জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তবে, বাংলাদেশে বাংলা একাডেমির সংশোধিত বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতি বছর ২৭ আগস্ট কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সাম্য ও মানবতার পক্ষে সোচ্চার এই কবিকে আজ নানা আয়োজনে স্মরণ করেছে দেশের মানুষ।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র শেষ হয় কবির জীবন। জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করেছে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিনটি উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে।
চুরুলিয়ায় জন্ম, দারিদ্র্যে বেড়ে ওঠা
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। জীবিকার প্রয়োজনে নানা কাজ করেছেন। লেটো দলে যুক্ত হয়ে গান ও নাটকের চর্চাও করেন।
পরে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন নজরুল। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চা আরও গতি পায়। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় প্রভাব ফেলে।

২৩ বছরের সাহিত্যজীবনে অনন্য সৃষ্টি
নজরুলের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবন ছিল মাত্র ২৩ বছর। এই সময়ে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি কাজ করেন।
১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর তীব্র প্রতিবাদী ভাষা বাংলা কবিতায় নতুন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে প্রেম, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতিও তাঁর লেখায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়।
‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’ এই পঙ্ক্তিতে নজরুলের সৃষ্টির বৈচিত্র্য স্পষ্ট। তাঁর কবিতায় যেমন বিদ্রোহ আছে, তেমনি গানে রয়েছে প্রেম ও আবেগের নানা প্রকাশ।
১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি দেয়। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে নজরুল
কবিতা ও গানের পাশাপাশি বাংলা সংগীতেও নজরুলের অবদান অনন্য। তাঁর সৃষ্ট গান নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘নজরুলগীতি’ নামে স্বতন্ত্র সংগীতধারা। প্রেম, প্রকৃতি, দেশাত্মবোধ, ইসলামী সংগীত ও শ্যামাসংগীতসহ নানা বিষয়ে তিনি গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।
নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত বাংলা সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে একদিকে প্রতিবাদের ভাষা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রকাশ পেয়েছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে। ৫০ বছর পরও তাঁর কবিতা ও গান বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে সমান জনপ্রিয়।






