দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন চোখের সমস্যায়
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন। আগামী ৫ এপ্রিল রবিবার তিনি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। উন্নত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এটি জরুরি বলে জানিয়েছে সোহেল রানার পরিবার।

ভক্ত ও সহকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন
নিজের শারীরিক অবস্থা জানাতে সোহেল রানা সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “ইনশাআল্লাহ আগামী ৫ তারিখ রাতে অসুস্থতার চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছি।” পোস্টের পর অনেকেই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের নায়ক থেকে রূপালি পর্দায়
সোহেল রানার আসল নাম মাসুদ পারভেজ। ঢাকায় জন্ম হলেও তার পৈতৃক নিবাস বরিশালে। শিক্ষা জীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে ‘মাসুদ পারভেজ ফিল্মস’ গঠন করে প্রযোজনা শুরু করেন। তার ব্যানারে প্রযোজিত ‘ওরা ১১ জন’ ছিল বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা। যা পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। সিনেমাটি স্বাধীনতার ইতিহাসকে বড় পর্দায় তুলে ধরে প্রশংসিত হয়।

নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ
১৯৭৩ সালে নায়ক হিসেবে ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের সামনে আসেন। সিনেমায় তিনি ‘সোহেল রানা’ নাম ধারণ করেন। এটি পরে তার স্থায়ী পরিচয় হয়ে যায়। এরপর তিনি অভিনয় করেছেন ‘দস্যু বনহুর’, ‘গুনাহগার’, ‘মা’, ‘জীবন নৌকা’, ‘এপার ওপার’, ‘লড়াকু’ সহ আরও অনেক সিনেমায়।
প্রযোজক ও চলচ্চিত্র পরিচালনায় অবদান
মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা ঢাকাই বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে অসাধারণ সিনেমা দিয়েছেন। সিনেমার পোস্টারে শুধু মাসুদ পারভেজ বা সোহেল রানা নাম থাকলেই দর্শক সিনেমা হলে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। তার নিত্যনতুন মারামারি কৌশল এবং পর্দায় উপস্থিতি দর্শকদের আন্দোলিত করেছে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও অবদান তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। ২০১৯ সালে তিনি আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন।