Thursday, November 5, 2026

তারকা বাবা-মায়ের সন্তান – তবুও বলিউডে ব্যর্থ যারা

ভারতীয় ছবির ছায়ায় বাংলাদেশি ৪ সিনেমা

November 2, 2026
রজনীকান্ত কেন সুপার স্টার ?

রজনীকান্ত কেন সুপার স্টার ? 

October 26, 2026

অমিতাভ বচ্চন – যে গল্প কখনো বলা হয়নি

October 16, 2026

আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা নায়িকা কে ?

October 12, 2026

সালমান শাহ কেন এত অল্প সময়ে কিংবদন্তি হয়ে গেলেন?

October 2, 2026

বলিউডে তারকা বাবা-মায়ের সন্তানদের অভিষেকটা তুলনামূলক সহজ। পারিবারিক নাম, বড় প্রযোজনা সংস্থার সমর্থন আর নামী পরিচালকের ছবি, শুরুতেই মেলে বাড়তি সুবিধা আর জমকালো প্রচার।

কিন্তু সেই সুবিধাই যে দীর্ঘ সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়, তা প্রমাণ করেছেন অনেকেই। কেউ প্রথম ছবির পরই হারিয়ে গেছেন, কেউ বারবার সুযোগ পেয়েও নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেননি।

তারকা বাবা-মায়ের সন্তান হয়েও ব্যর্থ যারা

উদয় চোপড়া। যশরাজ ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা যশ চোপড়ার ছোট ছেলে। ২০০০ সালে ‘মহব্বতে’ ছবি দিয়ে অভিষেক, শাহরুখ-অমিতাভের সঙ্গে সেই ছবি হিটও হয়। কিন্তু ‘মেরে ইয়ার কি শাদী হ্যায়’ ও ‘নীল অ্যান্ড নিকি’তে একক নায়ক হিসেবে দর্শক টানতে পারেননি। পরে অভিনয় ছেড়ে প্রযোজনা সংস্থার কাজে মন দেন তিনি।

অভিষেক বচ্চন। অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের ছেলে। ২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ দিয়ে শুরুটা হয়েছিল বড় প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু একের পর এক ছবি ব্যর্থ হয়, সঙ্গে ছিল বাবার সঙ্গে তুলনার চাপ। পরে কিছু ছবিতে প্রশংসা পেলেও একক তারকা হিসেবে ধারাবাহিক সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারে আসেনি।

হারমান বাওয়েজা। পরিচালক হ্যারি বাওয়েজার ছেলে। ২০০৮ সালে বড় বাজেটের ‘লাভ স্টোরি ২০৫০’ দিয়ে অভিষেক, কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ‘ভিক্টরি’ ও ‘হোয়াটস ইয়োর রাশি?’ও ব্যর্থ হয়। অনেক বছর পর ওয়েব সিরিজ ‘স্কুপ’-এ অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি।

জ্যাকী ভাগ্নানী। প্রযোজক বাশু ভাগ্নানীর ছেলে। ২০০৯ সালে ‘কাল কিসনে দেখা’ ছবি দিয়ে অভিনয়ে আসেন। ‘ফালতু’ ছবিতে কিছুটা সাড়া মিললেও ‘আজাব গাজাব লাভ’, ‘রাংরেজ’ ও ‘ইয়াংগিস্তান’ একে একে ফ্লপ হয়। পরে অভিনয় ছেড়ে বাবার প্রযোজনা সংস্থার কাজে মন দেন জ্যাকী।

মিমো চক্রবর্তী। মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলে। ২০০৮ সালে ‘জিমি’ ছবি দিয়ে বড়পর্দায় আসেন। ‘হন্টেড ৩ডি’ কিছুটা সাফল্য পেলেও ‘দ্য মার্ডারার’ ও ‘লুট’ ছবি দিয়ে ক্যারিয়ারে গতি আনতে পারেননি। বাবার জনপ্রিয়তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি তিনি।

সূরাজ পাঞ্চোলী। আদিত্য পাঞ্চোলী ও জারিনা ওয়াহাবের ছেলে। সালমান খানের প্রযোজনায় ২০১৫ সালে ‘হিরো’ ছবি দিয়ে জমকালো অভিষেক। কিন্তু ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়, অভিনয় নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া মেলে। এরপর হাতে গোনা কয়েকটি ছবি করলেও সাফল্য ধরা দেয়নি, দীর্ঘদিন আইনি জটিলতাও পিছু ছাড়েনি তাঁর।

আথিয়া শেট্টি। সুনীল শেট্টির মেয়ে। ২০১৫ সালে ‘হিরো’ ছবি দিয়ে বলিউডে পা রাখেন। পরে ‘মুবারাকান’ ও ‘মতিচুর চাকনাচুর’ ছবিতে অভিনয় করেন। কিন্তু নায়িকা হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করতে পারেননি তিনি, অল্প কয়েক ছবিতেই থেমে যায় তাঁর অভিনয়জীবন।

