপুরি বুঝতে যথেষ্ট পরিণত ছিলাম না তখন।”
শ্রেয়া ঘোষাল নারীদের প্রতি সহমর্মী যে কারণে হলেন
রাজ শামানি উল্লেখ করেন যে, নারীকে বস্তুকরণের বিরুদ্ধে কথা বলার পরও কনসার্টে গানটি পরিবেশন করেছেন, তখন শ্রেয়া ঘোষাল স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি এটি গাইতে লজ্জিত নন।

“হ্যাঁ, আমি এটা পরিবেশন করেছি। আমার গানটা ভালো লেগেছে। আমার মনে হয় এটা ভালো। কিন্তু আমি আর এভাবে গান রেকর্ড করব না। আমি লজ্জিত নই। আমি সেই সময় গানটা গেয়েছিলাম। এটি এমন একটি গান যার সাথে আমাকে সবসময় থাকতে হবে, যেখানে শ্রোতাদের মধ্যে থাকা শিশুরাও এই গানে নাচে। মাঝে মাঝে আমি চোখ বন্ধ করি কিন্তু আমি এই গানের মালিকানা অস্বীকার করতে পারি না। এটা আমারই গান। আমি এটার মালিক,” তিনি বলেন।
তবে ‘চিকনি চামেলি’ ধরনের গান তিনি আর গাইবেন না জানিয়েছেন। এ নিয়ে শ্রেয়া বলেন,

“কামুক, যৌনাবেদনময়ী হওয়া এবং সরাসরি নারীদের প্রতি আপত্তিকর বা সাধারণভাবে নারীদের প্রতি অবমাননাকর হওয়ার মধ্যে খুব সূক্ষ্ম একটি রেখা রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে আমি আরও সচেতন হয়ে উঠার কারণ হল আমি ছোট ছোট মেয়েদের এই গানগুলির অর্থ না বুঝেই গাইতে দেখি। তারা গানগুলোর সাথে নাচছে, এবং তারা আমার কাছে এসে বলছে, ‘ওহ, আমরা তোমার গানটি ভালোবাসি! আমরা কি এটা তোমার জন্য গাইতে পারি?’ এবং তখন আমি খুব বিব্রত বোধ করি। মাত্র পাঁচ বা ছয় বছর বয়সী একটি ছোট মেয়ে যখন, এই গানের কথাগুলো গাইছে, তখন সত্যি এটা ভালো শোনায় না।“


