Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬

আশা ভোঁসলের অজানা কিছু মধুর ও ব্যথার স্মৃতি

আশা ভোঁসলে
আশা ভোঁসলে

আশা ভোঁসলে

ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। রবিবার, ১২ এপ্রিল তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বুকে সংক্রমণের কারণে শনিবার তাঁকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গত রাতে তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। এরপর আজ তিনি চির বিদায় নিলেন। কিংবদন্তী আশা ভোঁসলের অজানা কিছু মধুর ও ব্যথার স্মৃতি জেনে নেয়া যাক তাঁর বিদায় বেলায়।   

আট দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত তাঁর সংগীতজীবন। আশা ভোঁসলে স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, তিনি যখন ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন প্রযুক্তির অভাব ছিল প্রবল; আর এখন প্রযুক্তির যে উন্নতি হয়েছে, তা দেখে তিনি বিস্মিত হতেন।

১০ বছর বয়সে গান

মাত্র ১০ বছর বয়সে আশা ভোঁসলে প্রথম গান রেকর্ড করেন। ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র মাঝা বালা-তে তিনি “চলা চলা নব বালা” গানটি গেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, “যখন আমি আমার প্রথম গানটি রেকর্ড করি, তখন আমার বয়স ছিল ১০ বছর। আমাকে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে গান গাইতে হয়েছিল, আর তখন আমি কাঁপছিলাম, কারণ তখন আমি কিছুই জানতাম না। আমার বাবা তাঁর গান রেকর্ড করতেন। এরপর যখন আমি প্রথম গানটি গাইলাম, তখন আমার মনে হলো-আমি-ও গান গাইতে পারি। শুধু দিদিই (লতা মঙ্গেশকর) গান গায় না, আমিও গাইতে পারি।”

আশা ভোঁসলে
আশা ভোঁসলে

যখন রেকর্ডিং বারবার বাধাগ্রস্ত হতো

রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশা ভোঁসলে বলেছিলেন, “আন্ধেরির মোহন স্টুডিওর ভেতরে তখন সেটগুলো এতটা নিরিবিলি ছিল না, মুম্বাইজুড়ে সর্বত্র শুটিং চলছিল। রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা এমন ছিল যে আমি খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে গান গাইতাম, আর মাইক্রোফোনটি একটি গাছ থেকে ঝুলিয়ে রাখা হতো। ভেতরে স্টুডিওতে অর্কেস্ট্রা ও সংগীতশিল্পীরা বসে থাকতেন। আমরা ভোর ৪টা পর্যন্ত গান রেকর্ড করতাম।”

তিনি আরও বলেন, “কাক এসে ডাকাডাকি করত, তাতেই রেকর্ডিংয়ে বাধা পড়ত। কিছুক্ষণ পর যানবাহন চলাচল শুরু হতো, সেটাও রেকর্ডিং ব্যাহত করত। ট্রেনও চলতে শুরু করত… ট্রেন যখন পাশ দিয়ে যেত, তখন আমরা থেমে যেতাম, তারপর আবার নতুন করে পুরো রেকর্ডিং শুরু করতাম। এভাবেই আমরা কাজ চালিয়েছি। সময়টা ছিল খুব কঠিন।”

ব্যক্তিগত দুঃখের জীবন

এতো খ্যাতির মাঝেও ব্যক্তিগত জীবন সুখের ছিলো না আশা ভোঁসলের। তাঁর আত্মজীবনী  ‘আশা ভোসলে: আ লাইফ ইন মিউজিক’ বইয়ে অকপটে তিনি  বলে গেছেন তাঁর যন্ত্রণাদায়ক দাম্পত্য থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা কথাগুলো। বইটি লিখেছেন রমা শর্মা।

স্বামীর নির্যাতন

মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন আশা। তাঁর বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করতেন গণপতরা। কিন্তু এই সম্পর্ক তাঁকে নরকের মত যন্ত্রনা দেয়। বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘শোনা যায়, গণপতরাও মদ্যপ ছিলেন এবং প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন-এমনকি গর্ভাবস্থায়ও, যার ফলে তাঁকে প্রায়ই হাসপাতালে ভর্তি হতে হতো।’

নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আশা বলেন, পরিবারটি ছিল রক্ষণশীল, তারা গায়িকা পুত্রবধূকে মেনে নিতে পারেনি। স্বামী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর মেজাজ খারাপ ছিল। হয়তো তিনি কষ্ট দিতে পছন্দ করতেন, হয়তো তিনি স্যাডিস্ট ছিলেন। কিন্তু বাইরে কেউ তা জানতে পারত না। আমি তাঁকে সম্মান দিতাম, কখনো তাঁর কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি।’

তিনি জানান, “এটি ছিল একটি প্রেমের বিয়ে, আর লতা দিদি আমার সঙ্গে অনেক দিন কথা বলেননি। তিনি এই সম্পর্কটি মেনে নেননি। গণপতরার পরিবার ছিল খুবই রক্ষণশীল, এবং তাঁরা একজন গায়িকা তার পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।”

আশা ভোঁসলে
বোন লতা মঙ্গেসকরের সাথে আশা ভোঁসলে | ছবি : ফেসবুক

আত্মহত্যার চেষ্টা

জীবনীতে আশা ভোসলে জানান, তৃতীয় সন্তান গর্ভে থাকাকালে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। আশা বলেন, ‘একবার মনে হয়েছিল, আমার নিজের জীবন শেষ করে দেওয়া উচিত। আমি অসুস্থ ছিলাম। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হাসপাতালে ছিলাম, যেখানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ ছিল।’

নিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে আশা বলেন, ‘মনে হয়েছিল যেন নরকে এসে পড়েছি। মানসিক যন্ত্রণায় ছিলাম। তাই ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু গর্ভের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে আমি মারা যাইনি। আমাকে আবার জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়।’

নতুন সম্পর্ক

 

আশা ভোঁসলে
রাহুল দেব বর্মন ও আশা ভোঁসলে | ছবি : ফেসবুক

এরপর ১৯৬০ সালে গণপতরার সাথে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৮০ সালে তিনি রাহুল দেব বর্মনকে বিয়ে করেন। রাহুলের সাথে জুটি বেঁধে তিনি অসংখ্য গান গেয়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘ জীবনে রাহুল দেব বর্মনই ছিলেন তাঁর সুখের অন্যতম স্মৃতি। ১৯৯৪ সালে রাহুলও মারা যান। এরপর থেকেই একা হয়ে পড়েন এই কিংবদন্তী শিল্পী। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। হিন্দি ছাড়াও আশা ২০টিরও বেশি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গান গেয়েছেন। ২০০৬ সালে আশা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি ১২,০০০-এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন।   

+ posts
Share this article
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন

সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে ভারতের কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ…
কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন

ব্যাটম্যান-পার্সন অব ইন্টারেস্ট অভিনেতা জন নোলান আর নেই

ক্রিস্টোফার নোলানের চাচা জন নোলান শনিবার মারা গেছেন ব্যাটম্যান-পার্সন অব ইন্টারেস্ট অভিনেতা জন নোলান । ব্রিটিশ…
ব্যাটম্যান-পার্সন অব ইন্টারেস্ট অভিনেতা জন নোলান আর নেই

হাসপাতালে ভর্তি আশা ভোসলে – অবস্থা সংকটাপন্ন

জরুরি বিভাগের বিশেষ পর্যবেক্ষণে চলছে চিকিৎসা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী…
হাসপাতালে ভর্তি আশা ভোসলে, অবস্থা সংকটাপন্ন
0
Share