হিজাব ও ড্রাম – ধর্ম ও শিল্পের বিতর্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনার পাশাপাশি বিতর্কের মুখে পড়েছেন কিশোরী ড্রামার নাজিয়া সামান্তা । হিজাব পরে প্রকাশ্যে ড্রাম বাজানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ তার প্রতিভার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ পোশাক ও পরিবেশনার ধরন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। এ পরিস্থিতিতে সামান্তার বাবা প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
সম্প্রতি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজানোর সময় ধারণ করা সামান্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি লাখো মানুষের নজরে আসে। অনেকেই তার আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা এবং সংগীতচর্চার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে অল্প বয়সে ড্রাম বাজানোর পারদর্শিতা অনেককে মুগ্ধ করে।
তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, হিজাব পরে এ ধরনের মঞ্চ পরিবেশনা উপযুক্ত নয়। আবার অনেকে এটিকে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বিতর্ক বাড়তে থাকলে সামান্তার পরিবারও চাপে পড়ে। এ অবস্থায় সামান্তার বাবা একটি বক্তব্যে বলেন, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা ছিল না। মেয়ের সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ও প্রতিভা তুলে ধরতেই তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন,
আমাদের কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমরা সবসময় সবার বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সামান্তা শুধু তার সংগীতচর্চা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
প্রশংসা-সমালোচনায় সরব নেটদুনিয়া
সামান্তার বাবার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একটি শিশুর শিল্পচর্চাকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে না এনে তার প্রতিভাকে উৎসাহ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ বলছে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা থাকা প্রয়োজন।
সংগীত ও সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। তাদের অনেকে বলেছেন, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষের মধ্যেই রয়েছে। একজন শিল্পী কী পোশাক পরবেন বা কোন পরিচয়ে শিল্পচর্চা করবেন, সেটি অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তাই কাউকে আক্রমণ বা বিদ্বেষ ছড়ানোর পরিবর্তে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি।
এদিকে বিতর্কের মধ্যেও সামান্তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তারা মনে করছেন, সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ ও নিষ্ঠাই মূল আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত।


