Sunday, August 23, 2026

পরিমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া কে এই মাসরুর?

স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ  

স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ ? 

August 21, 2026
যে কারনে নিষিদ্ধ হয়েছে এসব বাংলা সিনেমা

যে কারনে নিষিদ্ধ হয়েছে এসব বাংলা সিনেমা

August 12, 2026

রূপবান থেকে বেদের মেয়ে, খাইরুন সুন্দরী

August 6, 2026
বাংলা সিনেমার ৭০ বছরের যাত্রা

বাংলা সিনেমার ৭০ বছরের যাত্রা

July 30, 2026
পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের অপেক্ষায় বলিউড তারকা টাইগার শ্রফ

পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের অপেক্ষায় বলিউড তারকা টাইগার শ্রফ

July 29, 2026

সম্প্রতি চিত্রনায়িকা তমা মির্জার এবি ব্যাংকে যোগদানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকিং ও বিনোদনজগতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পরীমনি-মাসরুর জুটির পুরনো বিতর্কও আবার সামনে এসেছে। সেই সূত্রে মাসরুর নামটি শুনেই সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিনের নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে পরীমনিকে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দেওয়ার অভিযোগ তিনি শুরু থেকেই স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তাহলে এখন প্রশ্ন পরিমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া কে এই মাসরুর?  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবি এবং গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, পরীমনির গাড়ি বিতর্কে আলোচিত ‘মাসরুর’ আসলে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন নন। ওই ব্যক্তি ছিলেন খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। তিনি সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে এবং হাসিনাকন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামী।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুর বিয়ে ও পরবর্তীকালে তাদের বিচ্ছেদের বিষয়টি সবার জানা।

সূত্রের দাবি, বোট ক্লাব-কাণ্ডের পর পরীমনিকে দামি গাড়ি উপহার দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা হারুনের মন্তব্যে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুর নামের ইঙ্গিত ছিল। সাংবাদিকদের সামনে এ নিয়ে রাজনৈতিক ভুল হওয়ার পরপরই ডিবি কর্মকর্তা হারুন মাসরুর হোসেন নামটিকে আড়াল করতে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের নাম সামনে নিয়ে আসেন। সে সময় তৎকালীন সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যানের ভাই শওকত আজিজ রাসেলের সঙ্গে হারুনের বিরোধও তুঙ্গে ছিল।

পরিমনি

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হারুন এ ক্ষেত্রে একই সঙ্গে দুটি উদ্দেশ্য সাধন করেছিলেন-খন্দকার মাসরুর হোসেনকে আড়াল করা এবং সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনকে বিতর্কে জড়িয়ে ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেলের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া।

ঘটনার কিছুদিন আগে দুবাইয়ে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুর সঙ্গে পরীমনির সাক্ষাতের বিষয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও মাসরুর হোসেন মিতুর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় এবং এর জেরেই তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই বক্তব্যে আরও বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে এসব আলোচনা বা দাবির সত্যতা তখন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে পরীমনিকে মামলা ও অন্যান্য আইনি জটিলতায় রাখার পেছনেও প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বয়ানের মূল কথা হলো, খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুকে—অর্থাৎ হাসিনাকন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামীকে—পরীমনির সঙ্গে জড়িত ‘মাসরুর’ হিসেবে আড়াল করতে গিয়ে একই নামের কারণে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনকে অসম্মান ও অভিযোগের মুখে ফেলা হয়েছিল।

২০২১ সালে পরীমনির গাড়ি বিতর্কে মাসরুর আরেফিনের নাম

পরীমনিকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের মাসেরাতি গাড়ি উপহার দেওয়ার আলোচিত গুঞ্জনে ২০২১ সালের আগস্টে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিনের নাম আসে। ওই সময় প্রকাশিত সংবাদে তার সঙ্গে পরীমনির কথিত অডিও রেকর্ডে গাড়ি উপহারের প্রসঙ্গ থাকার দাবি করা হয়।

দৈনিক ইত্তেফাকের একই প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরীমনির ঘনিষ্ঠতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে সংবাদ প্রকাশের পরপরই মাসরুর আরেফিন অভিযোগটি অস্বীকার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পরীমনি নামে কাউকে তিনি কখনো দেখেননি, তার সঙ্গে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ নেই এবং তার ফোন নম্বরও তার কাছে থাকার প্রশ্ন আসে না।

মাসরুর আরেফিন তখন বলেন, তার জীবনের বড় অংশ ব্যাংকিংয়ের কাজ ও সাহিত্যচর্চায় কাটে। তিনি কোনো ক্লাব বা পার্টিতে যান না বলেও দাবি করেন। তার বক্তব্য ছিল, ঢাকার যারা ক্লাবকেন্দ্রিক সামাজিক পরিসরে চলাফেরা করেন, তাদের কেউ তাকে সেখানে দেখেছেন—এমন দাবি করতে পারবেন না।

তার পোস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল সংবাদে ব্যবহৃত ব্যাংক চেয়ারম্যানের নাম নিয়ে। তিনি বলেন, ‘শওকত রুবেল’ নামে সিটি ব্যাংকের কোনো চেয়ারম্যান নেই। তার ধারণা ছিল, প্রতিবেদনে হয়তো ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেলের নাম ভুলভাবে লেখা হয়েছে।

মাসরুর আরেফিনের বক্তব্য ছিল, ব্যাংক চেয়ারম্যানের পরিচয় পর্যন্ত ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়ে থাকলে একই প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে তোলা গাড়ি উপহারের অভিযোগ কোন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।

ইত্তেফাকের ভুল স্বীকার

ঘটনার কয়েক দিনের মাথায়, ২৪ আগস্ট ২০২১ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় ভুল স্বীকার করে একটি সংবাদ প্রকাশ করে।

সেখানে বলা হয়, ৮ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ‘পরীমনি ও পিয়াসার সঙ্গে ২১ প্রভাবশালীর সম্পর্ক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের এক স্থানে ভুলবশত একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নাম ছাপা হয়েছিল। একই সংবাদে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নামও প্রকাশ করা হয়েছিল।

ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে, দুটি তথ্যই ভুল ছিল। সংবাদটিতে আরও বলা হয়, পরীমনির ঘটনার সঙ্গে মাসরুর আরেফিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তার নাম ভুলবশত প্রকাশিত হওয়ায় ও এতে তার ব্যক্তিমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় ইত্তেফাক দুঃখ প্রকাশ করছে। পাশাপাশি সিটি ব্যাংকের এমডির মর্যাদাহানির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং অনভিপ্রেত ভুলের জন্য তার ও তার পরিবারের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

ফলে পরীমনির গাড়ি বিতর্কে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘মাসরুর’ নামটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি। ২০২১ সালের সংবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের নাম উঠে এলেও তিনি তা অস্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে দৈনিক ইত্তেফাকও তার নাম প্রকাশকে ভুল হিসেবে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য ও সূত্রের দাবি হলো, ওই বিতর্কে আলোচিত ‘মাসরুর’ ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামী খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু-মাসরুর আরেফিন নন।

Share

Read more

Local News