রাজনৈতিক স্যাটায়ারধর্মী সিনেমা
রাজনৈতিক স্যাটায়ারধর্মী চলচ্চিত্র ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’ মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক উপস্থিতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স (বসুন্ধরা সিটি) এবং কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে বিভিন্ন শোতে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথম দিনের প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক, নির্বাহী প্রযোজক এবং কলাকুশলীরা। সেখানে উপস্থিত অনেক দর্শকই ছবিটির সাহসী রাজনৈতিক বক্তব্য, ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা এবং সমসাময়িক বাস্তবতাকে পর্দায় তুলে ধরার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। দর্শকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচিত বাস্তবতা হল সংস্কৃতি, গেস্টরুম, ক্ষমতার রাজনীতি, “বড় ভাই” সংস্কৃতি এবং তরুণদের স্বপ্নভঙ্গ হাস্যরস ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে দক্ষভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
একজন দর্শক বলেন, ছবিটি নিয়ে তেমন প্রচারণা না থাকলেও এটি দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তার মতে, রাজনৈতিক বাস্তবতাকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা সাহসী ও ভিন্নধর্মী। আরেক দর্শক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এত স্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য থাকা সত্ত্বেও ছবিটি কীভাবে সেন্সর ছাড়পত্র পেল, তা তার কাছে অবাক করার বিষয়।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক আকাশ হক এবং নির্বাহী প্রযোজক মোঃ হাফিজউদ্দিন মুন্না জানান, প্রেক্ষাগৃহ প্রদর্শন শেষ হলে দেশের প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে। ফিল্ম ক্লাবগুলোর সহযোগিতায় স্বল্প খরচে শিক্ষার্থীদের কাছে ছবিটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চলচ্চিত্র মূলত তরুণদের জীবন, তাদের সংগ্রাম এবং সময়ের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
এ প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। তাদের লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহজলভ্যভাবে ছবিটি পৌঁছে দেওয়া।
কানাডা প্রবাসী কবি ও নির্মাতা রোকসানা লেইস বলেন, সীমিত বাজেটে নির্মিত এই ছবিতে তরুণ নির্মাতাদের আন্তরিকতা ও দক্ষতা তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে তারা আরও সাহসী ও বাস্তবধর্মী কাজ করবেন।
চলচ্চিত্র সমালোচক ও সরকারি কর্মকর্তা শেখ হাফিজুর রহমান সজল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি ও সমাজ বাস্তবতা নিয়ে বাংলাদেশে খুব কম চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তার মতে, এই ছবিটি সেই ঘাটতি পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। চিত্রগ্রহণ, গল্প বলা এবং তরুণ অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্সকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
রনো আনোয়ারের ছোটগল্প ‘ঝরা পাতার দুঃখ বিলাস’ থেকে অনুপ্রাণিত এই চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছে। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (DIFF) -এর বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে FIPRESCI Award অর্জন করে এবং আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসবে হীরালাল সেন পদক ও সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার পায়।
দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাসসহ একঝাঁক তরুণ শিল্পী অভিনীত ছবিটির গান ‘সহমত ভাই’ ও ‘রাজনীতির ময়দান’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বর্তমানে চলচ্চিত্রটি রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স (বসুন্ধরা সিটি) এবং কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে নিয়মিত প্রদর্শিত হচ্ছে। মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া ছবিটিকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।