শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের খোঁজ নিলেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার সংকটাপন্ন। নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। মুস্তাফা মনোয়ার সংকটাপন্ন হওয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেড়েছে উদ্বেগ। একই সঙ্গে মুস্তাফা মনোয়ারের পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
মুস্তাফা মনোয়ার বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার সকালে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
হাসপাতালে গিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শিল্পীর শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান। এ সময় তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

চিকিৎসা সহায়তায় আর্থিক অনুদান
শিল্পীর চিকিৎসা কার্যক্রম সহজ করতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী শিল্পীর পরিবারের হাতে অনুদানের একটি চেক তুলে দেন। সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদের প্রয়োজন ও সংকটের সময়ে পাশে থাকা সরকারের নীতির অংশ। সেই ধারাবাহিকতায় মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসার বিষয়েও সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
নিউমোনিয়ার সংক্রমণে শারীরিক অবনতি
গত সপ্তাহে শিল্পীর স্ত্রী মেরী মনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তার স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মুস্তাফা মনোয়ারের দ্রুত আরোগ্য কামনায় সবার দোয়া চেয়েছেন তার স্ত্রী।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরের শ্রীপুরে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম। তার বাবা কবি গোলাম মোস্তফার পৈত্রিক নিবাস ছিল ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। পাঁচ বছর বয়সে মুস্তাফা মনোয়ারের মা জমিলা খাতুন মারা যান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।

নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পড়াশোনা না করে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।
মুস্তাফা মনোয়ার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে। পরে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকও তিনি ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। সে সময় তার শারীরিক অবস্থা এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর তিনি সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন।