Friday, September 4, 2026

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ- মহানায়ক উপাধি কে দিয়েছিলেন?

বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি ভিলেন – যাদের ঘৃণা করেই ভালোবেসেছে দর্শক

August 27, 2026
স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ  

স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ ? 

August 21, 2026
যে কারনে নিষিদ্ধ হয়েছে এসব বাংলা সিনেমা

যে কারনে নিষিদ্ধ হয়েছে এসব বাংলা সিনেমা

August 12, 2026

রূপবান থেকে বেদের মেয়ে, খাইরুন সুন্দরী

August 6, 2026
বাংলা সিনেমার ৭০ বছরের যাত্রা

বাংলা সিনেমার ৭০ বছরের যাত্রা

July 30, 2026

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ মিলিয়ে যেই বাংলা সিনেমা তার ইতিহাসের অমর নায়ক উত্তম কুমারের আজ জন্মশতবার্ষিকী। তিনি পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছেন বহু আগে তবু তাঁর কথা উঠলেই মনে পড়ে একটা হাসিমুখ, অনবদ্য সব বুদ্ধিদীপ্ত কথা, নিখুঁত অভিনয়। তাঁর গড়ন, বলা, চলা দেখলেই মনে হয় তিনি যেন গ্রিকপুরাণের কোন এক দেবতা।       

১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার আসল নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। পিতা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় ও মা চপলা দেবী। তাঁর প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘মায়াডোর’। হিন্দিতে করা এ সিনেমাটি মুক্তি পায়নি। সে হিসেবে উত্তম কুমারের সিনেমায় অভিষেক হয় ১৯৪৮ সালে, ‘দৃষ্টিদান’ সিনেমার মাধ্যমে।  

১৯৫২ পর্যন্ত তার অভিনীত সাতটি সিনেমার কেনোটিই সাফল্যের মুখ দেখেনি। ১৯৫২ সালে নির্মল দে পরিচালিত ‘বসু পরিবার’ সাফল্য পায়। পরের বছর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। মূলত নির্মল দে’র এ সিনেমাতেই উত্তম-সুচিত্রা জুটির সূচনা হয় এবং শুরু একটি অনবদ্য ইতিহাসের।   

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ

বাংলা সিনেমায় রোমান্টিসিজমের কথা উঠলেই এরপর থেকে মননে ভেসে ওঠে উত্তম-সুচিত্রা জুটির কথা। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ কিংবা ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো সিনেমাগুলো দর্শকদের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে স্থায়ী আসন তৈরি করে নিয়েছে।  

তবে কেবল রোমান্টিক নায়কের পরিচয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি উত্তম কুমার। রূপালি পর্দায় তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য উদাহরণ। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও  ‘চিড়িয়াখানা’ থেকে শুরু করে ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবিতে তাঁর অভিনয়কে ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা, প্রযোজনা এমনকি সংগীতচর্চাতেও ছিল তাঁর সমান পদচারণা ও সৃজনশীল উপস্থিতি। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটে এই মহানায়কের। তবে মৃত্যুর চার দশক পেরিয়েও তার জনপ্রিয়তার আভা একটুও কমেনি। 

কে দিল উপাধি ?

বাংলা চলচ্চিত্রে সুনিপুণ অভিনয় দক্ষতার কারণে সিনেমাপ্রেমীরা উত্তম কুমারকে ‘মহানায়ক’ খেতাব দেয়। তবে প্রকৃতপক্ষে উত্তমকুমারকে মহানায়ক উপাধি দিয়েছিলেন সাংবাদিক বিমল চক্রবর্তী। উত্তমকুমারের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিলো খুবই ঘনিষ্ঠ। সাংবাদিক বিমল চক্রবর্তীকে উত্তম কুমার বি চক্র নামে ডাকতেন।

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ
ছবি – সংগৃহীত

তবে এই নামকরণ নিয়ে আরো কিছু মতভেদ আছে। অনেকেই দাবি করেন, উত্তমকুমারকে প্রথম মহানায়ক বলেন প্রসাদ নামের একটি চলচ্চিত্র পত্রিকার সম্পাদক গিরীন্দ্র সিংহ। তবে সেই পত্রিকারই  এক লেখাতে সাংবাদিক বিমল চক্রবর্তী উত্তম কুমারকে মহানায়ক উপাধি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

এছাড়া, আকাশবাণীর অনুষ্ঠানে, বাংলা সিনেমার প্রচারে যিনি থাকতেন সেই শ্রীপঞ্চানন বাবু মহানায়ক কথাটা প্রথম ব্যবহার করে ছিলেন একটি সিনেমার প্রচারে, এমনটাও শোনা যায়।

Share

Table of contents [hide]

Read more

Local News