Sunday, August 23, 2026

শ্রীলঙ্কার প্রখ্যাত প্রতিবাদীশিল্পী নন্দ মালিনী মারা গেছেন

স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ  

স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ ? 

August 21, 2026
যে কারনে নিষিদ্ধ হয়েছে এসব বাংলা সিনেমা

যে কারনে নিষিদ্ধ হয়েছে এসব বাংলা সিনেমা

August 12, 2026

রূপবান থেকে বেদের মেয়ে, খাইরুন সুন্দরী

August 6, 2026
বাংলা সিনেমার ৭০ বছরের যাত্রা

বাংলা সিনেমার ৭০ বছরের যাত্রা

July 30, 2026
পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের অপেক্ষায় বলিউড তারকা টাইগার শ্রফ

পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের অপেক্ষায় বলিউড তারকা টাইগার শ্রফ

July 29, 2026

শ্রীলঙ্কার প্রখ্যাত প্রতিবাদী সংগীতশিল্পী নন্দ মালিনী মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার বিভিন্ন সময়ে অন্যায়, দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর গান মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

নিজের বাড়ি নাওয়ালায় মারা যান নন্দ মালিনী। আগামী ২৩ আগস্ট ছিল তাঁর ৮৩ তম জন্মদিন। এর মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁর মৃত্যু হলো।

১৯৪৩ সালের ২৩ আগস্ট শ্রীলঙ্কার কালুতারার একটি গ্রামে জন্ম নন্দ মালিনীর। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পরে কলম্বোয় পড়াশোনা করেন। ১৯৫৬ সালে কলম্বোয় একটি কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হয়।

পরবর্তী সময়ে তিনি শ্রীলঙ্কার সিংহলি সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ১৯৭০ ও ১৯৮০ এর দশকে সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্য ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে গান গেয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর গানে জাতি ও ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষের ঐক্যের আহ্বানের পাশাপাশি স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বার্তাও উঠে এসেছে।

সে সময় শ্রীলঙ্কা তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তরুণদের বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য, অভিজাত শ্রেণির আধিপত্য এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। একই সঙ্গে জাতিগত উত্তেজনাও তীব্র হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

অস্থির সেই সময়ে নন্দ মালিনীর গানও সরকারের নজরে আসে। তৎকালীন কর্তৃপক্ষ জাতীয় বেতারে তাঁর গান প্রচার নিষিদ্ধ করে। তবে এতে তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং ভক্তরা তাঁর গান শুনতে এবং কনসার্টে অংশ নিতে থাকেন।

আলোচনায় অ্যালবাম ‘পাওয়ানা’

১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় নন্দ মালিনীর আলোচিত অ্যালবাম ‘পাওয়ানা’। অ্যালবামটির গানগুলোতে মানবাধিকার, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও সামাজিক নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে ‘পাওয়ানা’ শ্রীলঙ্কার অস্থির রাজনৈতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগীতকর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

দশকের পর দশক পেরিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নন্দ মালিনীর সক্রিয়তা থেমে থাকেনি। সাধারণ মানুষের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে তিনি সরব হয়েছেন।

২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে সেই আন্দোলনের প্রতিও প্রকাশ্যে সমর্থন জানান নন্দ মালিনী। বিক্ষোভকারীদের একটি সমাবেশে তিনি গানও পরিবেশন করেন। কয়েক মাসের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

নন্দ মালিনীর মৃত্যুতে শ্রীলঙ্কা সরকার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশটির সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নন্দ মালিনীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁকে ‘আমাদের সময়ের সত্যিকারের সংগীত কিংবদন্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, নন্দ মালিনীর কালজয়ী সংগীত শ্রীলঙ্কার তরুণ ও প্রবীণ , সব প্রজন্মের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

Share

Read more

Local News