ইরানি নির্মাতা ফরহাদি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে অস্কারজয়ী ইরানি নির্মাতা ফরহাদির প্রতিবাদ । ইরানে বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষায় বিশ্বজুড়ে শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুইবারের অস্কারজয়ী ইরানি নির্মাতা আসগর ফরহাদি। এদিকে আজ বুধবার ইরান ১০ দফা শর্তে আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ফরহাদি বলেন, এই সংকটময় সময়গুলোতে বিশ্বজুড়ে শিল্পী ও নির্মাতাদের আওয়াজ তোলা জরুরি, যাতে ধ্বংসাত্মক এই আগ্রাসন থামানো যায়। তিনি উল্লেখ করেন, অবকাঠামোর ওপর হামলা শুধু স্থাপনা ধ্বংস নয়; বরং মানুষের জীবন ও মর্যাদার ওপর আঘাত।

ফরহাদি বলেন, ‘একটি দেশের অবকাঠামোর ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধ। যেকোনো মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে এই অমানবিক ও অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধে সবাইকে একত্র হতে হবে।’ ফরহাদির এই আহ্বান মঙ্গলবার প্রকাশ করেন ইরানি সাংবাদিক মনসুর জাহানি। পরে বিষয়টি ভ্যারাইটিকে নিশ্চিত করেন ফারহাদির প্যারিসভিত্তিক প্রযোজক আলেকজান্দ্র মালে-গি।
ইরানি সভ্যতা গুড়িয়ে দেয়ার হুমকি
ইরানকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানায়, তারা স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান চায়। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইঙ্গিত দেন, হামলার লক্ষ্য বেসামরিক অবকাঠামোতেও বিস্তৃত হতে পারে। এছাড়া পুরো ইরানি সভ্যতা গুড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প যার ফলেই ফরহাদির এই আহবান।
আসগর ফরহাদি ‘আ সেপারেশন’ (২০১১) ও ‘দ্য সেলসম্যান’ (২০১৬) চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার পান। তিনি ২০২৩ সাল থেকে ইরানের বাইরে বসবাস করছেন। আসগর ফরহাদির নতুন চলচ্চিত্র ‘প্যারালেল টেলস’ আগামী মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার কথা। এতে অভিনয় করেছেন ফরাসি সিনেমার শীর্ষ তারকারা-ইসাবেল হুপার, ভাঁসাঁ কাসেল ও কাত্রিন দ্যনোভ।
১০ দফা শর্তে যুদ্ধবিরতি
এদিকে, আজ বুধবার ইরান ও আমেরিকা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ টুইট করে ঘোষণা দিয়েছেন-ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব প্রতিরোধ ফ্রন্টে প্রযোজ্য।
যুদ্ধবিরতি শুধু ইরানের মূল ভূখণ্ডে আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা পুরো অঞ্চলে প্রযোজ্য হবে। লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ, ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধ, ইরাক-সিরিয়ায় আমেরিকান ঘাঁটিতে হামলা সবকিছু বন্ধ হবে এই যুদ্ধবিরতিতে।

শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে আগামী শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এই ঐতিহাসিক বৈঠকের জন্য।
ইরান ১০ দফা শর্ত দিয়ে এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে। এছাড়া ইসরায়েল নিয়ে ইরানের ভাষ্য- আমেরিকাকেই তার মিত্র ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করে লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক ও ফিলিস্তিনসহ সব প্রতিরোধ ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। তবে, ইসরায়েল এখনো এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন যে, বিশেষ করে লেবানন ফ্রন্টে এই চুক্তি তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ইরান জানিয়েছে যদি আমেরিকা এই ১০ শর্তের একটিরও ব্যত্যয় দেখে তবে তা চুক্তিভঙ্গ বলে বিবেচিত হবে।
সংক্ষেপে ইরানের ১০-দফা মূল দাবি:
১. ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন না করার লিখিত গ্যারান্টি
২. হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ
৩. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
৪. সব প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া
৫. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আইএইএ বোর্ড অফ গভর্নরসের সব রেজোলিউশন বাতিল
৬. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান
৭. মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন যুদ্ধবাহিনী ও ঘাঁটি প্রত্যাহার
৮. লেবানন (হিজবুল্লাহ), ইয়েমেন (হুথি), ইরাক ও ফিলিস্তিনসহ সব প্রতিরোধ ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ
৯. বিদেশে আটকে থাকা সব ইরানি সম্পদ মুক্তি
১০. পুরো চুক্তিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক রেজোলিউশনে রূপান্তর, যা “binding international law” তে রূপান্তরিত হবে।


