ঈদে আলোচনার কেন্দ্রে প্রিন্স
ঈদকে ঘিরে দেশের বিনোদন অঙ্গনে যখন নতুন ছবির আলোচনা জমে উঠেছে, তখন দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রে উঠে এসেছে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত সিনেমা প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা। ‘প্রিন্স’ সিনেমার প্রথম দিনের আয় কত? এই প্রশ্নও এখন দর্শকদের আলোচনার বড় একটি অংশ হয়ে উঠেছে। মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বেশ জোরালোভাবে। এর অন্যতম কারণ, নব্বই দশকের বহুল আলোচিত আন্ডারওয়ার্ল্ড চরিত্র কালা জাহাঙ্গীরকে ঘিরে নির্মিত গল্পের আবহ। সেই পরিচিত ছায়া থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হওয়া এই ছবিকে ঘিরে দর্শকের মধ্যে শুরু থেকেই এক ধরনের বাড়তি প্রত্যাশা কাজ করেছে।

প্রথম দিনের প্রদর্শনীতে আশাব্যঞ্জক সাড়া
প্রদর্শনের প্রথম দিনেই সিনেমাটি যে আলোচনায় চলে এসেছে, তার পেছনে রয়েছে হলভিত্তিক ভালো সাড়া। বিএমআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কিছু ই টিকিটিং সুবিধাসম্পন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির সূচনা ছিল আশাব্যঞ্জক। যদিও জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সে এদিন ছবিটির কোনো শো ছিল না, তবু অন্য হলগুলোতে দর্শক উপস্থিতি নির্মাতাদের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। প্রথম দিনেই ছবিটি ডাবল ডিজিট আয় ছুঁয়েছে, যা বর্তমান বাজার বাস্তবতায় অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।
৩১টি শোর মধ্যে ২৬টি ছিল হাউজফুল
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, লায়ন সিনেমাস, গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার, মন ইন, মনিহার সিনেপ্লেক্স, মধুবন সিনেপ্লেক্স, শ্যামলী, সিনেস্কোপ এবং গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স মিলিয়ে মোট ৩১টি শো অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৬টি শো ছিল পুরোপুরি হাউজফুল। আরও একটি শো ছিল প্রায় পূর্ণ। সব মিলিয়ে দিন শেষে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা। সংখ্যা বিচারে এটি কেবল একটি ভালো সূচনা নয়, বরং দর্শকের আগ্রহের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

কেবল অ্যাকশন নয়, সময়ের সামাজিক বাস্তবতারও আখ্যান
তবে এই ছবিকে কেবল বাণিজ্যিক সাফল্যের দিক থেকে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। প্রিন্স মূলত এমন এক সময়কে সামনে আনার চেষ্টা করেছে, যখন ঢাকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অপরাধ জগত এবং ক্ষমতার অদৃশ্য লড়াই একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে ছিল। মেজবাহ উদ্দিন সুমনের চিত্রনাট্যে সেই সময়ের পরিবেশ, মানসিকতা এবং চরিত্রগুলোর ভেতরের সংঘাতকে তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে। ফলে এটি শুধু অ্যাকশননির্ভর ছবি হিসেবে নয়, বরং একটি সময়ের সামাজিক বাস্তবতার চলচ্চিত্ররূপ হিসেবেও আলোচনায় আসতে পারে।
শাকিব খানের ভিন্নধর্মী উপস্থিতি
এই ছবিতে কালা জাহাঙ্গীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। দীর্ঘদিনের পরিচিত বাণিজ্যিক নায়কসুলভ ইমেজের বাইরে গিয়ে তিনি এখানে ভিন্ন ধরনের উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তার অভিনয়ে চরিত্রটির অন্ধকার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং মানসিক জটিলতা ফুটে উঠেছে কি না, সে বিচার শেষ পর্যন্ত দর্শকের। তবে এটুকু বলা যায়, নিজের প্রচলিত ঘরানা থেকে বেরিয়ে আসার এই প্রচেষ্টা তার ক্যারিয়ারে আলাদা মনোযোগ পাওয়ার মতো একটি পদক্ষেপ।
শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি
ছবিতে শাকিবের বিপরীতে রয়েছেন তাসনিয়া ফারিণ। এছাড়া কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুও এতে অভিনয় করেছেন। সঙ্গে ইন্তেখাব দিনার, রাশেদ মামুন অপু এবং ড. এজাজের মতো অভিনয়শিল্পীরা ছবির অভিনয়বিন্যাসকে আরও শক্তিশালী করেছেন। বৈচিত্র্যময় লোকেশনে শুটিং হওয়ায় দৃশ্যায়নেও এসেছে আলাদা মাত্রা, যা বড় পর্দার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।
প্রথম দিনের সাড়া কতটা ধরে রাখতে পারবে প্রিন্স
সবকিছু মিলিয়ে প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা এখন শুধু একটি ঈদের ছবি নয়, বরং দর্শকের আলোচনার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। প্রথম দিনের আয় এবং শো ভর্তি হওয়ার খবর প্রমাণ করে, ছবিটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাস্তব। এখন দেখার বিষয়, এই আগ্রহ পরের কয়েক দিনেও একইভাবে ধরে রাখতে পারে কি না। কারণ প্রথম দিনের কৌতূহলকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে হলে শেষ পর্যন্ত মুখে মুখে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।


