শিল্পী সমিতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান শিবা শানু
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন শেষে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচন এ সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু। আর সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী। শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবেগঘন বক্তব্য দেন শিবা শানু। তিনি বলেন, “সবাই আমাকে ফুলের মালা পরিয়েছে। আমার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর যদি কেউ একটি ফুল দেয়, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার হবে। যারা জয় পায়নি, তাদেরও অভিনন্দন। যারা আমাকে জয়ী করেছে, আমার প্রতি তাদের পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চাপ।”
প্রতিদ্বন্দ্বী আরমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “যিনি কখনো নির্বাচনে হারেননি, সেই ফাইট ডিরেক্টর আরমান সাহেবের বিপক্ষে আমি জয় পেয়েছি। আমরা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।”
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোট দেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
শিল্পী সমিতির নির্বাচন এ ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা শানু পেয়েছেন ২৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট। ফলে আগামী দুই বছরের জন্য শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থাকবেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী।
নির্বাচন ঘিরে ছিল উৎসবের আমেজ
শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। একদিকে ছিল আরমান-মুক্তি পরিষদ, অন্যদিকে শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ। প্রচার-প্রচারণা, প্যানেল পরিচিতি এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ে সরব ছিল দুই পক্ষই।
শুক্রবার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোট শেষে সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ গণনা শেষে শনিবার ভোরে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটির কাছে শিল্পীদের প্রত্যাশা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপুর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে শিল্পী সমিতি। নতুন কমিটির কাছে শিল্পীদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।