মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মাহবুবা রহমানকে দাফন
চলে গেলেন ‘মুখ ও মুখোশ’ কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান । দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’র গায়িকা ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাহবুবা রহমানের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

দীর্ঘ ধরে ভুগছিলেন শারীরিক জটিলতায়
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,মাহবুবা রহমান দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ৭ মার্চ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বার্ধক্যজনিত সমস্যার সঙ্গে নিউমোনিয়ার আক্রমণ ছিল।
অল্প বয়সেই সংগীতে পথচলার শুরু
১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া মাহবুবা রহমান খুব অল্প বয়সেই সংগীতে যাত্রা শুরু করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্র থেকে তার গান প্রচারিত হয়। তখন তিনি নিভা রানী রায় নামে গান করতেন। পড়াশোনা শেষ করে পুরোপুরি সংগীতেই মন দেন তিনি।

সোনালি সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী
পঞ্চাশ ও সত্তরের দশকে রেডিও ও চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তার দক্ষতা ছিল অসাধারণ। ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। এছাড়া বহু চলচ্চিত্রে তিনি নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন এবং শতাধিক গান গেয়েছেন। মাহবুবা রহমান নিজের সংগীতগুরু মমতাজ আলী খানের সুরে অনেকগুলো গান করেন। দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া এসব গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘বৈদেশি নাগর’, ‘যাইও না যাইও না বৈদেশে যাইও না’ এবং ‘সাত ভাই চম্পা’ ছবির ‘আগুন জ্বালাইস না আমার গায়’ ।

উল্লেখযোগ্য গান ও অবদান
তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’, ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’, ‘আমার গলার হার খুলে নে’ এবং ‘আগুন জ্বালাইস না আমার গায়’ বিশেষভাবে জনপ্রিয়। মমতাজ আলী খানের সঙ্গে তার দ্বৈত গানও একসময় মানুষের মুখে মুখে ছিল।

মাহবুবা রহমানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে মাহবুবা রহমান একুশে পদক লাভ করেন। তার কণ্ঠ, সুর এবং অবদান বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাহবুবা রহমান মৃত্যু একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
