ক্রিস্টোফার নোলানের চাচা জন নোলান
শনিবার মারা গেছেন ব্যাটম্যান-পার্সন অব ইন্টারেস্ট অভিনেতা জন নোলান । ব্রিটিশ মঞ্চ ও পর্দার এই অভিজ্ঞ অভিনেতা দুটি ব্যাটম্যান চলচ্চিত্রে এবং সিবিএস-এর জনপ্রিয় সিরিজ পার্সন অব ইন্টারেস্ট-এ অভিনয় করেছিলেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-এভন হেরাল্ড । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
লন্ডনে জন্ম নেওয়া নোলান দুই বছর রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেন। পরে ১৯৭০ সালে বিবিসি-র প্রশংসিত মিনি সিরিজ ড্যানিয়েল ডেরন্ডা-তে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য দলটি ছাড়েন। সিরিজটি ১৮৭৬ সালের জর্জ এলিয়টের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।

নোলান ব্যাটম্যান বিগিন্স (২০০৫) ও দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস (২০১২) ছবিতে ওয়েন এন্টারপ্রাইজেসের বোর্ড সদস্য ডগলাস ফ্রেডরিক্স চরিত্রে অভিনয় করেন। দুই ছবিতেই প্রধান চরিত্রে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ান বেল। এছাড়া তিনি ফলোয়িং (১৯৯৮) ও ডানকার্ক (২০১৭)-এও অভিনয় করেন। দুটি ছবিই তাঁর ভাতিজা ক্রিস্টোফার নোলানের রচনা ও পরিচালনা।
২০১৩ সালে তিনি ভাতিজা জোনাথন নোলানের তৈরি সিরিজ পার্সন অব ইন্টারেস্ট-এর দ্বিতীয় মৌসুমে যোগ দেন। সেখানে তিনি সাবেক এমআই৬ এজেন্ট এবং পরে ডেসিমা টেকনোলজিস ও সামারিটান এআই-এর প্রধান, রহস্যময় জন গ্রিয়ারের ভূমিকায় অভিনয় করেন। সিরিজটির পঞ্চম ও শেষ মৌসুম পর্যন্ত তিনি ২৮টি পর্বে কাজ করেন। উল্লেখ্য, দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস–এর সহ-চিত্রনাট্যকারও ছিলেন জোনাথন নোলান।
জন নোলানের জন্ম ও কর্মজীবন
জন ফ্রান্সিস নোলান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৮ সালের ২২ মে। তিনি ক্রিস্টোফার ও জোনাথনের প্রয়াত বাবা ব্রেন্ডান নোলানের ছোট ভাই। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আয়ারল্যান্ডের একটি “ফিট-আপ” ভ্রাম্যমাণ নাট্যদলে সফর করেন, পরে লন্ডনের ড্রামা সেন্টারে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। রিচমন্ড থিয়েটারে রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট-এ ফ্রানচেসকা অ্যানিসের জুলিয়েটের বিপরীতে রোমিও চরিত্রে অভিনয় করেন।
রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি রয়্যাল কোর্ট কোম্পানির সদস্য ছিলেন। সেখানে তিনি জুলিয়াস সিজার-এ ক্লিটাস চরিত্রে অভিনয় করেন এবং দ্য মেরি ওয়াইভস অব উইন্ডসর, ইন্ডিয়ানস ও দ্য রিল্যাপস-এ অংশ নেন—যেগুলোর পরিচালনায় ছিলেন ট্রেভর নান। পরবর্তীতে নানের ন্যাশনাল থিয়েটার এনসেম্বল কোম্পানির সঙ্গেও তিনি যুক্ত হন।

ড্যানিয়েল ডেরন্ডা-এর পর তিনি ১৯৭০–৭১ সালে বিবিসির পরিবেশভিত্তিক নাটক ডুমওয়াচ-এর প্রথম দুই মৌসুমে বিজ্ঞানী জিওফ হার্ডক্যাসল চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৩ সালে আইটিভির রোমান্টিক ডিপ্রেশন-যুগের মিনিসিরিজ শ্যাবি টাইগার-এ তিনি নিক ফন্ট চরিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৮০–৮১ সালে ব্রিস্টল নিউ ভিক কোম্পানির জন্য তিনি দস্তয়েভস্কি-ভিত্তিক একটি ত্রয়ী নাটক সহ-রচনা করেন এবং সেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি দ্য নাইট থোরো স্পেন্ট ইন জেল-এ থোরো এবং টেনেসি উইলিয়ামসের স্মল ক্রাফ্ট ওয়ার্নিংস-এ ডক চরিত্রে অভিনয় করেন।
আরো চলচ্চিত্র
তার অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে বিকোয়েস্ট টু দ্য নেশন (১৯৭৩), টেরর (১৯৭৮) এবং ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ ফুল অব ম্যারিড মেন (১৯৭৯)’। টেলিভিশনে তিনি দ্য প্রিজনার, দ্য সুইনি, জেনারেল হাসপাতাল, টার্গেট, রিটার্ন অব দ্য সেইন্ট, এনেমি অ্যাট দ্য ডোর এবং সাইলেন্ট উইটনেস-এর মতো সিরিজে অভিনয় করেন।
আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণে প্রচারিত দ্য ডিসকভারি চ্যানেল-এর ইন-ফ্লাইট বিনোদন অনুষ্ঠানে তাঁর কণ্ঠও শোনা যেত।
তাঁর ভাতিজাদের পাশাপাশি তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী অভিনেত্রী কিম হার্টম্যান (১৯৭৫ সালে বিবাহ), তাঁদের সন্তান মিরান্ডা ও টম, এবং নাতি-নাতনি ডিলান ও কারাকে।


