দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণ অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনে শোক প্রকাশ করেছেন দেশের তারকারা।
মেয়ে কারিনার মৃত্যুতে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁর বাবা কায়সার হামিদ। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’
কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবরে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। কিছু মানুষের অমানবিক আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, মানুষ হত্যাই নয়, মৃত্যুতেও উল্লাস করে কিছু লোক।”
কারিনার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানও কারিনার সঙ্গে মেসেঞ্জারের শেষ কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। তিনি জানান, মাত্র এক মাস আগেও কারিনা তাঁকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে তাঁর কাজের প্রশংসা করেছিলেন।
সাদিয়া লেখেন, “ভাবতেও পারিনি সেটাই আমাদের শেষ কথা হবে। তুমি সত্যিকারের একজন ভালো মানুষ ছিলে। আল্লাহ তোমাকে জান্নাত নসিব করুন।”
অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া কারিনার সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন। সেই স্মৃতি মনে করে তিনি লিখেছেন, “এটা খুবই দুঃখজনক! সে কত অসাধারণ এক প্রতিভা ছিল! বাংলাদেশ তোমাকে মিস করবে।”
অন্যদিকে অভিনেত্রী তমা মির্জা তাঁর পোস্টে ‘আহারে জীবন’ গানের লাইন উল্লেখ করে লিখেছেন, “আহারে জীবন, আহা জীবন জলে ভাসা পদ্মা যেমন।”
কারিনা কায়সার কতটুকু সুস্থ হলেন?

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিন আবসার বিদায়বার্তা জানিয়ে লিখেছেন, “মোমবাতিতে ভরা একটি ঘরে তুমি ছিলে ঝাড়বাতির মতো, কারিনা। আল্লাহ হাফেজ, আবার দেখা হবে।”
আমি মারা যাওয়ার পর এই ছবিটা দিয়েন
কারিনার মৃত্যুর পর একটি ছবি প্রকাশ করেন উপস্থাপক রুম্মান রশীদ খান। সাদাকালো ছবিটিতে কারিনার দৃষ্টি রাস্তায়। মুখে এক চিলতে হাসি। ছবিটি প্রকাশ করে ক্যাপশনে রুম্মান লেখেন, কারিনার এই ছবিটি তুলে যখন সাদা-কালো এফেক্ট দিয়ে হোয়াটসআপ করেছিলাম। কারিনা বলেছিলেন, ‘ওয়াও! কী জোস! আমাকে তো নায়িকা নায়িকা লাগছে। আমি মারা যাবার পর এই ছবিটা দিয়েন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে হলেও পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হেপাটাইটিস এ এবং ই-তে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আগে থেকেই তাঁর ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল। সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর লিভার ফেইলিউর হয়। প্রথমে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ অভিনেত্রী।
