Saturday, August 29, 2026

রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধের নোটিশে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি ভিলেন – যাদের ঘৃণা করেই ভালোবেসেছে দর্শক

August 27, 2026
স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ  

স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ ? 

August 21, 2026
যে কারনে নিষিদ্ধ হয়েছে এসব বাংলা সিনেমা

যে কারনে নিষিদ্ধ হয়েছে এসব বাংলা সিনেমা

August 12, 2026

রূপবান থেকে বেদের মেয়ে, খাইরুন সুন্দরী

August 6, 2026
বাংলা সিনেমার ৭০ বছরের যাত্রা

বাংলা সিনেমার ৭০ বছরের যাত্রা

July 30, 2026

রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবিতে দেওয়া আইনি নোটিশ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে যুক্ত সাতটি সংগঠন। তাদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে যায় না। সম্মিলিত প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনগুলো বলেছে, কোনো নাটক বা সিনেমার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে তার প্রতিকার করা যেতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

সৃজনশীল স্বাধীনতা চায় ৭ সংগঠন

সংগঠনগুলো বলছে, বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন ও সৃজনশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন শিল্পী, নির্মাতা, লেখক, প্রযোজক, কলাকুশলীসহ অসংখ্য পেশাজীবী। তাই কোনো একটি ধারার নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ এই বিশাল কর্মক্ষেত্রের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়েছে, নাটক ও অন্যান্য অডিওভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং শিল্পীর মতপ্রকাশের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন, নীতিমালা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সাত সংগঠন জানিয়েছে, তারা মানসম্মত ও দায়িত্বশীল কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছে না। তবে এর সমাধান হিসেবে একটি নির্দিষ্ট ঘরানার সব ধরনের নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে না। বরং আপত্তিকর কোনো বিষয় থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালার আওতায় দেখার সুযোগ রয়েছে।

রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধের নোটিশে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
ছবি: সংগৃহীত

রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধে আইনি নোটিশ

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার কথা উল্লেখ করে প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশটি পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। নোটিশে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সৃজনশীল মেধার বিকাশের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান বলে জানা গেছে। নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটকে প্রেম এবং অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশদাতার আরও অভিযোগ, কিছু কনটেন্টে পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক বা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে সমাজের প্রচলিত নৈতিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এ ছাড়া এসব কনটেন্টের সঙ্গে যুবসমাজের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের প্রতি অমনোযোগিতা এবং পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে। যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

রোমান্টিক কনটেন্ট বন্ধে সৃজনশীলতায় বাধা

আইনি নোটিশের এমন দাবির পর টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে যুক্ত সাতটি সংগঠন একসঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করে, রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণকে সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ সৃজনশীল শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা তৈরি করতে পারে।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে পুরো একটি সৃজনশীল মাধ্যমকে সীমাবদ্ধ করা হলে এর সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাদের মতে, বিনোদন জগতের কনটেন্টে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু সেই দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কার্যকর করা বেশি যুক্তিসংগত। কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার সব নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া এর সমাধান নয়।

যাঁরা প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন

সম্মিলিত প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।

এ ছাড়া টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন, ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সাহিল রনি, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান মানিকও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

নোটিশে সংবিধানের ২১(১), ২৩ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়েছে। বাক্‌ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের সুযোগ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

নোটিশের শেষাংশে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। তা না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে আইনি নোটিশ এবং সাত সংগঠনের প্রতিবাদকে ঘিরে টেলিভিশন নাটক ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে দায়িত্বশীল কনটেন্ট নির্মাণের দাবি, অন্যদিকে সৃজনশীল স্বাধীনতা-দুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

Share

Read more

Local News