রোজার পুরস্কার ….
রোজার পুরস্কার । ইসলামে রোজা (সিয়াম) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ করা হয়েছে। রোজা শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং এটি ধৈর্য, আত্মসংযম এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের একটি অনন্য প্রশিক্ষণ। কুরআন ও হাদিসে রোজার ফজিলত এবং এর জন্য আল্লাহ যে অসীম পুরস্কার রেখেছেন, সে সম্পর্কে বহু বর্ণনা রয়েছে।
নিচে হাদিসের আলোকে রোজার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার তুলে ধরা হলো।
১. রোজার পুরস্কার আল্লাহ নিজেই দেবেন
রোজার মর্যাদা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি কুদসি হাদিস বর্ণনা করেছেন। সেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন
“মানুষের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য; কিন্তু রোজা আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অন্য সব ইবাদতের পুরস্কার নির্দিষ্ট হলেও রোজার পুরস্কার আল্লাহ নিজেই বিশেষভাবে প্রদান করবেন। তাই রোজার সওয়াব কত বড়, তা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন।
২. রোজাদারের জন্য জান্নাতে বিশেষ দরজা
হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতে একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। এই দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন
“জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামে একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন সেই দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররা প্রবেশ করবে।”
(সহিহ বুখারি)
যারা নিয়মিত রোজা রাখবে, আল্লাহ তাদের জন্য এই সম্মানজনক দরজা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।
৩. রোজা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে
রোজা মানুষের জন্য ঢাল বা সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। এটি মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং আখিরাতে জাহান্নামের আগুন থেকেও রক্ষা করবে।
রাসুল (সা.) বলেছেন
“রোজা হলো ঢাল। তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া না করে।”
(সহিহ বুখারি)
অর্থাৎ রোজা শুধু শরীরের ইবাদত নয়, বরং মানুষের চরিত্রকে পবিত্র করার একটি মাধ্যম।
৪. রোজাদারের দোয়া কবুল হয়
হাদিসে উল্লেখ আছে, রোজাদারের দোয়া আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন। বিশেষ করে ইফতারের সময় করা দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন
“তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, রোজাদার যখন ইফতার করে, ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং মজলুমের দোয়া।”
(তিরমিজি)
এ কারণে রোজার সময় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৫. রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে সুগন্ধির চেয়েও প্রিয়
রাসুল (সা.) বলেছেন
“রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও বেশি প্রিয়।”
(সহিহ বুখারি)
এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে রোজাদারের ত্যাগ ও ধৈর্যের মূল্য কত বেশি।
রোজার প্রকৃত শিক্ষা
রোজার মূল উদ্দেশ্য শুধু না খেয়ে থাকা নয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন
“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”
(সুরা বাকারা: ১৮৩)
অর্থাৎ রোজার মাধ্যমে মানুষ আত্মসংযম শিখে এবং আল্লাহভীতি অর্জন করে।
উপসংহার
রোজা ইসলামের অন্যতম মহান ইবাদত, যার পুরস্কার অসীম। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দেবেন, রোজাদারদের জন্য জান্নাতে বিশেষ দরজা থাকবে, তাদের দোয়া কবুল হবে এবং রোজা তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে।
তাই রোজা শুধু ফরজ ইবাদত হিসেবেই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বড় সুযোগ। আমাদের উচিত আন্তরিকতার সঙ্গে রোজা পালন করা এবং এই মহান ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করা।

