সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে ডন কারাগারে রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ডনের আইনজীবীরা বুধবার তার জামিনের জন্য আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
জামিন নিয়ে যা বললেন নীলা চৌধুরী
এদিকে, ডনের জামিনের বিরোধিতা করেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। যুক্তরাজ্য থেকে তিনি বলেন, হত্যা মামলার আসামি হিসেবে ডনের জামিন পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তার মতে, ডনকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হয়ে মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
নীলা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পর ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তার জামিন হলে বিষয়টি নিয়ে সালমান শাহর ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। তিনি চান, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাক।
সালমান শাহর মা আরও বলেন, ডনকে জামিন দেওয়া হলে তিনি বিষয়টিকে মামলার ক্ষেত্রে কোনো দুর্বলতা হিসেবে দেখবেন। একই সঙ্গে তিনি আইনের প্রতি নিজেদের আস্থার কথাও জানান।
গত ৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্তকারী সংস্থাটি তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। পরে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ডন ও সামিয়ার সেই অন্তরঙ্গ ছবির নেপথ্যে
সালমান শাহ হত্যা মামলা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কয়েক বছর আগে ডন ও সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাকে ঘিরে একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ছবিতে ডনের পাশে থাকা নারীকে সামিরা বলে দাবি করা হয়েছিল।
তবে পরে ছবিটির পরিচয় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে। সালমান শাহ ও সামিরার বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ দাবি করেন, ছবির নারী সামিরা নন; তিনি অভিনেত্রী সাবরিনা।
মোস্তাকের দাবি অনুযায়ী, ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালে ছবিটি তোলা হয়েছিল। ওই সিনেমায় সালমান শাহ ও শাবনাজ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। সাবরিনা ছিলেন পার্শ্বনায়িকা।
তার দাবি, শুটিংয়ের সময় সালমান শাহ মজা করে ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ওই ছবি তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছবিটি নিয়ে ডনের সঙ্গে সালমান শাহ মজা করতেন বলেও জানান মোস্তাক।
ডন ও সামিরাকে ঘিরে আলোচিত আরেকটি ছবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন মোস্তাক ওয়াইজ। তার দাবি, একবার সামিরা ম্যাগাজিন পড়ছিলেন। তখন সালমান শাহ ছবি তুলছিলেন। সে সময় ডন হাত বাড়িয়ে দিলে সামিরার সঙ্গে একটি ছবি তোলা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও কিছু ছবি সম্পাদিত বলেও দাবি করেন মোস্তাক। তার ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে ছবিগুলো ফটোশপের মাধ্যমে পরিবর্তন করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভাইরাল ছবি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন সামিরাও। তিনি দাবি করেছিলেন, তার একটি ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। না জেনে অনেকে তাকে ভুল বুঝছেন এবং অপবাদ দিচ্ছেন।
সামিরা আরও বলেছিলেন, ডন তার কাছে ছোট ভাইয়ের মতো ছিলেন। প্রতি ঈদে তিনি সামিরার পা ছুঁয়ে সালাম করতেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের কথাও জানিয়েছিলেন সামিরা।

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন সালমান শাহ। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শকের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। মাত্র কয়েক বছরের অভিনয়জীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন এই অভিনেতা।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু চলচ্চিত্র অঙ্গনে বড় শূন্যতা তৈরি করে। মৃত্যুর পর থেকেই তার ভক্ত ও পরিবারের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।






