Monday, October 26, 2026

৪০ বছর পর রুবেলের উপহার, চমকে গেলেন সোহেল রানা

রজনীকান্ত কেন সুপার স্টার ? 

October 26, 2026

অমিতাভ বচ্চন – যে গল্প কখনো বলা হয়নি

October 16, 2026

আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা নায়িকা কে ?

October 12, 2026

সালমান শাহ কেন এত অল্প সময়ে কিংবদন্তি হয়ে গেলেন?

October 2, 2026

কেন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন আমির খান?

September 26, 2026

চিত্রনায়ক সোহেল রানার ৪০ বছর আগের একটি ছোট্ট ইচ্ছা মনে রেখেছিলেন তাঁর ছোট ভাই চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেল। বড় ভাই হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন সেই ঘটনা। কিন্তু ভুলে যাননি রুবেল। তাই চার দশক পর সেই ইচ্ছার কথা মনে রেখে বড় ভাইকে উপহার দিলেন দামি একটি ঘড়ি। ভাইয়ের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোহেল রানা।

৪০ বছর আগের সেই ঘটনা

দেশের চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় দুই ভাই সোহেল রানা ও রুবেল। প্রায় ৪০ বছর আগে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে গিয়েছিলেন সোহেল রানা। সঙ্গে ছিলেন রুবেল ও পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন। চিকিৎসা শেষে সুস্থতার খবর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছিল তাঁদের মধ্যে।

হাসপাতাল থেকে হোটেলে ফেরার পর বিকেলে ঘুরতে বের হন তাঁরা। একসময় ঢোকেন একটি ঘড়ির দোকানে। দামি ঘড়ির প্রতি বরাবরই আগ্রহ ছিল সোহেল রানার। দেশের বাইরে গেলেই সুযোগ পেলে ঘড়ির দোকানে ঢুঁ মারতেন তিনি।

১৯৮৫ সালের সেই সফরেও তাঁর হাতে ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা দামের একটি রাডো ঘড়ি। নতুন একটি ঘড়ি কেনার ইচ্ছা থেকেই শোরুমে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর নজরে পড়ে একটি পাটেক ফিলিপ ঘড়ি। দাম শুনে অবাক হয়ে যান তিনি। প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা দাম চাওয়া হয়েছিল ঘড়িটির।

সোহেল রানা বলেন, ‘ভালো ঘড়ি দেখাতে বলেছিলাম। তখন আমার হাতে ৩০ হাজার টাকা দামের রাডো ছিল। দোকানি পাটেক ফিলিপের একটি ঘড়ি দেখিয়েছিল। দাম শুনে হতচকিত হয়ে যাই। এরপর কম দামের ঘড়ি দেখতে চাই। শেষ পর্যন্ত বুচারারের একটি ঘড়ি কিনেছিলাম। সেটির দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা।’

৪০ বছর পর রুবেলের উপহার, চমকে গেলেন সোহেল রানা
চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও রুবেল, ছবি: সংগৃহীত

পছন্দের ঘড়িটি কেনা হয়নি। কিন্তু শোরুম থেকে বের হওয়ার পরও সেটির দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন সোহেল রানা। বিষয়টি খেয়াল করেছিলেন রুবেল। বড় ভাই হয়তো পরে সেই ঘটনা ভুলে গেছেন। তবে ছোট ভাইয়ের মনে সেটি থেকে যায়।

সোহেল রানা জানান, ‘বুচারারের ঘড়ি কিনলেও পাটেক ফিলিপের ঘড়িটা যে বারবার দেখছিলাম, সেটা আমার ছোট ভাই খেয়াল করেছিল। আজ এত বছর পর সে শুধু আমার জন্য ঘড়ি কিনতে ব্যাংককে গেছে। আমি যে ঘড়িটা সেদিন দেখেছিলাম, সেটার দাম এখন কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।’

‘ভাইয়া, তোমার হাতটা দাও’

প্রায় চার দশক পর সেই ঘড়িটি আর কেনা হয়নি। তবে বড় ভাইয়ের পছন্দের কথা মনে রেখে ইউরোপের একটি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি কিনে আনেন রুবেল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার উত্তরায় সোহেল রানার বাসায় গিয়ে বড় ভাইকে চমকে দেন তিনি।

সোহেল রানা বলেন, ‘কথা বলার একপর্যায়ে রুবেল বলল, ভাইয়া তোমার হাতটা দাও। আমি হাত বাড়িয়ে দিলে সে একটা প্যাকেট খুলে অসাধারণ একটি ঘড়ি আমার হাতে পরিয়ে দিল। এরপর বলল, পাটেক ফিলিপ তো দিতে পারলাম না, যেটা তোমার শখ ছিল। তবে এটা দিলাম।’

ঘড়িটি হাতে পরিয়ে দেওয়ার পরই রুবেলকে বুকে টেনে নেন সোহেল রানা। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর কাছে উপহারের দাম নয়, এত বছর পরও ভাই যে তাঁর পুরোনো ইচ্ছার কথা মনে রেখেছেন সেটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।

৪০ বছর পর রুবেলের উপহার, চমকে গেলেন সোহেল রানা
চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও রুবেল, ছবি: সংগৃহীত

সোহেল রানা বলেন, ‘টাকা বিচার্য বিষয় নয়। ছোট ভাই যে বড় ভাইয়ের চাওয়ার কথা মনে রেখেছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। যে ঘড়িটা এনেছে, সেটাও ওর সাধ্যের চেয়ে অনেক ওপরে। ভাইয়ের জন্য এটা কিনে এনেছে। এই উপহারের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।’

সোহেল রানার সংগ্রহে আরও কয়েকটি পছন্দের ঘড়ি রয়েছে। তবে রুবেলের দেওয়া ঘড়িটির জায়গা এখন আলাদা। এই ঘড়িটিই সবচেয়ে বেশি পরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ এটি শুধু একটি ঘড়ি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চার দশকের পুরোনো স্মৃতি আর দুই ভাইয়ের ভালোবাসা।

Share

Read more

Local News