বাবা দিবসে ‘বাবার ডায়েরি’
বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের আবেগঘন গল্প নিয়ে বাবা দিবস উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক বাবার ডায়েরি । পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতামূলক এই নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা আজিজুল হাকিম। নাটকটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
নাটকের গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আনিস নামের এক বাবা, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম। জীবনের নানা সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশা এবং না বলা অনুভূতিগুলো তিনি ডায়েরির পাতায় লিখে রাখেন। পরিবারকে ঘিরেই তার পৃথিবী। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য নিজের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া এবং ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিতে কখনো দ্বিধা করেন না তিনি। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে সেই প্রিয় সন্তানের কাছ থেকেই তাকে পেতে হয় অবহেলা ও মানসিক কষ্ট।

গল্পে দেখা যায়, ছেলে আরমান নিজের ক্যারিয়ার, সংসার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে ধীরে ধীরে বাবার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাবা-ছেলের সম্পর্কেও তৈরি হয় দূরত্ব। বাবার প্রতি দায়িত্ববোধ ও যত্ন কমে যেতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে গভীর অভিমান নিয়ে আনিস একসময় বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অপ্রত্যাশিত ঘটনা
বাবার এই সিদ্ধান্তের পর আরমানের জীবনে ঘটতে থাকে একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তবে পরিস্থিতির প্রকৃত গভীরতা সে উপলব্ধি করতে পারে অনেক পরে। বাবার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া ডায়েরির পাতা খুলে আরমান আবিষ্কার করে এক নীরব আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেখানে লেখা ছিল সন্তানের জন্য একজন বাবার সীমাহীন ভালোবাসা, ত্যাগ, সংগ্রাম এবং না বলা অসংখ্য অনুভূতির কথা।
ত্যাগ আর অনুতাপের গল্প
ডায়েরির প্রতিটি পাতায় বাবার হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতি খুঁজে পায় আরমান। তখন সে বুঝতে পারে, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির প্রতি কতটা অবহেলা করেছে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাবার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কিংবা নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ আর তার হাতে থাকে না। এই উপলব্ধিই নাটকের আবেগঘন পরিণতিকে আরও গভীর করে তোলে।
নাটকটির নির্মাতা সম্রাট চৌধুরী জানান, বর্তমান সমাজে অনেক সন্তানই ব্যস্ততার কারণে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যায়। সেই বাস্তবতা থেকেই নাটকটির গল্প নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নাটকের মাধ্যমে মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

আজিজুল হাকিমের পাশাপাশি নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেনজুনায়েদ বোগদাদি ও মিষ্টি ঘোষ। তাদের অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
সিনেপ্লাস স্টুডিও
নাটকটি প্রকাশ করেছে ‘সিনেপ্লাস স্টুডিও’। প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এটি প্রথম নাট্য প্রযোজনা হিসেবে মুক্তি পেয়েছে। বাবা দিবসের আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় নাটকটি উন্মুক্ত করা হয়। মুক্তির মাত্র ১৩ ঘণ্টার মধ্যেই এটি উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলে এবং প্রায় আড়াই হাজার দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন।
পারিবারিক মূল্যবোধ, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং প্রজন্মগত দূরত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে এনে ‘বাবার ডায়েরি’ শুধু একটি নাটক নয়, বরং সমাজের জন্য একটি বার্তাবাহী নির্মাণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বাবা দিবস উপলক্ষে নির্মিত এই নাটক দর্শকদের মনে বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বের প্রশ্ন নতুন করে উসকে দিচ্ছে।