তানিশা মুখার্জি। অভিনেত্রী তনুজার মেয়ে ও কাজলের বোন। পরিচিতির অভাব না থাকলেও ২০০৩ সালে ‘শশশ…’ ছবি দিয়ে শুরু করা ক্যারিয়ার এগোয়নি। ‘সরকার’ ও ‘সরকার রাজ’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করলেও প্রধান নায়িকা হিসেবে সাফল্য পাননি তানিশা।

ফারদীন খান। ফিরোজ খানের ছেলে। ১৯৯৮ সালে বাবার পরিচালনায় ‘প্রেম আগান’ ছবি দিয়ে অভিষেক, সেই ছবি ফ্লপ হয়। পরে ‘নো এন্ট্রি’ ও ‘হে বেবি’র মতো হিট ছবি পেলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি ‘হীরামান্ডি’ দিয়ে পর্দায় ফিরেছেন তিনি।

জায়েদ খান। সঞ্জয় খানের ছেলে। ২০০৩ সালে ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’ ছবি দিয়ে আসেন। ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবিতে সহশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেলেও ‘দশ’, ‘শব্দ’ ও ‘ফাইট ক্লাব’-এর পর নায়ক হিসেবে টিকে থাকতে পারেননি জায়েদ।

শামিতা শেট্টি। শিল্পা শেট্টির বোন। ২০০০ সালে ‘মহব্বতে’ ছবি দিয়ে বলিউডে পা রাখেন, ‘শারারা শারারা’ গান দিয়ে পরিচিতিও পান। ‘মেরে ইয়ার কি শাদী হ্যায়’ ও ‘জেহের’ ছবিতে অভিনয় করলেও নায়িকা হিসেবে সাফল্য তাঁর ভাগ্যে জোটেনি।

টুইঙ্কল খান্না। রাজেশ খান্না ও ডিম্পল কাপাডিয়ার মেয়ে। ১৯৯৫ সালে ‘বারসাত’ ছবি দিয়ে শুরুটা ভালো হলেও পরের ছবিগুলো একে একে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে অভিনয়ই ছেড়ে দেন তিনি। এখন লেখক ও কলামিস্ট হিসেবেই সফল টুইঙ্কল।

রিঙ্কি খান্না। রাজেশ খান্না ও ডিম্পল কাপাডিয়ার ছোট মেয়ে, টুইঙ্কলের বোন। ‘জিস দেশ মে গাঙ্গা রাহেতা হ্যায়’, ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’ ও ‘ঝঙ্কার বিটস’ ছবিতে অভিনয় করেন। তবে অল্প কয়েকটি ছবির পরই অভিনয় থেকে সরে যান তিনি।

অধ্যয়ন সুমন। শেখর সুমনের ছেলে। ২০০৮ সালে ‘হাল-এ-দিল’ ছবি দিয়ে অভিষেক, প্রথম ছবিই ফ্লপ। এরপর বড়পর্দায় উল্লেখযোগ্য কাজ পাননি অনেক বছর। সম্প্রতি ‘আশ্রম’ ও ‘ইনস্পেক্টর অবিনাশ’-এর মতো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন অধ্যয়ন।

হর্ষবর্ধন কাপুর। অনিল কাপুরের ছেলে ও সোনম কাপুরের ভাই। ২০১৬ সালে ‘মির্জ্যা’ ছবি দিয়ে জমকালো অভিষেক হলেও ছবিটি ফ্লপ হয়। ‘ভাবেশ জোশী সুপারহিরো’ ও ‘থার’-এর মতো ভিন্নধর্মী ছবি বেছে নিলেও বাণিজ্যিক সাফল্য তাঁর ঝুলিতে আসেনি।

ঈশা দেওল। ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর মেয়ে। ২০০২ সালে ‘কোই মেরে দিল সে পুছে’ ছবি দিয়ে পা রাখেন বলিউডে। ‘ধুম’ ও ‘নো এন্ট্রি’র মতো হিট ছবি পেলেও শীর্ষ নায়িকাদের সারিতে কখনোই জায়গা করে নিতে পারেননি ঈশা।

তুষার কাপুর। জিতেন্দ্রর ছেলে। ২০০১ সালে ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’ ছবি দিয়ে অভিষেক, সেই ছবি হিটও হয়। ‘গোলমাল’ সিরিজে কৌতুক চরিত্রে সাফল্য পেলেও একক নায়ক হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার সীমিতই থেকে গেছে।

অর্জুন কাপুর। প্রযোজক বনি কাপুরের ছেলে। ২০১২ সালে ‘ইশাকজাদে’ ছবি দিয়ে অভিষেকেই সাফল্য পান। ‘টু স্টেটস’ ও ‘গুন্ডে’র পর মনে হয়েছিল ক্যারিয়ার গতি পেয়েছে। কিন্তু এরপর একের পর এক ছবি ফ্লপ হওয়ায় বড় ধাক্কা খায় তাঁর ক্যারিয়ার।

এই তালিকাই বলে দেয়, বলিউডে পরিচয় দিয়ে দরজা খোলা যায়, কিন্তু টিকে থাকতে হয় নিজের যোগ্যতায়। তারকা পরিবারের নাম শুরুটা সহজ করে দিলেও শেষ পর্যন্ত দর্শকের রায়ই চূড়ান্ত।

Share

Read more

Local News