বিএনপি ও জামায়াত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দিয়েছে। উভয় দলের ইশতেহারেই রয়েছে শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ অধ্যায় ও ভাবনা। চলুন দেখে নেয়া যাক বিএনপি ও জামায়াতের ইশতেহারে শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে কি লেখা আছে। কেমন তাদের শিল্প-সংস্কৃতির ভাবনা নির্মাণ-পুননির্মাণ প্রকল্প।
বিএনপির ইশতেহারে শিল্প ও সংস্কৃতি ভাবনা
বিএনপি তাদের ইশতেহারের পঞ্চম অধ্যায়ের নাম দিয়েছে “ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতি” নামে। যেখানে শিল্প ও সংস্কৃতি উপ-শিরোনামে আলোচনা করা হয়েছে তাদের ভাবনা। নিচে হুবহু তাদের ইশতেহার তুলে ধরা হল।
শিল্প ও সংস্কৃতি
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ: সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনৈতিক আকাশ-সংস্কৃতি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হবে। জাতীয় ঐতিহ্যের সংগে সংগতিপূর্ণ-সঙ্গীত, নৃত্য-কলা, নাটক, সাহিত্য চর্চা, চলচ্চিত্রসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানকে সমৃদ্ধ করা হবে। বহিঃর্বিশ্বের যা কিছু শুভ ও কল্যাণময় সে সব উপাদান জাতীয় সংস্কৃতির সংগে সমন্বিত করা হবে।
জাতীয় ভাবধারাপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উৎসাহ প্রদান: জাতীয় ভাবধারার পরিপন্থী অপসংস্কৃতি চর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার পথে সকল প্রকার বাধা অপসারণ করা হবে। সংস্কৃতির মাধ্যমে স্বাধীন চিন্তাধারা ও মতাদর্শের যেন সুষ্ঠু প্রতিফলন হয় তার জন্য গণতান্ত্রিক রীতি পদ্ধতির অনুসরণ করা হবে।
সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ গঠন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।
সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃত সম্প্রসারণ: জাতীয় সংস্কৃতির প্রধান প্রধান ক্ষেত্রে অবদানের স্বরূপ জাতীয় পদক প্রদানের রীতি আরও সম্প্রসারিত করা হবে। উল্লেখ্য যে, বিএনপির হাত ধরে বাংলাদেশে স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি জাতীয় পুরস্কার প্রবর্তিত হয়েছিল।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে শিল্প ও সংস্কৃতি ভাবনা
জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারের পঞ্চম ভাগের নাম দিয়েছে “মানবসম্পদ ও জনজীবনের মৌলিক মানোন্নয়ন”। যেখানে সংস্কৃতি নামে একটি উপ শিরোনামে আলোচনা করা হয়েছে শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে তাদের ভাবনা। নিচে হুবহু তাদের ইশতেহার তুলে ধরা হল।
ভিশন – স্বাধীন বাংলাদেশের স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পূর্ণাঙ্গ বিকাশ
১. সুদূর অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই জনপদের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসকে দালিলিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জন্য যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২. শিক্ষাক্ষেত্রে উপেক্ষিত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের পরিচিতি তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৩. ঐতিহাসিক ঘটনাবলির আলোকে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৪. বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয় করার লক্ষ্যে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই দিবসগুলো পালনের ব্যবস্থা করা হবে।
৫. সাংস্কৃতিক নীতি প্রণয়ন, দেশীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি বিনিময় ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক বোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক গবেষকদের নিয়ে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক কমিশন গঠন করা হবে।
৬. সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ২১টি দপ্তর বা সংস্থার মান উন্নয়ন, যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হবে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং অধিভুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশের শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
৭. দেশের জনগণের বোধ-বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে। অশ্লীলতা পরিহার এবং যেকোনো ধর্মের প্রতি অবমাননাকর উপস্থাপনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।
৮. প্রবাসী নতুন প্রজন্মদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
৯. সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অবদানের ভিত্তিতে সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। দুস্থ ও প্রতিভাবান শিল্পীদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকল্যাণ তহবিল বাজেট বৃদ্ধি করা হবে।



