অভিনেতা খায়রুল বাসার থাইল্যান্ডে নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে কোলান দ্বীপে পাহাড়ি এলাকায় শুটিং শেষে নিচে নামার সময় স্কুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান খায়রুল । স্কুটিটি চালাচ্ছিলেন চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি। দুর্ঘটনায় দুজনই আহত হয়েছেন। পরে শুটিং দলের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
শুটিংয়ের কয়েকটি দৃশ্যের জন্য কোলান দ্বীপের পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছিল টিম। পাহাড়ের ওপর দৃশ্য ধারণও ঠিকঠাক শেষ হয়। এরপর স্কুটিতে করে নিচে নামছিলেন খায়রুল ও মেহেদী রনি। তখনই হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায় স্কুটিটি। এক মুহূর্তেই দুজন পড়ে যান। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে শুরুতে তাঁরা কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। শুটিং দলের অন্য সদস্যরা কিছুটা দূরে ছিলেন। পরে তাঁরাই ছুটে এসে দুজনকে উদ্ধার করেন।

বুকে ও হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার
দুর্ঘটনায় বাসারের বুকে ও হাঁটুতে আঘাত লেগেছে। হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে তাঁর। দুর্ঘটনার পর তাঁকে ও মেহেদী রনিকে পাতায়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে অভিনেতা খায়রুল জানান, দুর্ঘটনার পর শুটিং চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই তিনি। তাই আপাতত শুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছে।
অভিনেতা বাসার বলেন, ‘আমরা নাটকের শুটিং করতে থাইল্যান্ড এসেছিলাম। কাজ ঠিকমতোই চলছিল। এর মধ্যে কোলান দ্বীপে একটি দৃশ্যের শুটিং ছিল। পাহাড়ের ওপর শুটিং শেষ করে নামার সময় হঠাৎ স্কুটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা পড়ে যাই।’

চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি বেশি আহত
দুর্ঘটনায় চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি তুলনামূলক বেশি আহত হয়েছেন। তাঁর শরীরের বেশ কিছু অংশ ছুলে গেছে। দুজনেরই এক্স-রে করানোর কথা রয়েছে।
খায়রুল বলেন, ‘মাত্রই হাসপাতালে এসেছি। এখন দুজনের এক্স-রে করাতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থাকতে হবে।’ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চান এই অভিনেতা।
দুর্ঘটনার পর কয়েক দিনের জন্য শুটিং বন্ধ
দুর্ঘটনার কারণে কয়েক দিনের জন্য শুটিং বন্ধ রাখতে হচ্ছে বাসারকে। তাঁর পরবর্তী শুটিংয়ের তারিখ থাকলেও শারীরিক অবস্থার কারণে এখন কাজে ফেরার সুযোগ নেই। অভিনেতার জানান, অন্তত দুই থেকে তিন দিন বিশ্রাম প্রয়োজন হতে পারে। এরপর শারীরিক অবস্থা বুঝে শুটিংয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঈদের পর অভিনয়ে বিরতি শেষে থাইল্যান্ডে শুটিংয়ে ফিরেছিলেন বাসার। একসঙ্গে কয়েকটি নাটকের শুটিং করতে দেশটিতে গেছেন তিনি। নাটকগুলোর নাম এখনো জানা যায়নি। তবে এসব নাটক পরিচালনা করছেন মীর আরমান হোসেন। বিভিন্ন নাটকে বাসারের সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন সাদনিমা বিনতে নোমানসহ আরও অনেকে।
থাইল্যান্ডের বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং চলছিল। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন খায়রুল ও মেহেদী রনি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তবে দুর্ঘটনার কারণে আপাতত থেমে গেছে নাটকের শুটিং। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দ্রুত কাজে ফিরতে চান বাসার। তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপরই এখন নির্ভর করছে পরবর্তী শুটিংয়ের সময়সূচি।






