Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬

শিল্পী সমিতির নির্বাচন: অনিয়মের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

শিল্পী সমিতির নির্বাচন: অনিয়মের অভিযোগে নতুন বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

‘শর্ত পূরণ না করায়’ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সদস্যদের

শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।  শিল্পী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় ৪০ জনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এসব সদস্যপদে স্বজনপ্রীতি ও নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সমিতির কয়েকজন সদস্য।

অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সদস্যদের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের অনেকেই সমিতির গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত ন্যূনতম পাঁচটি মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শর্ত পূরণ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, কারও দুটি বা তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, আবার কারও অভিনীত কোনো চলচ্চিত্রই এখনো মুক্তি পায়নি। তবুও তারা ভোটাধিকারসহ পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছেন।

শিল্পী সমিতির নির্বাচন: অনিয়মের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রে কী বলা আছে?

শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৫ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত অন্তত পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরাই পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কার্যকরী পরিষদ আবেদন অনুমোদন করলে তিনি পূর্ণ সদস্য হবেন এবং ভোটাধিকারসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। পাশাপাশি আবেদনকারীকে পেশাগতভাবে চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী হতে হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুললেন সদস্যরা

সমিতির সদস্য এবিএম সোহেল রশিদ জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পাঁচটি সিনেমায় কাজ না করলে পূর্ণ সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এবার প্রায় ৪০ জনকে নিয়ম ভেঙে সদস্য করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার ভাষ্য, বর্তমান কমিটির একটি প্যানেলের সহ-সভাপতি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে মেয়েসহ পরিচিত কয়েকজনকে সদস্যপদ পাইয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মেয়েটি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করলেও পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রার্থীদের একজনের স্ত্রীও পাঁচটি সিনেমার শর্ত পূরণ না করেই ভোটাধিকারসহ পূর্ণ সদস্য হয়েছেন।

রশিদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে প্রভাবশালী পক্ষের আধিপত্যের কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ জানানোরও বাস্তব সুযোগ নেই বলেই তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, সমিতির একজন সদস্য যিনি ভোটাধিকার পাননি অভিযোগ করেন অনেক নতুন সদস্যকে তারা চেনেনই না।  তার ভাষায়, পরিচিতি ও অর্থ থাকলেই সদস্য হওয়া যাচ্ছে, অথচ দীর্ঘদিনের সদস্য হয়েও অনেকেই ভোটাধিকার পাচ্ছেন না। নিয়মিত চাঁদা দিতে না পারা এবং চলচ্চিত্রে কাজ কম থাকার কারণ দেখিয়ে তাদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শিল্পী সমিতির নির্বাচন: অনিয়মের অভিযোগে নতুন বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

নতুন সদস্যদের নিয়ে প্রশ্ন

নতুন সদস্যদের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫৩৪ নম্বর সদস্য হয়েছেন মোহাম্মদ বাবুল, যিনি মুন্না খান নামে পরিচিত। তার মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা মাত্র দুটি ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’ ও ‘তছনছ’।

এদিকে প্রযোজক মিয়া মোহাম্মদ সেলিমও পূর্ণ সদস্য হয়েছেন। তিনি জানান, আগে চার থেকে পাঁচটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন এবং কয়েকটি সিনেমায় ছোট চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। ‘রাজু আমার ভাই’ ও ‘অস্ত্র ছাড়ো কলম ধরো’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অভিনীত সিনেমা মুক্তি না পেয়েও সদস্যপদ

পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস সানঞ্জানা। তবে তার অভিনীত কোনো চলচ্চিত্র এখনো মুক্তি পায়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে নতুন সদস্যদের তালিকায় থাকা চিত্রনায়িকা রোমানা নীড় জানান, তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসলে দোষ কী’, ‘উতলা মন’, ‘এদেশ তোমার আমার’ এবং ‘রাস্তার ছেলে’। এছাড়া ‘হিমুর বসন্ত’ ও ‘ভালোবাসি কত বুঝাব কেমনে’ সেন্সর ছাড়পত্র পেলেও এখনো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি।

তবে বাংলা মুভি ডাটাবেজে ‘রাস্তার ছেলে’ চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রোমানা নীড়ের নাম পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন সদস্যপদ প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্ন ও বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

+ posts
Share this article
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next
0
Share