বাপ্পারাজের জায়গায় নির্বাচনে এলেন আরমান
শিল্পী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে আগে যে আলোচনা ছিল, তাতে সভাপতি পদে বাপ্পারাজের প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই নতুন করে প্যানেল সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ফাইট ডিরেক্টর আরমান। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া রুমানা ইসলাম মুক্তির প্যানেল থেকে নির্বাচন করবেন। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) শিল্পী সমিতি সংলগ্ন বাগানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাপ্পারাজ সরে দাঁড়ানোয় কান্না করেন মুক্তি
সংবাদ সম্মেলনে রুমানা ইসলাম মুক্তি জানান, বাপ্পারাজ নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত জানালে তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন। তার ভাষায়, তিনি সাধারণত সহজে কান্না করেন না। কিন্তু বাপ্পারাজের সিদ্ধান্ত শুনে বাসায় ফিরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি মনে করেন, বাপ্পারাজের নেতৃত্ব পেলে প্যানেল আরও শক্তিশালী হতো।
সিনিয়রদের পরামর্শে আরমানকে সভাপতি
মুক্তি বলেন, এক বৈঠকে একজন সিনিয়র শিল্পী তাকে আরমানকে সভাপতি পদে আনার পরামর্শ দেন। তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। তার মতে, আরমান দীর্ঘদিন ধরে শিল্পী সমিতির সঙ্গে যুক্ত এবং শিল্পীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
আরমান জানান, শুরুতে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করতে রাজি ছিলেন না। তবে সিনিয়র শিল্পী, টেকনিশিয়ান এবং সহকর্মীদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলান। তিনি বলেন, সবাই তাকে বোঝান যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্ব প্রয়োজন। এরপর তিনি দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দেন।

পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে আরমান
দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত আরমান। তিনি ফাইটার হিসেবে কাজ শুরু করে পরে স্টান্টম্যান, ফাইট ডিরেক্টর, প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। তার দাবি, চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা রয়েছে। সেই ভালোবাসা থেকেই এবার সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মুক্তি বলেন, মায়ের স্বপ্ন, শিল্পীদের অনুরোধ এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাদের প্যানেল কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস করে।
নতুন নির্বাচনের অপেক্ষায় শিল্পীরা
গত ২৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০২৪-২৬ মেয়াদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ফলে শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে এখন চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা ও আগ্রহ দুটোই বাড়ছে।