বিএসএফ সদস্যদের সম্মানে গান
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যদের সম্মান জানাতে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে বিশেষ কনসার্টে অংশ নিতে যাচ্ছেন অস্কারজয়ী সুরকার ও সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। ‘জয় হো: সাহসী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শিরোনামের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জুন পাঞ্জাবের আতারি সীমান্তে।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বিটিং রিট্রিট প্যারেডের আবহেই আয়োজিত হবে এই অনুষ্ঠান। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়; বরং সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত বিএসএফ সদস্যদের সাহস, আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রতীকী উদ্যোগ।
বিশেষ এই আয়োজনটি যুক্ত হয়েছে নির্মাতা ইমতিয়াজ আলীর আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ম্যায় ভ্যাপস আউঙ্গা'(আমি আবার ফিরে আসব) -এর সঙ্গেও। সিনেমাটির মুক্তির আগে দেশপ্রেম, স্মৃতি, ইতিহাস এবং সংগীতকে একত্রে উদযাপনের লক্ষ্যেই এই কনসার্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে এ আর রহমানের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন পরিচালক ইমতিয়াজ আলী, অভিনেতা বেদাং রায়না এবং চলচ্চিত্রটির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সদস্যরা।
দেশভাগের আবেগঘন পটভূমিতে নির্মিত ম্যায় ভ্যাপস আউঙ্গা ‘চলচ্চিত্রটি প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষার গল্প তুলে ধরবে। ছবিতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ, বরেণ্য অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, বেদাং রায়না এবং অভিনেত্রী শারভারি। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান নিজেই।
চলচ্চিত্রটি আগামী ১২ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে আতারি সীমান্তে আয়োজিত এই ‘জয় হো’ কনসার্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আয়োজকদের আশা, সংগীতের শক্তির মাধ্যমে এই আয়োজন শুধু বিনোদনই দেবে না, বরং সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও পৌঁছে দেবে।
সব মিলিয়ে, ‘জয় হো’ কনসার্টটি হতে যাচ্ছে সংগীত, দেশপ্রেম এবং চলচ্চিত্রের এক অনন্য মিলনমেলা।
সংগীতজীবনের দীর্ঘ পথচলায় রহমান বহু আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করেছেন। তার সুর করা‘জয় হো’ গানটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে। সেই গানটির নামেই আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সীমান্ত এলাকায় এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক মুহূর্ত তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে এমন আয়োজন খুব একটা দেখা যায় না। ফলে রহমানের এই পরিবেশনা নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, সংগীতের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান সাহস, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে।