অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন পেশায় নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী তমা মির্জা। প্রায় তিন মাস ধরে দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি-ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) পদে কাজ করছেন তিনি। নতুন কর্মপরিবেশ ও দায়িত্ব বেশ উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
ব্যাংকে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তমা বলেন, “নতুন সহকর্মী, নতুন পরিবেশ। নতুন বন্ধুও পেয়েছি। সব মিলিয়ে দারুণ কাটছে।” ব্যাংকের নতুন দায়িত্বের কারণে অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে যাবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের গণমাধ্যমকে তমা জানান, অভিনয় তাঁর প্রথম ভালোবাসা এবং এই পেশা তিনি চালিয়ে যেতে চান। তাঁর ভাষায়, “অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা আর ভালো লাগার জায়গা। এখানেই আছি, থাকব, আমৃত্যু কাজ করব ইনশা আল্লাহ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও আমার অভিনয়ের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। তাই অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।”
অভিনয়ের বাইরে ব্যাংকের চাকরিকে নিজের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তমা। তিনি বলেন, “আমি খুব বেছে বেছে কাজ করি। বছরে একটা কিংবা দুটো সিনেমায় কাজ করি। জীবনের বাকি সময়টা অন্য কিছু এক্সপ্লোর করতে পারাটা দারুণ একটা সুযোগ। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আমার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।”
এদিকে ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি নতুন সিনেমাতেও যুক্ত হয়েছেন তমা। ভিকি জাহেদ পরিচালিত সিনেমাটির প্রাথমিক নাম ‘খলনায়ক’। চলতি মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় সিনেমাটির শুটিং শুরু হতে পারে বলে ছবিসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরে সিনেমাটির নাম পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে তমা বলেন, “‘দাগি’র পর এর চেয়ে সুন্দর গল্পে ফেরাটাই আমার জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। আমার চরিত্রটিও বেশ মনে ধরেছে।”
ছবিসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে ‘খলনায়ক’ মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে তমা কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় ‘দুই বন্ধু’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেন তমা। কলকাতায় টানা নয় দিন শুটিং হলেও এখনো সিরিজটি মুক্তি পায়নি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, সিরিজটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখন আর কিছু ভাবছেন না।
২০১৫ সালে ‘নদীজন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া তমা মির্জা পরবর্তী সময়ে ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘সাত নম্বর ফ্লোর’, ‘ফ্রাইডে’, ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগি’র মতো সিনেমায় ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন।








