বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিলো ৭৮তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬। এবারের বার্লিনেল ছিলো রাজনৈতিক বিতর্কে উত্তাল। বাদ-প্রতিবাদ, চিঠি, আলোচনা- সমালোচনা, যুদ্ধ, ন্যায়-অন্যায় সব প্রসঙ্গই উঠে এসেছে এবারের বার্লিনে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে আসরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। চলুন দেখে নেয়া যাক, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে কারা জিতলেন সেরার পুরস্কার।
‘ইয়েলো লেটার্স’
বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবকে বার্লিনেলও বলা হয়। এবারের বার্লিনেলে সেরা ছবির মুকুট গোল্ডেন বিয়ার জিতল ‘ইয়েলো লেটার্স’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জার্মান-তুর্কি নির্মাতা ইলকার চাতাক। জুরিবোর্ডের সভাপতি ভিম ভেন্ডার্সের হাত থেকে এই সিনেমার পুরস্কারটি নেন।

‘ইয়েলো লেটার্স’ সমসাময়িক তুরস্কে বসবাসকারী এক নাট্যকার ও তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রীর গল্প। প্রতিবাদী থিয়েটারের কারণে যারা রাষ্ট্রের রোষানলে পড়েন। এসব কারণে তাদের ব্যক্তিগত জীবন, পেশা ও সামাজিক অবস্থান-সবকিছুই ভেঙে পড়তে থাকে। ছবিটির বিশেষত্ব হলো, কাহিনি পুরোপুরি তুরস্কে আবর্তিত হলেও শুটিং হয়েছে জার্মানিতে; এমনকি জার্মান শহরগুলোকে টাইটেল কার্ডে তুরস্কের শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ফর্মাল কৌশলই ছবিটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
ভিম ভেন্ডার্স পুরস্কার দেওয়ার সময় বলেন, ছবিটি ‘সর্বাধিনায়কতন্ত্রের রাজনৈতিক ভাষা’র বিপরীতে দাঁড় করিয়েছে ‘সহমর্মিতার সিনেমার ভাষা’।
ইলকার চাতাকের জন্য এটি বড় সাফল্য। কারণ ৪২ বছর বয়সী এই নির্মাতার আগের ছবি ‘দ্য টিচার্স লাউঞ্জ’ অস্কার মনোনয়নও পেলেও পুরস্কার জেতেনি। দীর্ঘ ২২ বছর পর কোনো জার্মান-তুর্কি নির্মাতা বার্লিনে শীর্ষ পুরস্কার জিতলেন-সবশেষে ২০০৪ সালে এই সম্মান পেয়েছিলেন ফাতেহ আকিন।

‘স্যালভেশন’
সিনেমা ‘স্যালভেশন’ জিতেছে সিলভার বিয়ার গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ। পরিচালক এমিন এললারের ছবিতে তুরস্কের কুর্দি অঞ্চলের ২০০৯ সালের এক বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে গল্পের প্রেরণা নেয়া হয়েছে। তবে তিনি এটিকে বৃহত্তর জাতিগত সংঘাত ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গের রূপক হিসেবেও দেখেছেন। পুরস্কার গ্রহণের ভাষণে গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা একা নন’।
‘কুইন অ্যাট সি’
তৃতীয় সর্বোচ্চ জুরি পুরস্কার পেয়েছে মার্কিন নির্মাতা ল্যান্স হ্যামারের ‘কুইন অ্যাট সি’। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এক দম্পতিকে ঘিরে নির্মিত এই পারিবারিক নাটকটি সেরা পার্শ্বচরিত্রের সিলভার বিয়ারও জিতেছে-অভিনেতা টম কোর্টনি ও আনা কাডলার-মার্শাল।
এছাড়া, সেরা পরিচালকের পুরস্কার গেছে ‘এভরিবডি ডিগস বিল ইভানস’ ছবির ব্রিটিশ নির্মাতা গ্রান্ট গির হাতে। মার্কিন জ্যাজ পিয়ানোবাদক বিল ইভানসকে নিয়ে নির্মিত এই জীবনীচিত্রে অভিনয় করেছেন নরওয়েজিয়ান তারকা অ্যান্ডার্স ড্যানিয়েলসেন লাই। জেন্ডার-নিরপেক্ষ সেরা প্রধান অভিনয়ের সিলভার বেয়ার পেয়েছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার।
মার্কুস শ্লাইনৎসার পরিচালিত ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি ‘রোজ’-এ সপ্তদশ শতকের এক নারী, পুরুষ সেজে জীবন যাপন করেন। এই জটিল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি পুরস্কার জেতেন।
এবারের বার্লিন উৎসবজুড়ে শিল্প ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে জার্মান সরকারের অবস্থান এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অরুন্ধতী রায় থেকে শুরু করে অনেক হলিউড তারকা বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সমাপনী বক্তব্যে উৎসব পরিচালক ট্রিসিলা টাটল বলেন ‘সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ।’
মূল প্রতিযোগিতা
- গোল্ডেন বিয়ার: “ইয়েলো লেটারস,” ইলকার চাতাক
- সিলভার বিয়ার গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার: “স্যালভেশন,” এমিন আল্পার
- সিলভার বিয়ার জুরি পুরস্কার: “কুইন অ্যাট সি,” ল্যান্স হ্যামার
- সেরা পরিচালকের জন্য সিলভার বিয়ার: “এভরিবডি ডিগস বিল ইভান্স,” গ্র্যান্ট জি
- সেরা প্রধান অভিনয়ের জন্য সিলভার বিয়ার: “রোজ,” স্যান্ড্রা হালার
- সেরা পার্শ্ব অভিনয়ের জন্য সিলভার বিয়ার: “কুইন অ্যাট সি,” ল্যান্স হ্যামার
- সেরা চিত্রনাট্যের জন্য সিলভার বিয়ার: “নিনা রোজা,” জেনেভিভ ডুলুড-ডি সেলেস
- অসামান্য শৈল্পিক অবদানের জন্য সিলভার বিয়ার: “ইয়ো (লাভ ইজ আ রেবেলিয়াস বার্ড),” আনা ফিচ এবং ব্যাঙ্কার হোয়াইট
- সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য গোল্ডেন বিয়ার: “সামডে আ চাইল্ড,” মারি-রোজ ওস্তা
- সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য সিলভার বিয়ার: “আ ওম্যানস প্লেস ইজ এভরিহোয়ার,” ফ্যানি টেক্সি


