ট্রাম্পের সমালোচনায় মেরিল স্ট্রিপ
ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট নিয়ে হলিউড অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ ট্রাম্পকে কড়া সমালোচনা করলেন। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলছে তুমুল আলোচনা- সমালোচনা। এবার এই সমালোচনায় যোগ দিলেন হলিউড অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ। পহেলা এপ্রিল ‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’-অনুষ্ঠানে এ আইন নিয়ে মেরিল বলেন, আইনটি পাস হলে বিবাহিত নারীরা ভোট দিতে ভোগান্তির মুখে পড়বেন।

এই অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ দিকে সঞ্চালক স্টিফেন কোলবার্ট অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপকে জিজ্ঞেস করেন বিনোদনজগৎ, সিনেমা বা সামগ্রিকভাবে বিশ্বের কোনো বিষয় নিয়ে এমন কিছু বাকি আছে কিনা, যা নিয়ে তিনি কথা বলা হয়নি। এ প্রশ্নে অভিনেত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ। যদি সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস হয়, তাহলে যেসব বিবাহিত নারী তাঁদের নাম পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের সবাইকে গিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে প্রমাণ দিতে হবে-তাঁরা আসলে তাঁরাই।’
মেরিল স্ট্রিপ আরও বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি-নভেম্বরে ভোট দিতে গেলে যদি জন্মসনদের নাম আর ভোটার তালিকার নাম না মেলে, তাহলে আপনাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। সবারই তখন প্রমাণ দিতে হবে…।’

এই সমালোচনায় স্ট্রিপ সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম নেননি তবে তাঁকে উদ্দেশ্য করেই এই সমালোচনা। তিনি বলেন, ‘এটা ভীষণ ঝামেলার বিষয়। যেসব নারী বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের ভোটার তালিকার নাম ও জন্মসনদের নাম আলাদা। ফলে রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে পরিচয় প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় ভোটকেন্দ্র থেকে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে। আমি মনে করি, এই সময়ে নারীদের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত। তাঁদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।’
সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট কি?
সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট বাঁ সেভ আমেরিকা অ্যাক্টহলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত একটি ভোট সংক্রান্ত আইন, যা ভোটার রেজিস্ট্রেশনে ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ বাধ্যতামূলক করতে বলে। এর অন্য নাম ডকুমেন্টারি প্রুফ অব সিটিজেনশীপ। এই আইন অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে চাইলে নাগরিকদের অবশ্যই জন্মসনদ, পাসপোর্ট বা সরকারি স্বীকৃত অন্য কোনো দলিল দেখাতে হবে, যা বর্তমান ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট এর একটি সংস্করণ।

এই সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট আইন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাস হয়। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণে আগের বিদ্যমান ব্যবস্থার বদলে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। যাঁদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্মসনদ ও পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখাতে হবে। ফলে বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করা নারীদের জন্য এই প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রস্তাবটি হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এ পাস হয়েছে এবং এখন সিনেটে বিবেচনাধীন অবস্থায় আছে। এটি এগিয়ে নিতে ৬০ ভোট প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেতে সংশোধনপ্রক্রিয়া চলছে, পাশাপাশি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপও অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট নিয়েও আবার কঠোর অবস্থান নেন। তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যেখানে ‘যাচাইকৃত’ ভোটার ছাড়া অন্য কারও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করলেন মেরিল স্ট্রিপ
এই আইন ছাড়াও মেরিল স্ট্রিপ এর আগেও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি ট্রাম্পের বেশ ধারণ করে মঞ্চে ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা করেছিলেন। পরের বছর গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসে আজীবন সম্মাননা গ্রহণের সময় ট্রাম্পের একটি আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, এক নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প এক প্রতিবন্ধী সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করেন; যে দৃশ্য তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেসময় তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি দেশের সবচেয়ে সম্মানিত আসনে বসার দাবি করছেন, তিনি এমন একজনকে ব্যঙ্গ করছেন-যাঁর ক্ষমতা, প্রভাব ও প্রতিরোধের সামর্থ্য তাঁর চেয়ে অনেক কম। সেই দৃশ্য আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল।“
তবেআইনটি নির্বাচনী নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হলেও এটি যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার সীমিত করতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই।


