প্রকাশ রাজের মুখে এবার শোনা গেল বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে পরিচিত সংলাপ ‘খেলা হবে’। কলকাতা ও বলিউড পেরিয়ে জনপ্রিয় এই বাক্য এবার পৌঁছেছে ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকের ব্যাঙ্গালুরুতেও। বিজেপির সমালোচক হিসেবে পরিচিত অভিনেতা প্রকাশ রাজ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই মন্তব্য করেছেন।
কর্নাটকের ব্যাঙ্গালুরুতে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেন প্রকাশ রাজ। তার দাবি, ব্যাঙ্গালুরু কেন্দ্রের প্রায় ৬৫ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বাদ পড়াদের তালিকায় নিজের নামও রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রকাশ রাজের বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কারও ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে, আবার একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার থাকার ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব যাচাইয়ের পর বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় প্রকাশ রাজ বলেন, এসআইআরের পর ব্যাঙ্গালুরু কেন্দ্রের যেসব ভোটারের ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন। বিষয়টিকে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরে নিজের দীর্ঘদিনের ব্যাঙ্গালুরু সংযোগের কথাও জানান এই অভিনেতা।
তিনি জানান, ব্যাঙ্গালুরুতেই তার জন্ম। এখানেই স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছেন। থিয়েটারও করেছেন এই শহরে। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যাঙ্গালুরু সেন্ট্রাল আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন তিনি।
এরপরই আসে সেই বহুল পরিচিত বাক্য ‘খেলা হবে’। প্রকাশ রাজ বলেন, ‘বেশ মজার খেলা। খেলা হবে, খেলা শুরু হোক।’
তার এই মন্তব্যের লক্ষ্য ছিল মূলত ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি জানান, নিজের ভোটার পরিচয়পত্র ফিরে পেতে কী ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেটিও তাকে খুঁজে দেখতে হবে।
এবারের বক্তব্যেও সেই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা। তার বক্তব্যের সারকথা, কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ভোটাধিকার থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হলেও মানুষের প্রতিবাদ থামানো যাবে না।
তবে প্রকাশ রাজকে ঘিরে ভোটার পরিচয়পত্রের আরেকটি বিতর্কও রয়েছে। একাধিক পরিচয়পত্র রাখার অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালুরুর একটি আদালত জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পরে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি।
অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, প্রকাশ রাজের নামে কর্নাটক, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু চার রাজ্যে ভোটার পরিচয়পত্র রয়েছে। ভারতের নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী একজন নাগরিকের একাধিক ভোটার পরিচয়পত্র থাকার সুযোগ নেই। প্রকাশ রাজ অবশ্য নিজের ভোটার পরিচয়পত্র নিয়ে নতুন করে প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথাই জানিয়েছেন।
তৃণমূলের প্রচারে জনপ্রিয় পায় ‘খেলা হবে’
২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনি প্রচারে ‘খেলা হবে’ বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। দলটির প্রচারে এই বাক্যকে কেন্দ্র করে গানও তৈরি হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে উঠে আসা সংলাপটি দ্রুতই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।
খেলা হবে’ ঢুকে পড়ে বলিউডেও
এরপর ‘খেলা হবে’ ঢুকে পড়ে বলিউডেও। করণ জোহর পরিচালিত ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ সিনেমাকে ঘিরে এই বাক্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির প্রচারণায় আলিয়া ভাটের মুখেও ‘খেলা হবে’ শোনা গিয়েছিল। সিনেমার ট্রেলারেও সংলাপটি ছিল বলে তখন আলোচনা তৈরি হয়।
পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র ছাড়পত্র সংস্থার পরামর্শে সিনেমায় বেশ কিছু পরিবর্তনের কথা প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ‘খেলা হবে’ সংক্রান্ত উল্লেখ বাদ দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
তবে এবার কোনো সিনেমার চরিত্র নয়, সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্যে ‘খেলা হবে’ ব্যবহার করলেন প্রকাশ রাজ। তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপটও রাজনৈতিক। ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোটাধিকার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তার সমালোচনার সঙ্গে মিলিয়ে বাক্যটির ব্যবহার নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে যাত্রা শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন, এরপর বলিউডের সিনেমা এবার সেই ‘খেলা হবে’ পৌঁছে গেল ব্যাঙ্গালুরুর এক অভিনেতার রাজনৈতিক বক্তব্যে।






