কথা বললেও এখনো জড়তা কাটেনি ইলিয়াস কাঞ্চনের
দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কে টিউমারজনিত সমস্যায় ভুগছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন । লন্ডনে একটি হাসপাতালে নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। ১০ মাস সেখানে চিকিৎসার পর কেমন আছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন? পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি। সেখানকার চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার নিয়মিত ফলোআপ চলছে।

লন্ডনে অস্ত্রোপচার ও থেরাপির অগ্রগতি
গত বছরের ৫ আগস্ট লন্ডনের একটি হাসপাতালে ইলিয়াস কাঞ্চনের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই তিনি থেরাপি নিচ্ছেন। ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, কয়েক ধাপে থেরাপি সম্পন্ন হয়েছে। আরও একটি ধাপ চলছে। চিকিৎসকরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আগামী ৩০ জুলাইয়ের পর তার পরবর্তী অবস্থার মূল্যায়ন করা হবে।
শারীরিক অবস্থায় সীমিত উন্নতি
বর্তমানে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনি টুকটাক কথা বলতে পারলেও কথায় জড়তা রয়েছে। স্বাভাবিক যোগাযোগে এখনো কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ধীরগতির পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এগোচ্ছেন। পরিবার আশাবাদী হলেও এখনও সম্পূর্ণ সুস্থতার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে সুস্থ মনে করা হয়। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন এবং মেয়ের বাসায় লন্ডনে অবস্থান করছেন। এসব ছবি দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। তবে ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আগের মতোই স্থিতিশীল, তবে উন্নতি ধীর।

শৈশব থেকে শিল্পী হয়ে ওঠা
ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবন শুরু হয় এক সাধারণ পরিবার থেকে। স্কুলজীবনে স্কাউটিং ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি। কবি নজরুল কলেজে পড়াশোনার সময় নাটকে অভিনয় শুরু করেন। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে সংগীত ও নাচের প্রশিক্ষণ নেন। ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়, যা পরে তাকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে যায়।
চলচ্চিত্রে অভিষেক ও জনপ্রিয়তা
১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর একে একে জনপ্রিয় সব সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘ভেজা চোখ’, ‘মাটির কসম’সহ অসংখ্য ছবিতে তার অভিনয় দর্শকপ্রিয়তা পায়। তার বৈচিত্র্যময় অভিনয় তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতীক
ব্যক্তিগত জীবনে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী হারানোর পর তিনি গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। এই আন্দোলন আজ জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। চলচ্চিত্রের বাইরে সামাজিক আন্দোলনেও তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
বর্তমানে তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। পরিবার, সহকর্মী ও ভক্তরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। চিকিৎসকরা ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। ধীরে ধীরে উন্নতির আশা থাকলেও পুরোপুরি সুস্থতা এখনও সময়সাপেক্ষ। সবাই একটাই প্রত্যাশা করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
