সরকার ও শোবিজ
সম্প্রতি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত হয়েছে রাজনৈতিক সরকার। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথও নিয়েছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। তাদের কাছে আর সবার মতো শোবিজ তারকাদেরও রয়েছে নানা চাওয়া। নবগঠিত সরকারের কাছে শোবিজের চার তারকা কি চেয়েছেন, বলেছেন চলুন জেনে নেয়া যাক।
আবুল হায়াত

দেশের জনপ্রিয় ও বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত নতুন সরকারের কাছে তাঁর ভাবনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,’সেই পাকিস্তান আমলেও টেলিভিশন ও বেতারে যে স্বায়ত্তশাসন ছিল, আস্তে আস্তে তাও বিলুপ্ত হয়ে গেল। যখন স্বায়ত্তশাসন ছিল, তখন যে ধরনের সৃজনশীল অনুষ্ঠান তৈরি হতো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো, সেগুলোও আস্তে আস্তে নিভে যেতে লাগলো। যা ইচ্ছা, তা-ই অনুষ্ঠান হতে লাগল। আমি মনে করি, স্বায়ত্তশাসন থাকলে শিল্পকর্মটা যথাযথ বিকশিত হতে পারে। টেলিভিশনে স্বজনপ্রীতি বাদ দিয়ে সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। টেলিভিশন ও বেতারের স্বায়ত্তশাসন খুবই প্রয়োজন। এটা জরুরি।‘
ফরিদা আক্তার ববিতা

দর্শকের ভালোবাসা একজন শিল্পীর শক্তি। দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে সেই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা হারানো উচিত নয়। আমি বিশ্বাস করি, সময়ের সঙ্গে শিল্পীর মর্যাদা বাড়ে, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। তাই শিল্পীদের জন্য নিরপেক্ষ অবস্থানই সম্মানজনক ও দীর্ঘস্থায়ী। নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা, শিল্পীদের রাজনৈতিক বলয়ে টেনে আনবেন না। আর শিল্পীরাও যেন ব্যক্তিগত সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন।
দ্বিতীয়ত, চলচ্চিত্রশিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হোক, এটাও প্রত্যাশা করি। অনেক জেলাই আজও প্রেক্ষাগৃহশূন্য। সারা দেশে আধুনিক ও মানসম্মত সিনেমা হল নির্মাণ বা পুনরুদ্ধারে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। মফস্সল শহরগুলোতে আবারও প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক সংস্কৃতির জাগরণ ঘটুক, এ নিয়ে সরকারের কার্যকর ভূমিকা দেখতে চাই।
নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি

গত দেড় বছরে তথ্য এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে আমি হতাশ। নতুন সরকারের এই দুই বিভাগে থেকে তাই আশাবাদী হতে চাই। প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও কোনো শিল্পীকে একঘরে করার চর্চাটা মোটেও ঠিক নয়। একজন সাধারণ মানুষ যদি রাজনীতির অংশ হন, তাহলে একজন শিল্পী কেন হতে পারবেন না। একজন শিল্পী বিএনপি পছন্দ করবেন, নাকি আওয়ামী লীগ পছন্দ করবেন, নাকি জাতীয় পার্টি-এটা একান্তই তাঁর ব্যাপার। শিল্পীর যোগ্যতা থাকলে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই সরকারের পথচলা উচিত। আর কিছু শিল্পী আছেন, সুযোগ পেলেই যাঁরা এর সঙ্গে ওর সঙ্গে ছবি টাঙিয়ে দেন-এ ধরনের যাঁরা, তাঁদের শিল্পী হিসেবে না দেখে অতিথি পাখি হিসেবে দেখা হোক। এঁদের ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত। আর কোনো শিল্পী যদি দলীয় ব্যানারে সুযোগ নিতে চান, তাঁর ব্যাপারেও সতর্ক থাকা উচিত। শিল্পীকে তাঁর শিল্পকর্ম দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।
আজাদ আবুল কালাম

গেল দেড় বছরে শিল্প-সংস্কৃতিতে আমরা যেসব মব দেখেছি, হামলা দেখেছি, তা কিন্তু শেষ হয়নি। আগামী দিনে শক্তভাবে এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা যারা শিল্প-সংস্কৃতিতে কাজ করি, মুক্তমনে তারা যাতে কাজ করতে পারি, এই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়াটা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। বাউল দেখলে যন্ত্রানুষঙ্গ কেড়ে নেওয়া, কনসার্ট পণ্ড করা—এসব মোটেও চলবে না। দেশে এই যে মব তৈরি হয়েছে, এটা কিন্তু বেশি দিনের নয়, ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন যেমন হয়েছে, তেমনি এর পরে অদ্ভুত একটা উগ্রবাদের বিস্ফোরণও হয়েছে। ছায়ানট, উদীচী, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পুড়িয়ে দিয়েছে। এদের টার্গেট তো বোঝা যায়। নির্বাচনের পরই এরা হাওয়া হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা মোটেও উচিত হবে না। যারা এগুলো করেছে, তাদের যথযাথ বিচারের আওতায় আনা সরকারের উচিত। একেবারে শুরু থেকে এসব ব্যাপারে সরকারের কঠোর হওয়া উচিত। মবতন্ত্রের ব্যাপারে সরকারের সাবধান থাকা খুব জরুরি। এই সরকারের পক্ষে সহজেই এগুলো করা সম্ভব। কারণ, তারা মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে।


