অভিনেত্রী শিমলার সিনেমা যাত্রা
‘ম্যাডাম ফুলি’খ্যাত শিমলা বাড়ি থেকে পালালেন নায়িকা হওয়ার জন্য। এই বাড়ি পালানোর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে সিনেমা‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। মৌসুমী ও সালমান শাহ অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি দেখার পর নায়িকা হওয়ার ইচ্ছে জাগে শিমলার। বারবার দেখতে থাকেন পছন্দের সিনেমাটি। একসময় সিদ্ধান্ত নেন তাঁকে নায়িকাই হতে হবে। পরে নায়িকা হওয়ার জন্য তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে এলেন। প্রথম সিনেমা করেই করেন বাজিমাত। পেয়ে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
শিমলা সেই সময়ের কথা মনে করে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমি “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” দেখে নায়িকা হয়েছি। সিনেমাটি দেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ নকল করতাম। মাকে বললাম, আমি নায়িকা হব। মা ভাবলেন, আমি পাগলটাগল হয়ে গেলাম মনে হয়, ভাবলেন আমার মাথা ঠিক নাই। পড়াশোনা গেল গোল্লায়। কোনোমতে এসএসসি পাস করে ইন্টারে ভর্তি হই। সিনেমার নেশায় এরপর আর পড়াশোনা হয়নি।’

নায়িকা তো তাঁকে হতেই হবে। তাই করলেন আরেক সিনেম্যাটিক কান্ড। কিশোরী শিমলা তাঁর বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ঝিনাইদহ থেকে পালিয়ে চলে এলেন ঢাকায়। পরিচিতজনের মাধ্যমে পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। শিমলার সাহস দেখে পছন্দ হয় পরিচালক খোকনের। তাঁকে সুযোগ দেন এই পারচালক। এর পরেই ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবিতে নাম লেখান শিমলা,করেন বাজিমাত। প্রথম সিনেমা দিয়েই অর্জন করে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

‘ম্যাডাম ফুলি’ দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পরে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘পাগলা ঘণ্টা’, ‘ভেজা বেড়াল’সহ বেশ কিছু সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে জায়গা করে নেন তিনি। অল্প সময়েই ৩৫টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন শিমলা।
সিনেমায় কেন অনিয়মিত শিমলা?
২০১৫ সালের পর থেকে দেশের সিনেমায়শিমলাকে আর তেমনভাবে দেখা যায়না। তাঁর সমসাময়িক তারকাদের তুলনায় শিমলা অভিনীত ছবির সংখ্যা অনেক কম। বিষয়টিকে তিনি ভাগ্যের লিখন বলেই জানালেন। শিমলা বলেন, ‘আমার সময় পরিচালকেরা অন্য ব্যস্ত শিল্পীদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁরা আমাকে নিয়ে ভাবার সময় হয়তো পাননি। তাই যত বেশি কাজ করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি।
শিমলা কখনো ভালো ক্যারিয়ার নিয়ে খুব একটা ভাবেননি, শীর্ষেও যেতে চাননি। নিয়মিত কাজ করে যেতে চেয়েছেন। পছন্দমতো চরিত্র না পাওয়াটাও তাঁর কম কাজের কারণ বলে জানালেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে দর্শকেরা “ম্যাডাম ফুলি” নামে বেশি চেনে। একটি চরিত্র হয়ে দর্শকহৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারাটা একজন শিল্পীর অনেক বড় পাওয়া।’

বলিউডে শিমলা
সর্বশেষ ২০২০ সালের দিকে কাজ নিয়ে এই অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, ঢালিউড থেকে বলিউডে যাচ্ছেন। এ জন্য তিনি বেশ কয়েক বছর মুম্বাইয়ের মীরা রোডের একটি বাড়িতে ছিলেন। বলিউডে কাজ করার স্বপ্ন নিয়েই যাওয়া। সেই সময়ে বলেছিলেন ‘সফর’ নামের একটি ছবিতেও অভিনয় করবেন। কিন্তু পরে আর সিনেমাটি নিয়ে কিছু জানা যায়নি।
আওয়ামী লীগ টু বিএনপি বিতর্কে শিমলা
তবে সম্প্রতি আলোচনায় উঠে আসেন এই অভিনেত্রী। হঠাৎ করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়ে উঠেন। বছরখানেক আগে যিনি আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন নিতে চেয়েছিলেন এবার তাঁকে দেখা গেছে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণায়।
এ নিয়ে শিমলা গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘আমি মোটেও ভোল পাল্টাইনি। আমি একজন শিল্পী, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আর আমি যে কারও জন্য ভোট চাইতে পারি। এমনকি যেকোনো দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ার আগ্রহও প্রকাশ করতে পারি-এটাতে মোটেও কোনো সমস্যা দেখছি না। একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি কোনো দলের কর্মী নই। শিল্পী হিসেবে আমি সবার। যাকে মন চাইবে, আমি তার জন্য ভোট চাইব।’
সর্বশেষ ঢালিউডে ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শিমলা। সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডে আটকে যায়। এতে এক কিশোরের সঙ্গে তাঁকে প্রেম করতে দেখা যায়। বেশ কিছু দৃশ্য নিয়ে বিতর্কও হয়। এরপরে আর কোন সিনেমায় এখনো তাঁকে দেখা যায়নি।


