বন্যা মির্জা
অভিনয়শিল্পী বন্যা মির্জার বাবা মির্জা আবুল হাসনাত এনামুল বারী মারা গেছেন। আজ বুধবার সকালে নিজ বাসায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে বন্যা মির্জা।
বন্যা মির্জা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে থাকা তাঁর একমাত্র ভাইও দেশে ফিরছেন। দুই ভাই–বোন দেশে পৌঁছানোর পরই দাফন সম্পন্ন হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
বন্যা মির্জা জানান, গত ১২-১৫ দিন ধরে তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। কোনো নড়াচড়া করতে পারতেন না। মৃত্যুর আগের দিনও ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাইলে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। আজ সকালে ঢাকা থেকে তাঁকে জানানো হলো, বাবা আর বেঁচে নেই।
পেশাজীবনে মির্জা আবুল হাসনাত এনামুল বারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পর তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেন। খেলাধুলা ও দেশ–বিদেশের খবরের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। ফুটবল, ক্রিকেট থেকে শুরু করে রাগবি, টেনিস কিংবা গলফ-বিভিন্ন খেলা নিয়ে আলোচনা করতে ভালোবাসতেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বন্যা মির্জা ও তাঁর ভাই দেশে ফেরার পর ঢাকার রায়েরবাজার কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বন্যা মির্জার বাবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করছেন।
বন্যা মির্জার অভিনয় জীবন
বন্যা মির্জা দেশের ছোট পর্দার একসময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ‘রঙের মানুষ’,‘ভবের হাট’-এর মতো কালজয়ী ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের মনে পাকাপোক্ত স্থান করে নিয়েছিলেন। নাটকের পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু সিনেমাতেও কাজ করেছেন।

তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত সরকারি অনুদানের ছবি হেডমাস্টার (২০১৪), মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘শরৎ ৭১’, তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘রাবেয়া’, বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত ‘খ-চিত্র ৭১’ ও মাসুদ আখন্দ পরিচালিত ‘পিতা’ চলচ্চিত্র। এসব সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি তার অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন স্পষ্টভাবে।
ব্যক্তিগতজীবনে বন্যা মির্জা ২০১০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞানের অধ্যাপক মানস চৌধুরীকে বিয়ে করেছেন।


