৭৯তম কান উৎসব
১২ মে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের ৭৯তম কান উৎসবের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হচ্ছে- হলিউডের অনুপস্থিতি। হলিউডের বিখ্যাত সব স্টুডিও যেমন- ডিজনি, ওয়ার্নার ব্রোস, ইউনিভার্সাল, প্যারামাউন্ট কিংবা সনি, কেউই নেই এবারের উৎসবে। এই স্টুডিওগুলো এবারের কান উৎসবে সবরকম সিনেমার প্রিমিয়ার করা থেকে বিরত রয়েছে। কান উৎসবে হলিউড অনুপস্থিত যে কারণে প্রশ্ন উঠছে হলিউড কি কান উৎসবকে বয়কট করছে?
হলিউড কান উৎসবকে আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট করছে না। তবে এড়িয়ে চলছে বলা যেতে পারে। কেন হলিউড কান উৎসবকে এড়িয়ে চলছে তাঁর বেশ কিছু কারণ রয়েছে। চলুন জানি কি সেই কারণগুলি।

খরচ ও বিপণনকৌশল
কান উৎসবে হলিউডের এই অনুপস্থিতির কয়েকটি কারণ জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম হলিউড রিপোর্টার। তার মধ্যে অন্যতম কারণ খরচ ও বিপণনকৌশল। কান উৎসবে বড় কোনো হলিউড স্টুডিওর সিনেমার প্রিমিয়ার করতে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। প্রযোজকদের মতে, কান থেকে যে পরিমাণ প্রচার-প্রচারণা পাওয়া যায়, তার তুলনায় খরচ অনেক বেশি।
নেতিবাচক রিভিউ
কান উৎসবে হলিউড স্টুডিওগুলোর অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ নেতিবাচক রিভিউ পাওয়ার ভয়। কান উৎসবে সিনেমাগুলোর প্রিমিয়ার হয় বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর সমালোচকদের সামনে। ফলে, বিদ্যমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কোনো ছবির নেগেটিভ রিভিউ আসলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক, যা বক্স অফিসে বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় কিছু সিনেমা কানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর ব্যবসায়িকভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই স্টুডিওগুলো এখন অনেক বেশি সতর্ক।

একইসাথে হলিউড স্টুডিওগুলো সিনেমার ট্রেলার প্রকাশের সময়, প্রেস ইন্টারভিউ, ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাম্পেইন, সোশ্যাল মিডিয়া রিঅ্যাকশন, রিভিউ এমবার্গো এই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে চায়। যা কানে না আসার অন্যতম কারণ।
শিল্প বনাম বাণিজ্য
কান উৎসবে হলিউডের অনুপস্থিতি আরেকটি বড় কারণ, শিল্প বনাম বাণিজ্যের লড়াই। ইউরোপীয় এবং শৈল্পিক ধারার সিনেমার ওপর কানের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়ার কারণে হলিউডের বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমাগুলো অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন এ বছর কান কর্তৃপক্ষ আর্টহাউস ও ‘অটর’ সিনেমা ও নির্মাতাকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে, যেখানে বড় হলিউড ব্লকবাস্টারের জায়গা সংকীর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কারণে স্টুডিওগুলো কানের পরিবর্তে ভেনিস কিংবা টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালকে বেশি নিরাপদ মনে করছে।
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও থিয়েটারের দ্বন্দ্ব
কান উৎসবে হলিউডের অনুপস্থিতির অন্যতম আরেকটি কারণ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম আর থিয়েটারের দ্বন্দ্ব। কান ও ফরাসী সিনেমার নিয়ম অনুযায়ী, কানের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে যেসব সিনেমা অংশ নেয় সেসব সিনেমা আগে স্ত্রিমিং প্লাটফর্মে রিলিজের আগে ফরাসি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে হয়। এই নিয়মের কারণে বড় স্টুডিওগুলো এমনকি নেটফ্লিক্স, অ্যাপল টিভি প্লাসের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের বড় সিনেমাগুলো কানের মূল প্রতিযোগিতায় পাঠাতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।
ইনডিপেনডেন্ট হলিউড

তবে এবারের কান উৎসবে হলিউড যে একেবারেই নেই তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সিনেমা আছে এবারের প্রতিযোগিতায়। রামি মালেক অভিনীত ইরা স্যাকসের মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি ‘দ্য ম্যান আই লাভ’ এবং স্কারলেট জোহানসন, অ্যাডাম ড্রাইভার ও মাইলস টেলার অভিনীত জেমস গ্রের সিনেমা ‘পেপার টাইগার’। তবে এ দুটিই ইনডিপেনডেন্ট সিনেমা, কোনো স্টুডিওর সিনেমা নয়।
৪০ হাজার সংশ্লিষ্ট পেশাদার
সব মিলিয়ে কান উৎসবে এসেছে বড় পরিবর্তন। হলিউড না থাকলেও ইনডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকারদের জন্য আরও বড় পরিসর তৈরি হয়েছে। এ বছর ১৪০টি দেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট পেশাদার যেমন পরিচালক, প্রযোজক, পরিবেশক, ক্রেতা ও বিক্রেতা কানে নিবন্ধিত হয়েছেন।
কানের ইতিহাসে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশিসংখ্যক জাপানি সিনেমা অংশ নিয়েছে। কোরিয়ান সিনেমার হারও বেড়েছে। এ ছাড়া, আরব ও দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমাও শক্তিশালী অবস্থান জানান দিয়েছে এবারের আসরে।


