প্রতারণা ও মানহীনতার অভিযোগে প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘের ছয় সিনেমার আবেদন বাতিল করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। একই সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড।
বাতিল হওয়া সিনেমাগুলো হলো মঈনউদ্দিন খান পরিচালিত ‘পরিণাম’, পীযূষ কান্তি সেনের ‘রঙ্গশালা’, সজিব হোসেনের ‘রক্ত পিপাসা’ এবং মিজানুর রহমান লাবুর পরিচালনায় ‘রসু খাঁ’, ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ ও ‘বনদস্যু’।
গত ৩০ জুলাই সিনেমাগুলো সার্টিফিকেশনের জন্য জমা দেন মনজুরুল ইসলাম। এরপর পর্যায়ক্রমে ১২ আগস্ট ‘পরিণাম’, ১৩ আগস্ট ‘রঙ্গশালা’, ১৬ আগস্ট ‘রক্ত পিপাসা’, ১৭ আগস্ট ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ এবং ১৮ আগস্ট ‘বনদস্যু’ ও ‘রসু খাঁ’ সিনেমা যাচাই-বাছাই করে বোর্ড।
বোর্ডের পর্যবেক্ষণে ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ সিনেমার সঙ্গে ২০২২ সালে সার্টিফিকেট পাওয়া ‘যমজ ভূতের গল্প’ সিনেমার হুবহু মিল পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু প্রযোজক, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ও সিনেমার নাম পরিবর্তন করে সেটি নতুন সিনেমা হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ‘বনদস্যু’ সিনেমা নিয়েও। বোর্ডের দাবি, ২০২৩ সালে সার্টিফিকেট পাওয়া ‘আমার অরণ্য’ সিনেমার সঙ্গে ‘বনদস্যু’র কাহিনি, সংলাপ ও দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতারণা হিসেবে শাস্তিযোগ্য হওয়ায় প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে সার্টিফিকেশন বোর্ড। চিঠি পাওয়ার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।
অন্যদিকে ‘পরিণাম’, ‘রঙ্গশালা’, ‘রক্ত পিপাসা’ ও ‘রসু খাঁ’ সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য, কাহিনির বিন্যাস, শব্দচয়ন, সংলাপ ও দৃশ্যায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানহীনতার অভিযোগ তুলেছে বোর্ড। অপ্রাসঙ্গিক ও অশ্লীল সংলাপ, অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপানের দৃশ্য, নিম্নমানের কনটেন্ট ও নির্মাণশৈলীর কারণে সিনেমাগুলো দর্শক ও সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে না বলেও বোর্ডের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব কারণে সার্টিফিকেশন অ্যাক্ট, ২০২৩-এর ৫(১২) ধারার আওতায় সিনেমাগুলোকে প্রদর্শনের অযোগ্য ঘোষণা করে আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ
তবে বোর্ডের এসব অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘ। তাঁর অভিযোগ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্য শাহীন সুমন ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছেন। এর জেরেই প্রতিহিংসার কারণে তাঁর সিনেমাগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
নকলের অভিযোগের বিষয়ে মনজুরুল ইসলাম বলেন, আগে সার্টিফিকেট পাওয়া দুটি সিনেমা তিনি কিনেছেন এবং নাম পরিবর্তন করে নিজের সিনেমা হিসেবে বোর্ডে জমা দিয়েছেন। আবেদনপত্রে আগের সিনেমা কেনার বিষয়টি উল্লেখ করার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বোর্ড এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন বলে জানান প্রযোজক।
মনজুরুল ইসলামের আরও অভিযোগ, ২৭ আগস্ট তিনি সিনেমাগুলো বাতিলের চিঠি পেলেও তার আগেই চিঠির বিষয়বস্তু বিভিন্ন সংগঠনের লোকজনের কাছে পৌঁছে যায়। এমনকি সিনেমাগুলোর পরিচালকদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন এই প্রযোজক।
সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়ে মনজুরুল ইসলাম বলেন, তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং যথাসময়ে বোর্ডে জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিনেমাগুলো আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা আপিলের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









